বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

মোহরানা কত লিখবো মেয়ের বাবা ?

  • সময় বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে

মাওঃ হাফেজ শরীফুল ইসলাম
কত আবার বর্তমান দেখছি আট দশ লাখ ছাড়া মোহরানা হয়না সেই হিসাবে আমার মেয়ে যতেষ্ট গুণবতী রুপবতী অতএব ৫ লাখ লেখেন ছেলের আর্থিক আবস্থা যেহেতু সংকট।
আজ বিয়ে করতে এসেছি সামনেই বসা ছিল মেয়ের বাবা।মোহরানার কথা শুনতেই উক্ত কথা বলেদিলো। কিছুক্ষণ পর কাজি সাহেব আমার বাবার নিকট এসে বললেন,
মেয়ের বাবা পাঁচ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করতে চায় আপনার কী মতামত?এটা কোন কথা ? দেনমোহরতো বেশি হয়ে যায় আমাদের জন্য। আপনি দুই লক্ষ টাকা লিখেন।
এমন সময় মেয়ে পক্ষের থেকে একজন উঠে বললেন,আমাদের মেয়ে কী এতো সস্তা নাকি যে এতো কম দেনমোহর হইবো,
তৎক্ষনাৎ আমার মামা উঠে বলেন,আমরা দুই লক্ষ টাকার বেশি দিতে পারবোনা।
এভাবেই দুপক্ষের মধ্যে চলছিল বাকযুদ্ধ। আমি নতুন জামাই হবার কারণে নিশ্চুপ শ্রোতার মতো তাদের যুদ্ধ পরিলক্ষন করছি। অবস্থা ক্রমেই বেগতিক হচ্ছিল মনে হচ্ছে একটু পর হাতাহাতি পর্যায়ে চলে যাবে। আমি আর চুপ থাকতে পারলাম না, বসা থেকে দাঁড়িয়ে বললাম,
থামুন সবাই বোকা লোক সকল,আমি কিছু কথা বলতে চাই।
নতুন জামাইয়ের এমন হুঙ্কার শুনে মুহূর্তেই পরিবেশটি থমথমে হয়ে গেল। সবার দৃষ্টি এখন আমার দিকে
প্রথমেই আমি কাজি সাহেবকে কিছু বলতে চাই। আপনি কী ইসলামে বিবাহের নিয়ম সম্পর্কে কিছু জানেন নাহ ? কাজি সাহেব আমার কথা শুনে কীরকম একটি লজ্জা পেলেন।রাসূলের হাদিস মতে, ছেলের যেরকম সামর্থ্য আছে দেনমোহর সেরকমই হওয়া উচিৎ। অথচ আপনি ছেলেকে এব্যপারে প্রশ্ন না করে প্রশ্ন করছেন মেয়ের বাবা আর ছেলের বাবা কাছে। বিয়ে কী তারা করবে নাকি আমি করবো?
আমার সাহসী বক্তব্যে সবাই অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। মেয়ে পক্ষ থেকে একজন বলে উঠলো,
তুমি কত দিতে চাও দেনমোহর ? আমি এক লক্ষ টাকা দিতে চাই। জানি এটা শুনে আপনাদের খারাপ লাগবে কিন্তু আমার কাছে নগদ এতো টাকাই জমানো আছে। আর আমি বাবার টাকা দিয়ে কোন দেনমোহর দিতে চাইনা। এক সাহাবী রাসূলের কাছে এসে বললেন আমি বিয়ে করতে চাই কিন্তু আমার কাছে কোন অর্থ নেই। তখন রাসূল বললেন তুমি এই মেয়েকে বিয়ে করো আর তাকে কুরআন শিক্ষা দাও এটাই তোমার দেনমোহর হিসেবে কাজ করবে। আর আমাদের অবস্থা দেখুন আমরা চিন্তা করি দেনমোহর যত বেশি চাপিয়ে দেওয়া যাবে তবেই সম্পর্ক দৃঢ় হবে। অথচ এটা সম্পূর্ণ একটি ভ্রান্ত ধারণা। সংসারের সুখ শান্তি দেনমোহরের উপর নির্ভর করেনা এটা একান্তই মনের ব্যপার। আর এই দেনমোহর পরিশোধ না করে যদি কোন পুরুষ মৃত্যুবরণ করে তবে সে তার স্ত্রীর সাথে যতবার সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে সবটাই ব্যভিচারের অন্তর্গত হবে। আর আমি এভাবে দেনমোহর ঝুলিয়ে রেখে বিয়ে করতে চাইনা। আমার কাছে যতটাকা আছে সেটা নগদ দিয়েই বিয়ে করতে চাই। এখন আপনারা যদি ইসলামের বিরুদ্ধে যেয়ে জোর করেন তবে আমি এই বিয়ে করবোনা।
এবার সবাই একটু নড়েচড়ে বসলেন। শ্বশুড় মশাই তাদের গুরুজনদের সাথে কানে কানে পরামর্শ করলেন এবং কিছুক্ষন পর বললেন,
ঠিক আছে পাত্রের কথাই মেনে নিলাম। দেনমোহর একলক্ষ টাকাই দেওয়া হলো।
এবার দুপক্ষের মধ্যে এক বন্ধুসুলভ আচরণ দেখতে পেলাম। কিছুক্ষন পর মামা বলে উঠলেন,পাত্রকে খুশি করার জন্য আপনাদেরওতো কিছু দেওয়া দরকার।
তন্মধ্যে মেয়ে পক্ষ থেকে একজন বলে উঠলেন ,দেনমোহর যেহেতু কম তাই আমরাও বেশি কিছু দিতে পারবোনা।
আমিতো আর অপরিচিতা গল্পের অনুপম না যে মামার কথামতো চলবো আর নিশ্চুপ শ্রোতার মতো বসে থাকবো,
আবারো সবার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম,মেয়ে পক্ষ থেকে আমার কিছু চাইনা। আর আপনারা যে এভাবে বলে বলে চাচ্ছেন কিংবা দিচ্ছেন এটাই হলো যৌতুক। মেয়ে পক্ষ থেকে যদি কিছু দিতে চান তবে সেটা একান্তই তাদের নিজেদের ইচ্ছেমতো। আমার কোন চাওয়া নেই। কিন্তু একটি সুতাও যদি আমাকে দেন তবে সেটা আমি গ্রহণ করবো না যদি বাহিরের মানুষ জানে বিষয়টি। কারণ আপনাদের মেয়েকে আমার মতো অচেনা একটি ছেলের নিকট ভরসা করে দিবেন এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কীইবা হতে পারে? আর বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যায় অনেক পুরুষই দেনমোহরের টাকা শোধ করেনি কিন্তু শ্বশুড় বাড়ি থেকে ঠিকই লক্ষ লক্ষ টাকা যৌতুক নিচ্ছে। এদের স্থান জাহান্নাম ব্যতীত আর কোথাও নয়। যৌতুক কোন মুসলিমদের প্রথা হতে পারেনা এটা সনাতনদের প্রথা। তাই যদি কিছু দিতে চান তবে সেটা একান্তই গোপনে কিন্তু আপনাদের কাছে আমার সেরকম কোন দাবি নেই। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
আমার এরকম জ্ঞানী মনোভাব এবং কথা বলার ভঙ্গি দেখে আমার হবু শ্বশুড় মশাই উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
আমি জানি বাবা তোমার মতো ছেলেই কেবল আমার মেয়েকে সুখি রাখতে পারবে।
এরকম ভালোবাসা দেখে সবার চোখই খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে গেল। আমার বাবার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিন চোখের জ্বল মুছছেন। কেননা তিনি আগে কখনোই জানতেন না যে তার ছোট্ট বালকটি আজ বিবাহের আসরে সকলের চোখ উন্মুক্ত করে দিবে। শ্বশুড় মশাই কাজিকে উদ্দেশ্য করে বললেন,বিবাহের কাজ শুরু করুন।
সবাই এখন বিবাহের কাজে মনোযোগ দিচ্ছে আর আমি ভাবছি।
যদি দেশে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী বিবাহ হতো তবে আজ কোন পুরুষ নির্যাতনের স্বীকার হতোনা, ঘরে ঘরে দম্পত্তির বিচ্ছেদের কথা শোনা যেত না, কোন সন্তান পিতা মাতা থেকে দুরে সরে যেতনা। কিন্তু এই যুগ কী কখনো আসবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: