বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

খানার শেষে প্লেট ধুয়ে খাওয়া এবং হাত চেহারা, পায়ে মোছা কী সুন্নাত?

  • সময় বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

মাওঃ হাফেজ শরীফুল ইসলাম::
কেউ কেউ মনে করে যে,খাওয়ার পরে বরতন বা প্লেট ধোয়া পানি পান করা সুন্নাত।এধারণা সঠিক নয়। হাদিস ও সুন্নাহর কিতাবে এমন কোন সুন্নাতের কথা নেই।সুন্নাত হল খাওয়ার পর হাত, হাতের আঙ্গুল চেটে খাওয়া ও বরতন ভালোভাবে মুছে খাওয়া। রাসূল সা.এভাবে আঙ্গুল ও বরতন ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়ার আদেশ করেছেন।-সহীহ মুসলীম, হাদিস নং-২০২২সুতারং আঙ্গুল ও প্লেট ভালোভাবে পরিষ্কার করে খাওয়া সুন্নাত, ধুয়ে পানি পান করা সুন্নাত নয়।তবে সুন্নাত ও মুস্তাহাব মনে করে না করে কেউ যদি প্লেট ধুয়ে পানি পান করে তাহলে কোন অসুবিধা নেই। বরং মুবাহ।কিন্তু একে সুন্নাত বলা ঠিক নয়।
অনেকে আবার মনে করে খানার শেষে হাত মুখমন্ডলে বা পায়ে মোছা সুন্নাত।আসলে এটা সুন্নাত নয় বরং চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে হাত সাবান বা গরম পানি দ্বারা উত্তমভাবে পরিষ্কার করে রুমাল বা তোয়ালে জাতীয় কিছুতে মুছে নেওয়া উচিত।
হাদিসে এসেছে রাসুল সা.বলেছেন-তোমাদের মধ্যে কেউ যখন আহার করে,তখন সে যেন আঙ্গুল চেটে খাওয়ার আগে রুমালে হাত না মুছে। (মুসনাদে আহমদ,১/৩৪৬,হাদিস নং-৩২৩৪)
যাই হোক, খাওয়ার পর পায়ের তালুতে হাত মোছা বা বরতন ধুয়ে পানি পান করা না-জায়েয নয়।তবে একে সুন্নাত বলা ভুল।কোন কাজ বৈধ হওয়া আর সুন্নাত এক নয়।উল্লেখ্য যে কেউ কেউ বুখারী শরীফের হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসটি দ্বারা বলেন খানার শেষে হাত মুখমন্ডল,পা ইত্যাদিতে মোছা সুন্নাত।হাদীস হল সায়ীদ ইবনুল হারীছ রাহ. জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. কে জিজ্ঞাসা করলেন, আগুনে রান্না করা কোনো খাবার খাওয়ার পর ওযু করা কি জরুরি? জাবের রা উত্তরে বললেন না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এ ধরনের খাবার তো আমরা কমই পেতাম। যখন পাওয়া যেত, (হাত মোছার জন্য) আমাদের কাছে হাতের পাতা, বাহু ও পায়ের পাতা ছাড়া কোন রুমাল থাকতো না। (অর্থাৎ রুমালের পরিবর্তে আমরা এগুলোতেই আঙ্গুল মুছে নিতাম।) সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৪৫৭, কিতাবুল আতয়িমা, বাবুল মানাদিল।হাদীসের পূর্বাপর শব্দ থেকেই বুঝা যাচ্ছে যে, তারা এমনটি করতেন জরুরতের কারণে। এজন্য নয় যে, তারা রান্না করা খাবার খাওয়ার পর হাত না ধোয়াকে কিংবা রুমালে হাত না মোছাকে উত্তম মনে করতেন, অথবা হাতের পাতা, বাহু ও পায়ের পাতায় হাত মোছাকে সুন্নাত মনে করতেন। এ জন্য এই হাদীস থেকে আমাদের জানামতে কোন ফকীহ অথবা আলেম এরকম কোন হুকুম গ্রহণ করেননি। বরং উলামায়ে কেরাম তো একথাই বলেছেন যে, রান্না করা খাবার খাওয়ার পর হাত রুমাল ইত্যাদিতে মুছে নেওয়া উচিত। বরং প্রয়োজনে ধুয়ে নেওয়া উচিত। রুমাল ইত্যাদিতে হাত মোছার কথা তো সহীহ বুখারীর আলোচ্য হাদীস থেকেও বুঝা যায়। তাছাড়া এ ব্যাপারে স্পষ্ট হাদীসও আছে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০৩৩ [১৩৪] কিতাবুল আশরিবা, বাবু ইসতিহবাবি লা’কিল আসাবি’) এ হাদীসটি তো এ অর্থে একেবারেই সুস্পষ্ট।
কাযী ইয়ায ইবনে মূসা রাহ. সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই হাদীসের অধীনে লিখেছেন,
অর্থাৎ এই হাদীস থেকে খাওয়ার পর রুমাল দিয়ে হাত মোছা ‘মুবাহ’ এ কথা প্রমাণিত হয়। (অর্থাৎ আঙ্গুল চেটে খাওয়ার পর হাত শুধু মুছে নিলেও তা জায়েয হবে।) কিন্তু এটা ঐ সময় যখন ধোয়া ছাড়াই শুধু মুছে নিলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। অন্যথায় খাবার যদি এমন হয় যে, খাবারের দাগ, তৈলাক্ত ও আঠালোভাব এবং গন্ধ হাতে-মুখে লেগে থাকে যা ধোয়া ছাড়া পরিষ্কার হয় না তবে তো হাত ধুয়ে নেয়াই উচিত। এ কথাটি হাদীসে এরশাদ হয়েছে। (ইকমালুল মু’লিম, কাযী ইয়ায, ৬/৫০২)
এরপর কাযী ইয়ায নিম্নোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন,
অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হাতে চর্বি লেগে থাকা অবস্থায় সেটি না ধুয়ে ঘুমিয়ে গেল, পরে এর কারণে তার কোন ক্ষতি হল সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৮৫২ কিতাবুত ত’য়াম, বাবুন ফি গাসলিল ইয়াদ মিনাত ত’য়াম, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস,৭৫৬৯,সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস, ৫৫২১)
তো বুঝা গেল যে, সহীহ বুখারীর উল্লেখিত রেওয়ায়েতে জাবের রা. নিজের এবং নিজ সাথীদের যে আমলের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি একটি মুবাহ আমল। যা তারা করতেন পানির স্বল্পতার কারণে এবং রুমাল ইত্যাদি সাধারণভাবে সহজলভ্য না হওয়ার কারণে। এ জন্য নয় যে, তারা এটিকে সুন্নাত মনে করতেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: