মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

গলাচিপায় পরিত্যক্ত খালে বেকার যুবসমাজ ও শত কৃষকের নিজ অর্থায়নে মাছ চাষ

  • সময় বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০
  • ১৬০ বার পড়া হয়েছে

মু. জিল্লুর রহমান জুয়েল,পটুয়াখালী।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় আমখোলা ইউনিয়নে পানি উন্নায়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত খননকৃত খালে ব্লুগোল্ডের সদস্যদের মাধ্যমে স্থানীয় অর্ধশতক কৃষক, বর্তমান করোনাভাইরাসে চাকুরী হারমানা বেকার কর্মক্ষম জনসাধারণ এবং কলেজ পড়ুয়া অধিকাংশ ছাত্রলীগ এবং আমখোলা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে নিজেদের অর্থায়নে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষের উদ্যোগ্য গ্রহন করা হয়।

সরজমিনে গিয়ে ব্লুগোল্ড সদস্য ও কৃষকদের মাধ্যমে জানা যায়, আমখোলা ভাংঙ্গরা মৌজার ২৫ নং জে, এল এর ৫১ নং দাগের ২০১৯ /২০ অর্থ বছরে (এল,সি,এস) ২’শত ২০ মিটার ও ঠিকাদারের মাধ্যমে ৩ হাজার ৮০ মিটার মোট আট লক্ষ পঁচাশি হাজার টাকা ব্যায়ে মোট ৩৩’শত মিটারের, মুক্ত মুখ ৬২ ফুট ও ১০ ফুট গভীরতায় খালটি খনন করার হয়।

স্থানীয় কৃষক মোঃ আনেচ হাওলাদার, মোঃ শহিদূল হাওলাদার, শাহলম হাওলাদার, মোঃ জাহাঙ্গীর ঢালী, মোঃ রুবেল সিকদার, মোঃ ইদ্রিস হাওলাদার, মোঃ রিয়াজ হাওলাদার, মোঃ নিজাম বেপারী, মোঃ সেরাজ বেপারী সহ প্রায় অর্ধ শত কৃষকের সহযোগীতায় তারা নিজেদের কষ্টার্জিত টাকায় পরিত্যক্ত খালের কচুরী পন পরিষ্কার করে কৃষি আবাদী জমির পনি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করেই তারা স্থানীয় বেকার যুবসমাজ, ছাত্র, করোনাভাইরাসে চাকুরী হারা জনসাধারণ নিয়ে মাননীয় প্রাধানমন্ত্রী আহবানে তার এই উদ্যোগ গ্রহন করেন বলে প্রতিবেদককে জানান।

তারা আরো জানান আমাদের কৃষি, বেকারত্ব ও সমাজি উন্নয়নকে বিভিন্ন ভাবে বাধাঁগ্রস্ত গ্রস্ত করার জন্য একশ্রেনী মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে।
এছাড়া তারা সংবাদিক বৃন্দদের সঠিক তথ্য গোপন করে উন্নায়নকে থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তাই আমরা প্রান্তিক কৃষকগোষ্ঠী, বেকার যুবসমাজ ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা এ অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাত জানাই বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে আমখোলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসাম বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবে দেশের অর্থনৈতিক ভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত, চাকুরী হারিয়ে অনেকেই মানবতার দিন পার করছেন, বেকারত্ব বেরে গিয়ে জীবন চাকা থেমে অনেকেই এখন দিশেহারা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী বদ্ধ জলাশয়, মৃত বা পরিত্যক্ত খালে নিজেদের উদ্যোগে স্বাবলম্বী হতে বলেছেন, তার সেই সুপরামর্শ অনুযায়ী তারা নিজেদের জীবন চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করছেন। এতে কৃষিক্ষেত্রে কোন ক্ষতি হতে পারে তেমন কিছু দেখছিনা, সমাজিক উন্নায়নে আমি তাদের স্বাদুবাদ জানাচ্ছি।

গলাচিপা উপজেলার কৃষি অফিসার এ.আর এম সাঈফুল্লাহ জানান, পরিত্যক্ত খালে বেকার ও চাকুরী হারা যুবসমাজ, কৃষকগোষ্ঠী মৎস্য চাষের সমাজিক উন্নায়নকে স্বাদুবাদ জানাচ্ছি। তবে সমাজিক উন্নয়নে কৃষিকাজে বা জনসাধারণের ক্ষতি হয় এমন সমাজিক উন্নায়নে সরকার সমর্থন করেনা।

গ্রামীণ ও সমাজিক উন্নায়নের বিষয়ে উপসহকারী কমিশনার (ভূমী) মোঃ নজরুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, সমাজিক উন্নয়নে সরকার কখনো বাধাঁগ্রস্ত করবেনা। তবে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আশা করি সঠিক তথ্যটাই পাবো।

গ্রামীণ ও সমাজিক উন্নায়নের বিষয়ে উপসহকারী কমিশনার (ভূমী) মোঃ নজরুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, সমাজিক উন্নয়নে সরকার কখনো বাধাঁগ্রস্ত করবেনা। তবে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আশা করি সঠিক তথ্যটাই পাবো।

পটুয়াখালী জেলার পানি উন্নায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার মুঠোফোনে বলেন, দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত খালিতে ২০২০/২০ অর্থ বছরে সমাজিক উন্নায়নে কৃষি আবাদী জমীতে আমখোলা ব্লু- গোন্ড এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পানি উউন্নায়ন বোর্ড নিষ্কাশন ব্যাবস্থায় আট লক্ষ পচাঁশি হাজার টাকা ব্যায়ে খালটি খনন করা হয়েছে।

এবিষয়ে গালাচিপা উপজেলা কৃষি অফিসের ঘটনা স্থানের পরিদর্শন ও তদন্তকারী উপসহকারী কৃষি অফিসার নর উত্তম বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে আমন মৌসুমে কৃষিকাজে কোন বাধাঁ নেই। অন্যদিকে সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ আকরামুজ্জামান বলেন, কৃষি ক্ষাতে কোন সমস্যা না হলে আমাদের কোন আমাদের কোন অসুবিধা নেই।

এব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে ঘটনা স্থানে পরিদর্শন না করে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: