শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন

উখি’য়া র উঁকি তে ঝুঁকি তাতেই মাদকের মুক্তি

  • সময় মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ২৪০ বার পড়া হয়েছে

রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি আরাকান ছিল স্বাধীন রাজ্য। ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোডপায়া এটি দখল করে বার্মার অধীন করদ রাজ্যে পরিণত করেন।

ধারণা করা হয় রোহিঙ্গা নামটি এসেছে আরাকানের রাজধানীর নাম ম্রোহং থেকে: ম্রোহং>রোয়াং>রোয়াইঙ্গিয়া>রোহিঙ্গা। তবে মধ্য যুগের বাংলা সাহিত্যে আরাকানকে ডাকা হতো রোসাং নামে।মহাকবি আলাওলও রোসাং দরবারের রাজ কবি ছিলেন।

১৪০৬ সালে আরাকান জয়ের পর নরমিখলা মোহাম্মদ সোলায়মান শাহ্ নাম নিয়ে আরাকানের সিংহাসনে বসেন।এই ম্রাউক-উ রাজবংশ ১০০ বছর আরাকান শাসন করেছে।

ভাই আওরঙ্গজেবের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পরাজিত হয়ে মোগল যুবরাজ শাহ্ সুজা ১৬৬০ সালে সড়ক পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হয়ে আরাকানে রাজত্ব করেন। তৎকালীন রোসাং রাজা চন্দ্র সুধর্মা বিশ্বাসঘাতকতা করে শাহ্ সুজা এবং তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।এর পর আরাকানে যে দীর্ঘমেয়াদী অরাজকতা সৃষ্টি হয় তার অবসান ঘটে বার্মার হাতে আরাকানের স্বাধীনতা হরণের মধ্য দিয়ে।

ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, মিল,সম্পর্ক সব শেষ হয়ে যায় রাজত্বে র কাছে।500/700 বছরে রাজার রাজা দখল পাল্টা দখল হলেও তখন ছিল সাম্রাজ্যের দর পতন।কিন্ত এ কেমন আধুনিকতার নমস্কার। সামান্য সীমান্তের পাশের দেশে পাচার করতে হবে মাদকদ্রব্য ইয়াবা।

তাই রোসাং রাজাদের ইয়াবা আজ মারনাস্ত্র, বড় হাতিয়ার।এখন দরকার তা প্রতিকার
এই আরাকানে যেতে পার হতে হত “উরিয়ার” ঘাট যা বর্তমান উখিয়া। কারো কারো মতে সেখানে ঘাটের টোল উঠাত “উখি” নামক ব্যক্তি ।ত্রিপুরা রাজাদের যাতায়াত ছিল এ ঘাট দিয়ে।400/500 বছর আগে থেকে বাংলা থেকে আরাকান যাতায়াত হত।বিভিন্ন দ্রব্যের আদান প্রদান হত।আকিয়াব বন্দর, টেকনাফ বন্দর দিয়ে আশা যাওয়া যাতায়াত।

তখন থেকেই আরাকান থেকে ব্যাগ আসত মানুষের হাতে। আকিয়াব, রেঙ্গুন থেকে অনেক বর্মীজ বন্ধুদের মাধ্যমে পাঠাত নানা জিনিস।

আরাকান আর রাখাইন মানে রাক্ষসের দেশ বা রাখাইনথা বা রাখাইনপ্রে অর্থ যা তাদের জাতি সত্তা ধরে রাখে। সেই সত্তা ধরে রাখতেই রাখ ঢাক করে বার বার আসে যায় যাযাবর বেদুইন এর মত।সংগে মায়ানমার হতে নিয়ে আসে ইয়াবা।যা মায়ানমার উৎপাদন করে।যা তারা ব্যবহার করে না।

আর আরাকান এর ভাইয়েরা এদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বার্মা রাজা তাড়িয়েদিয়েছেন বলে।বার্মার সেনাবাহিনীর অত্যাচারে চলে আসল এদেশে। কিন্ত নিয়ে আসলেন তাদের তত্তাবধানে তৈরী মরন নেশা ইয়াবা। সাথে ইয়াকিনের সন্ত্রাসীদের। তারা কতটা কৃতজ্ঞ। বার্মা থেকে নির্যাতিত হয়ে বাঁকিতে ইয়াবা এনে বিক্রি করে বাংলাদেশী টাকা নিয়ে যায় বার্মা।এই রকম চক্রের যাতায়াতে কোন বাঁধা পড়ে না।এরা মাদক পাচার চক্র।

আমার দেশের কিছু ছাগল এই চক্রের নেতা। রোহিঙ্গাদের সাথে পাচার ব্যবসা করছে ।আর ঐ ইয়াবা পাচার করে সাধু বনে গেছেন। উরিয়ার ঘাট দিয়ে আজ পাচার হচ্ছে ইয়াবা। আর অতীতে টোল তোলা উখি মিয়ার বদলে তৈরী হচ্ছে শত শত ইয়াবা জিম্মাদার। একদল বিপথগামী রোহিঙ্গাদের সাথে অতি লোভী দেশের কিছু বাটপার যোগসাজস করে ইয়াবা পাচার করছে সবুজ শ্যামল এদেশে।আরাকানের রোহিঙ্গাদের সাথে আত্মীয়তা করে অনেকেই লাখপতি। কিন্ত এ চক্রের ইয়াবা র চালানের একমাত্র পথ উখিয়া টেকনাফ ।সাথে সাথে দেশের ভিতরও পাচার হচ্ছে।

যারা রাতে ঘুমানোর জন্য আশ্রয় পেল। তাদের ই কেউ কেউ তাদের কে যারা ধর্ষণ করল ,হত্যা করল তাদের তৈরী করা ইয়াবা এদেশে পাচার করে ব্যবসা করছে।

আর আমার দেশের কিছু নাদান তাদের ঐ চক্রের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে ইয়াবা পাচারের মেলা চালাচ্ছেন। তাদের পরিনীতি” €” না তো কি হবে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর থেকে কঠোর অবস্থানে । এ ছাড়া উখিয়া টেকনাফ এলাকার দেশপ্রেমিক নাগরিকদের রক্ষার কোন উপায় নেই।

এ এলাকার অনেক মানুষ ই ইয়াবা ব্যবসা করে,করত,।এবং এই চক্র এক সময় এটাকে ঐতিহ্য মনে করত।যুবকদের মধ্য নেশার প্রবনতা এতই বেশী যে অনেক পরিবারের সন্তান এস এস সি পাশের পরই অন্য এলাকায় পাঠাতে হত।

আর নৈতিকতার অবক্ষয় এ পর্যায়ে যে দেশের ইয়াবা চক্র রোহিঙ্গা নারীদের বিবাহ করে অবৈধ ব্যবসাকে যেমন শক্ত করার অপচেষ্টা করছে

তেমনি এরা নাগরিক বসবাস কে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। আগে দেশের থ্যালদ্দার ধরতে হবে তার পর অন্যদের। দেশের এ সকল নষ্ট, ভন্ড, পাপী দের অনেককেই সনাক্ত করা হয়েছে ।এবং তাদের অলরেডি সানডে মানডে গুটিয়ে গেছে।আর এমন জানাজা দেখে রোসাং দের সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ লাপাত্তা।

সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এক যোগে কাজ করছে।কক্সবাজার এর মানুষের এগিয়ে আশার মোক্ষম সময় এটাই। উরিয়ার বসতি দের উকিঁ দিয়ে “উখি ” উখিয়ার গেটে, টেকনাফ এর বন্দরে দাঁড়াতে হবে ইয়াবা ঠেকানোর অভিযানে।

মায়ানমার তৈরী ইয়াবা তার তরফদার দের দিয়ে বহন করে আমাদের জাতীকে ধ্বসের পরোক্ষ চক্রান্ত থেকে রক্ষা করার যুদ্ধ বহুদিন করতে হবে।

আরাকান আর রাখাইন এর সাথে ঐতিহাসিক সংযোগ আর সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার বন্ধ করতে সবার ই এগিয়ে আশা দরকার।রোহিঙ্গাদের যারা জড়িত আর এই জড়িত দের সাথে আমাদের যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেই মুলত প্রথম যুদ্ধ টা করা উচিত। আর সে উঁকি তে উখিয়ার মানুষ কে সর্বাগ্রে ঝুঁকি নিতে হবে।কারন উখিয়াতেই রোহিঙ্গা থাকে বেশী।
আর ইতোমধ্যেই উখিয়ার মানুষ এমন যাত্রার সাথী হয়ে প্রমাণ করেছেন। এখন সময় শুধুই ধারাবাহিকতা রক্ষার ।

ইমাউল হক

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: