ছাত্রলীগের ইতিহাস ত্যাগের এস.এম তারেক হোসেন

ছাত্রলীগের ইতিহাস ত্যাগের এস.এম তারেক হোসেন

বরিশাল জেলা প্রতিনিধিঃ

আসছে শোকের মাস
শোকাবহ আগস্ট, সর্বপ্রথমেই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ইতিহাসের মহাননায়ক, বাঙালি জাতির জনক,জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীন বাংলার সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার জন্ম না হলে আমরা এই বাংলাদেশকে পেতাম না, মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারতাম না তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট। দেশের বাহিরে থাকায় সেদিন ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যায় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। এ হত্যাকাণ্ড ছিল বাঙালির ইতিহাসে জঘন্যতম কালো অধ্যায়। তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। এখনো বাংলাদেশে কিছু কুচক্রী মহল বাংলাদেশের উন্নয়ন’কে প্রশ্নবিদ্ধ করে বাংলাদেশকে জঙ্গি আস্তানায় পরিণত করতে চায়। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে প্রতিটি ইউনিটে ছাত্রলীগের সু-সংগঠিত কমিটির মাধ্যমে খন্দকার মোস্তাকের প্রেতাত্মাদের বুঝিয়ে দিতে হবে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা এখনও সচ্ছল এবং তাদেরকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৪৮ সালে ৪ঠা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গৌরব ঐতিহ্য সংগ্রাম ও সাফল্যের মধ্য দিয়ে এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে যতবার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঠিক ততোবারই গর্জে উঠেছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এমন একটি সংগঠন যে সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইতিহাসের মহানায়ক,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে।
সেই বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ দুই শ্রেণীর লোক করে থাকেন প্রথমত কেউ ভালোবাসা থেকে ইতিহাস জেনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে করেন, দ্বিতীয়ত কেউ সুবিধা ভোগ করার জন্য নিজের স্বার্থের জন্য দলে অনুপ্রবেশ করে ইতিহাসের সেরা সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট করে এবং তাদের অসৎ লক্ষ্য অর্জন করে ও ইতিহাসকে কলঙ্কিত করতে পারে তাদের স্বার্থের জন্য। ছাত্রলীগ যখন একাধিক ইতিবাচক কাজ করে তখন তাদের সুনাম প্রচার করার মত লোক আমাদের সমাজে খুব কমই আছে এবং কিছু অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগ যখন দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তখন সবাই ছাত্রলীগকে নিয়ে ছি ছি করেন। রাজনীতি যারা করে তাদের প্রথম রাজনৈতিক হাতে ঘড়ি হয় ছাত্রলীগের মাধ্যমে। তখন তারা তাদের সিনিয়র নেতাকর্মীদের থেকে রাজনৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করার আশায় থাকে ওই শিক্ষাটা এই তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবনের পথ পরিদর্শক। আমার ছাত্র রাজনীতিতে পদার্পণ মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি- জুবায়ের আহমেদ জুয়েল- ভাই এর মাধ্যমে। আমি সর্বদা তার কাছ থেকে বড় ভাইয়ের শাসন, স্নেহ ও ভালোবাসা পেয়েছি এবং আমার রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু, মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক -আলহাজ্ব তারিকুল হাসান খান মিঠু- ভাই তার কাছ থেকে আমি কখনও খারাপ শিক্ষা পাইনি তিনি আমাকে সবসময় মানুষের পাশে থাকতে শিখিয়েছেন এবং প্রতি হিংসা বিদ্বেষের রাজনীতি ত্যাগ করতে বলেছেন। তিনি মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগ’কে সর্বদা তার বুকে আগলে রেখেছেন ছাত্রলীগের দুঃসময় তিনি বট বৃক্ষের মত ছায়া দিয়ে এসেছেন। তার কাছে আমার উদারত্ব আহ্বান এবং ভ্রাতৃত্বের অধিকারের দাবি ছাত্রলীগ রাজনীতির একটা প্রথম প্ল্যাটফর্ম এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ভবিষ্যতে এর ব্যাপক পরিধি বিস্তার করে, ছাত্রনেতা থেকে যুবনেতা, যুবনেতা থেকে আওয়ামীলীগ নেতা। আপনি আপনার সুদক্ষ বিবেচনায় যারা সাংগঠনিক এবং দলের মিটিং মিছিলে দীর্ঘদিন যাবৎ শ্রম দিয়েছে তাদেরকে ভবিষ্যতে নেতৃত্বে আসার সুযোগ করে দিবেন, প্রিয় নেতা যারা অসাংগঠনিক এবং বিভিন্ন অপকর্ম করে এবং দলের মিটিং-মিছিল এর কথা শুনলে দূরে সরে থাকে কমিটির কথা শুনলে আপনাদের কাছে ঘোরাঘুরি করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সুপারিশ করে তাদেরকে রাজনৈতিক মাঠে কথা বলার সুযোগ করে দিলে ভবিষ্যতে রাজনীতিক অবস্থা বেহাল দশা করে ছেড়ে দিবে। তারা বসন্তের কোকিল, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। যে ছেলেটি মনেপ্রাণে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে আসে এমন অরাজনৈতিক ছেলেদের বিভিন্ন মাধ্যমে সুপারিশের কারণে ত্যাগিরা অঝোরে ঝরে যায়। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি তাদের স্বপ্ন হয়ে থেকে যায় গোপনে। বর্তমান রাজনীতিতে মিথ্যার কাছে সত্য হেরে যায় অনায়াসে। যারা মিথ্যা কথা বলে তারা খুব সুন্দর করে বলেন এবং যে সত্য কথা বলে সে ওই মিথ্যার আসল সত্য উদঘাটন করাতে অনেক সময় ব্যর্থ হয়ে যায় কারণ তার কথার গুরুত্ব তখন খুব কম দেওয়া হয়। মিথ্যা কথা বলা লোকগুলো সমাজে খুব জনপ্রিয় হয়। আমার স্বপ্ন ছাত্রলীগের খাতায় আমার নাম থাকবে সেই স্বপ্ন পূর্ণ হবে কিনা সৃষ্টিকর্তা জানেন। আমি ছাত্রলীগকে মনে প্রানে ভালবাসি এবং আমার পরিবার থেকে কখনো ছাত্র রাজনীতি করতে এসে বাধাগ্রস্ত হইনি সর্বদা তারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, আমার বাবা একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনি চাকরি করেন বিদায় আমি এখনো ছাত্র রাজনীতি করতে পারি কারণ তানা হলে আমার কোন রাজনীতি করার সামর্থ্য থাকতো না আরো অনেকের মতো হয়তো আগেই ঝরে যেতাম। পরিশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে এবং আমার প্রাণ প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
লেখক- এস এম তারেক হোসেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, মুলাদী উপজেলা শাখা।
মুলাদী -বরিশাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: