বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

বহিষ্কৃত যুবলীগনেতা সম্রাটের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

  • সময় মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ডেস্ক :
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবলীগের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম তদন্ত চলাকালে সম্রাটের ডিওএইচএস ও কাকরাইলের দুটি ফ্লাট ক্রোকের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই দুটি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে গত বছরের ১২ নভেম্বর মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তকালে জানা যায়, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের স্ত্রী শারমিন চৌধুরী তার নামে থাকা মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকার ১ হাজার ৩১৭ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ও মোস্তফা জামানের নামে কাকরাইলে ৪ হাজার ২৫৯ বর্গফুটের স্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন।

গত বছর ১২ নভেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনা হয়। গত ১৭ নভেম্বরে এ মামলায় সম্রাটকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

উল্লেখ্য গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের শুরু থেকেই নজরদারিতে ছিলেন সম্রাট। এ সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তিনি দেশ ছাড়তে পারেননি। ঢাকায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনার অভিযোগে ওই সময় পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন তিনি।

ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ আরও অনেক অভিযোগও পাওয়া গেছে।

রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া র‌্যাবের অভিযানে আটক হন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর ধরা পড়েন আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দু’জনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এতে বেকায়দায় পড়েন সম্রাট।

কিন্তু সম্রাট ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিন দৃশ্যমান ছিলেন তিনি। ফোনও ধরতেন। কয়েক দিন কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়েও অবস্থান করেন সম্রাট। ভূঁইয়া ম্যানশনের অবস্থানকালে শতাধিক যুবক তাকে পাহারা দিয়ে রাখছিলেন। সেখান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে যান সম্রাট। পরে কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: