শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার পুলিশের মানবিকতা!

  • সময় মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ডেস্ক :
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর। কক্সবাজার সদর মডেল থানা সংলগ্ন রাস্তা। পাশে পড়ে আছে মানসিক ভারসাম্যহীন অচেতন এক প্রসূতি মা। পড়ে আছেন রক্তাক্ত অবস্থায়। পাশেই চিৎকার করে কাঁদছে সদ্য নবজাতক। কিন্তু অনেকই এই দৃশ্য দেখে থাকলেও এগিয়ে আসেনি কেউ।শেষ পর্যন্ত ডিউটি শেষে থানা ফেরার সময় দৃশ্যটি দেখতে পায় পুলিশের একটি দল। দ্রুত এগিয়ে এসে মা ও নবজাতককে নিয়ে যান সদর হাসপাতালে। চিকিৎসক জানিয়েছে, বর্তমানে মা ও সদ্য নবজাতক দুইজনই সুস্থ রয়েছে।

সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আনছারুল হক বলেন, ‘পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ টহল শেষে দুপুরের খাবারের আগে থানা ঢুকছিলাম। তখন একজন পথচারী বলল থানার উত্তর পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন নারী বাচ্চা প্রসব করেছে। তখন বিষয়টি ওসিকে জানিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই; দেখি সদ্য নবজাতক শিশু কান্না করছে আর মা অচেতন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অনেক লোক দেখছে; তবে কেউ এগিয়ে আসছে না। এরপর পার্শ্ববর্তী একটি দোকান থেকে পুরানো কাপড়-চোপড় ব্যবস্থা করি। তারপর দুইজন নারী নিয়ে এসে কাপড়-চোপড় পরিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই।’গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের দায়িত্বরত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকর্মী রিনা দে বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসূতি মাকে সব ময়লা কাপড় সরিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পর তাকে সেবা করা হচ্ছে। বিকেলে জ্ঞান ফেরার পর বাচ্চা কোথায় জিজ্ঞেস করেছিল; তখন বাচ্চা আমার কাছে বলে বলেছি। আর কিছুই বলছে না।’
গাইনি ও প্রসূতি বিভাগ কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিব রেজা বলেন, ‘২ টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে আসি। এরপর দেখতে কিছু পুলিশ সদস্য অজ্ঞান এক প্রসূতি মা ও সদ্য নবজাতককে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।

জানা যায়, মানষিক ভারসাম্যহীন প্রসূতি মা ও সদ্য নবজাতক শিশু রাস্তায় পড়েছিল; তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। তারপর দেখেছি প্রসূতি মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাই দ্রুত মেডিকেল অফিসার, গাইনি বিশেষজ্ঞ ও আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করি। এছাড়াও হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে সব ওষুধপত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রসূতি মা সুস্থ রয়েছে।’

এদিকে, মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসূতি মা হাসপাতালের দু’তলায় চিকিৎসা নিলেও পরে জানা যায়; তার সদ্য নবজাতক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে নবজাতক শিশু বিশেষ সেবা ইউনিটে। বর্তমানে শিশুটিও সুস্থ রয়েছেন বলে জানালেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

নবজাতক শিশু বিশেষ সেবা ইউনিটের শিশু বিশেষজ্ঞ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘নবজাতক শিশুটিকে বিশেষ ইউনিটে আনার পর অবস্থা কিছুটা খারাপ ছিল। পরবর্তীতে ঠাণ্ডা লেগে যায়। এরপর দ্রুত তার শরীরকে গরম করা হয় এবং শরীরের সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তারপর শিশুটিকে যখন দুধ খাওয়াতে যায় তখন দেখা যায় পেটে মায়ের গর্ভবস্থায় থাকা কিছু ময়লা পাওয়া যায়। পরে নল দিয়ে বাচ্চার পেট থেকে ওই ময়লা বের করে আনা হয়। এখন দুধও খাওয়ানো হচ্ছে। বর্তমানে বাচ্চাটি সুস্থ রয়েছে।’

অপরদিকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশের একটি টিম আসে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। দেখা যায়, তাদের হাতে রয়েছে কিছু কাপড়ের প্যাকেট। পরে কথা বলে জানায় মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসূতি মা ও সদ্য নবজাতকের জন্য নতুন কাপড় নিয়ে দেখতে এসেছেন বর্তমানে কেমন আছে। এসময় কথা হয় কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আনছারুল হক এর সাথে।এ সময় তিনি বলেন, ভারসাম্যহীন প্রসূতি মা তো কিছুই বলতে পারে না। তবে শহরের নুনিয়ারছড়ার কথা বলছে। তাই নুনিয়ারছড়ায় কিছু লোকজনকে সংবাদ দেয়া হয়েছে তার পরিচয় বের করার জন্য। তবে এখনো পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আর ভারসাম্যহীন প্রসূতি মা ও নবজাতক পুরোপুরি সুস্থ হলে পরবর্তীতে সবার সাথে আলাপ করে তাদের জন্য কি করা যায় সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: