শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩২ অপরাহ্ন

মুহাররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়

  • সময় রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

মাঃ হাফেজ শরীফুল ইসলাম ::
মুহাররামুল হারাম্য বলা হয়েছে আরবী বছরের বা হিজরী সালের প্রথম মাসকে। অর্থাৎ সন্মানিত মুহাররাম মাস। আল্লাহ যে চারটি মাসকে সন্মানিত করেছেন তার মধ্যে মুহাররাম মাস রয়েছে। আগের উম্মতের জন্য সবচেয়ে সন্মানি রোজা ছিল এই মাসের রোজা। একে আশুরার রোজা বলে। ফরজ রোজার পরে তাদের নিকট সবচেয়ে দামী ছিলো আশুরার রোজা। আর আমাদের জন্য ফরজ রোজার পরে নফল রোজার মধ্যে সবচেয়ে দামী হলো আরাফার রোজা (যিলহাজ্জ মাসের ৯ম তারিখ)। আশুরার রোজা রাখার কারনে পেছনের যিন্দেগীর এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। ইয়াহুদিরা বলে মুসা আ. এর যুগ থেকে আসলে তা না। আর মুসলমান নামধারী শি‘আ যারা সত্যিকার অর্থে কাফের তারা বলে বেড়ায় আশুরা সন্মানী ইমাম হুসাইন রা. এর সময় থেকে। এই শি‘আদের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের সমাজের সরলমনা ইলমবিহীন সাধারণ মুসলমান তাই বিশ্বাস করে বসে আছে। তাদের ধারনা এই দিনে ইমাম হুসাইন রা.শহীদ হয়েছে তাই এই দিনের এতো মর্তবা। অথচ আশুরার ফজিলত শুরু হয়েছে আদম আ. এর যুগ থেকে। আগেই বলা হয়েছে আগের উম্মতের জন্য এই দিনে রোজা রাখা নফলের দিক দিয়ে অনেক দামী। এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মাসের মর্তবার ব্যপারে ইমাম হুসাইন রা. এর শহীদ হওয়ার আগেই বলে গেছেন। সুতরাং যদি এভাবে বলা হয় যে এই দিনটি আগে থেকেই দামী আর আল্লাহ রব্বুল আলামীন, শহীদের সর্দার ইমাম হুসাইন রা. এর মর্জাদা আরো বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তাঁর শহীদের জন্য এই দিনকে পছন্দ করেছেন। এতে একদিকে যেমন সঠিক কথা বলা হলো এবং অপরদিকে ইমাম হুসাইন রা. সন্মানকে মানুষের নজরে আরো উচুঁ করে তুলে ধরা হলো। যেমনঃ আমাদের সকলেরই মৃত্যু আসবে। আল্লাহ যদি কোন মোমিনের মৃত্যু শুক্রবারে নির্ধারণ করে এর দ্বারা ঐ মোমিনের মর্তবা বাড়বে,শুক্রবারের না। ঠিক তেমনি যদি সোমবারে মৃত্যুবরণ করে তবে আরো দাম বাড়লো। শুক্রবার থেকে সোমবারে মৃত্যু মোমিনের জন্য বেশী বরকতময়। যাই হোক এই মাসে কিছু করণীয় ও বর্জনীয় আমল আছে তার বিষয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলো,
আশুরাঃ তাৎপর্য, ফযীলত, করণীয় ও বর্জনীয়
তাৎপর্য
আশুরা মুহাররম মাসের ১০ তারিখকে বলা হয়। ইসলাম ধর্মে এই দিবসটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এই দিনে ইসলামের অনেক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্য পূর্ণ ঘটনাবলী সংঘটিত হয়েছে।
যেমনঃ হযরত আবূ হুরাইরা রাযি.থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে যে, (একদা) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াহুদীদের কতিপয় এমন লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, যারা আশুরার দিনে রোযা রেখেছিল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন এটা কিসের রোযা? উত্তরে তারা বলল, এই দিনে আল্লাহ তা‘আলা হযরত মূসা আ. ও বনী ইসরাঈলকে ডুবে যাওয়া থেকে উদ্ধার করেছিলেন। (অন্য বর্ণনায় আছে ফিরআউনের নির্যাতন থেকে মুক্ত করেছিলেন।) এবং ফিরআউনকে দল-বল সহ নিমজ্জিত করেছিলেন। আর এই দিনেই হযরত নূহ আ. এর কিশতী জূদী পর্বতে স্থির হয়েছিল। ফলে এই দিনে হযরত নূহ আ. ও হযরত মূসা আ. কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোযা রেখেছিলেন। তাই আমরাও এই দিনে রোযা রাখি। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,মূসা আ.-এর অনুসরণের ব্যাপারে এবং এই দিনে রোযা রাখার ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে বেশী হক্বদার।অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেদিন (আশুরার দিন) রোযা রাখেন এবং সাহাবাদেরকেও রোযা রাখতে আদেশ করেন। (বুখারীঃ হাঃ নং ২০০৪, মুসলিমঃ হাঃ নং ১১৩০, মুসনাদে আহমাদ হাঃ নং-৩৬০)
ফযীলত
১. হযরত আবূ কাতাদাহ রাযি.থেকে বর্ণিত যে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি আশাবাদী যে, আশুরার দিনের রোযার উসীলায় আল্লাহ তা‘আলা অতীতের এক বৎসরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। (তিরমিযীঃ হাঃনং ৭৫১)
২. হযরত আবূ হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত অপর হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, রমাযানের রোযার পর মুহাররম মাসের রোযা সর্বোত্তম।(মুসলিমঃ হাঃ নং ১১৬৩)
করণীয়
১. আশুরার দিনে রোযা রাখা। তবে এর সাথে ৯ তারিখ বা ১১ তারিখ মিলিয়ে রাখা। কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,তোমরা আশুরার দিনে রোযা রাখ। তবে এ ক্ষেত্রে ইয়াহুদীদের থেকে ভিন্নতা অবলম্বন করতঃ তোমরা আশুরার পূর্বে অথবা পরের একদিন সহ রোযা রাখবে। (মুসনাদে আহমাদ-হাঃ নং ২৪১)
২. এই দিন বেশী বেশী তাওবা-ইস্তিগফার করা। কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মুহাররম হলো আল্লাহ তা‘আলার (নিকট একটি মর্যাদাবান) মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যাতে তিনি অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাপর সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন। (তিরমিযীঃ নং ৭৪১)
৩. দীনের খাতিরে এই দিনে হযরত হুসাইন রাযি. যে ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রদর্শন করেছেন তা থেকে সকল মুসলমানের দীনের জন্য যে কোন ধরনের ত্যাগ ও কুরবানী পেশ করার শিক্ষা গ্রহণ করা।
বর্জনীয়
১. তা’যিয়া বানানো অর্থাৎ, হযরত হুসাইন রাযি. এর নকল কবর বানানো। এটা বস্তুত এক ধরণের ফাসেকী শিরকী কাজ। কারণ মূর্খ লোকেরা হযরত হুসাইন রাযি. এতে সমাসীন হন এই বিশ্বাসে এর পাদদেশে নযর-নিয়ায পেশ করে এর সামনে হাত জোড় করে দাঁড়ায়,এর দিকে পিঠ প্রদর্শন করাকে বেয়াদবী মনে করে, তা’যিয়ার দর্শনকে যিয়ারত বলে আখ্যা দেয় এবং এতে নানা রকমের পতাকা ও ব্যানার টাঙ্গিয়ে মিছিল করে,যা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। এছাড়াও আরো বহুবিধ কুপ্রথা ও গর্হিত কাজের সমষ্টি হচ্ছে এ তা’যিয়া। (ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৫/২৯৪,৩৩৫, কিফায়াতুল মুফতীঃ ৯/৩২, ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়াঃ ২/৩৪৩)
স্মর্তব্য: তা’যিয়ার সামনে যে সমস্ত নযর-নিয়ায পেশ করা হয় তা গাইরুল্লাহর নামে উৎসর্গ করা হয় বিধায় তা খাওয়া হারাম। (সূরা মাইদাহঃ ৩)
২. মর্সিয়া বা শোকগাঁথা পাঠ করা, এর জন্য মজলিস করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা সবই নাজায়িয। (ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৫/২৯৪, কিফায়াতুল মুফতীঃ ৯/৩২, ৪২)
৩. হায় হুসেন,হায় আলী ইত্যাদি বলে বলে বিলাপ ও মাতম করা এবং ছুরি মেরে নিজের বুক ও পিঠ থেকে রক্ত বের করা। এগুলো করনেওয়ালা, দর্শক ও শ্রোতা উভয়ের প্রতি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিসম্পাত করছেন ।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: