মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

খুনিয়া পালং এ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সক্রিয়

  • সময় বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৭৬৪ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্ট
রামুর খুনিয়াপালংয়ে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। প্রধানমন্ত্রীর “জিরো টলারেন্স” নীতি এবং প্রশাসনের কড়া নজরদারী থাকা সত্বেও এসবকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কতিপয় চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী সদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে দেশ বিধ্বংসী ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য। তারা ইয়াবা ব্যবসাকে আড়াল করার জন্য পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসাও চালু রেখেছে। অনেক সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয় দিয়ে নতুবা আরও বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে এই ঘৃণ্য অপকর্মের সাথে লিপ্ত রয়েছে এসব ইয়াবা কারবারীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্ব গোয়ালিয়ার মৃত আশরাফ মিয়ার ছেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী কুখ্যাত মাফিয়া ডন মোস্তাক মেম্বার ক্রস-ফায়ার এড়াতে কিছুদিন আগে সুকৌশলে ইয়াবা সংশ্লিষ্ট ঢাকার একটা ওয়ারেন্ট মামলায় আতœসমর্পণ করে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তার প্রাসাদসম অট্টালিকা ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে তার সমস্ত আসবাবপত্র জব্দ করে। কিন্তু এরপরও থেমে নেই তার সিন্ডিকেটের অপরাপর সদস্যরা। মোস্তাক মেম্বারের অবর্তমানে তার “সেকেন্ড ইন কমান্ড” হিসেবে পরিচিত ধোয়া পালং ৬নং ওয়ার্ডের মৃত মোঃ হোসেনের ছেলে আব্দুল গফুর এখন সেই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সারা দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিস্তৃত বিরাট নেটওয়ার্কের হাল ধরেছে এই মাদক কমান্ডার গফুর।

সরেজমিন তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও বেশ কিছু তথ্য। তার অপরাপর ভাই দক্ষিণ খুনিয়া পালং এর মীর কাসেম প্রকাশ কালু, দিদারুল আলম সকলেই ইয়াবার কারবারের সাথে জড়িত। মূলত তাদের পুরো পরিবারটাই “ইয়াবা পরিবার” হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও তাদের নামে বিভিন্ন থানায় ইয়াবা, হত্যা,মানব পাচার, পুলিশের উপর হামলাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মাদক কমান্ডার আব্দুল গফুরের নামে রামু থানায় জি.আর ১৫০/১৫,জি.আর ১৫১/১৫, টাঙ্গাইলে মানব পাচার জি.আর.১৪৭/১৫ মামলাসহ আরও একাধিক মামলা রয়েছে। তাছাড়া সে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আতাত করে সরকারী জমি বিক্রি, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে বলে অভিযোগ আছে। তার ভাই মীর কাসেম বিগত ২০১৮ সালের ৬অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন চট্টগ্রামে ৭৭৫০ পিস ইয়াবা নিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ১৪০০ ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আসে। তার সহধর্মীনি সখিনা বেগমকেও সে ইয়াবা পাচারের কাজে ব্যবহার করে বলে জনশ্রæতি আছে। তার আরেক ভাই দিদারুল আলম প্রকাশ দিল্যা ডাকাত প্রায় ডজন মামলার আসামী কিছুদিন আগে গাড়িযোগে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় প্রচুর পরিমানে ইয়াবা সহ প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। এছাড়াও তাদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাদের সিন্ডিকেটের অপরাপর সদস্য যারা এখনও বহাল তবিয়তে ইয়াবা রাজ্যে সদর্পে বিচরণ করছে তাদের মধ্যে- আব্দুল আজিজ, পিতাঃনাজির আহমদ, ধেছুয়া পালং, ৫নং ওয়ার্ড, মোঃ ভূট্টো, পিতাঃআব্দুল গফুর, হামিদুল হক প্রকাশ হালাবা, পিতাঃমৃত আব্দুল জলিল, মিজানুর রহমান, পিতাঃনুরুল ইসলাম,মধ্যম খুনিয়া পালং, আবদু রকিম, পিতাঃমৃত মোস্তাক আহমদ, আব্দুল কাদের, পিতাঃনুর আহাম্মদ, ধোয়া পালং,ফয়েজ আহমদ, প্রকাশ বাদইল্যা,পিতাঃনাজির হোসেন ফকির অন্যতম। মিজানুর রহমানের নামে উখিয়া থানায় ইয়াবা সংক্রান্ত মামলা আছে বলে জানা গেছে। সে নিজে ইয়াবা সেবন এবং বিক্রি করে বলে সর্বজনবিদিত।তারা দেশের প্রচলিত আইন কানুনের তোয়াক্কা করেনা। তাদের দৌরাত্ম্যের কাছে স্থানীয় জনগন অসহায় এবং অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা-মামলার শিকার হতে হয়,তাই বাধ্য হয়েই সাধারন মানুষ অসহায়ের মত নিশ্চুপ থাকে। আজ তারা সবাই শংকিত, উদ্বিগ্ন। তাদের চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যুব সমাজ, বিপথগামী হচ্ছে তাদের অতি আদরের সন্তান।
চিহ্নিত ইয়াবাবাজ এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির এইসব সমাজের কীটগুলোকে কঠোর হস্তে দমন না করলে মাদক, সন্ত্রাস, এবং অপরাধ দমনের যে উদ্যোগ বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছে তা অনেকাংশেই বিঘিœত হবে বলে মনে করেন সমাজের সচেতন মহল।
তাই এই বিষয়ে সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় জনসাধারণ।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: