শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১৩ অপরাহ্ন

কক্সবাজারে হুন্ডি সেন্ডিকেট প্রধান কক্সবাজারের সাইফুল উখিয়ার একরাম ও টেকনাফের মিনহাজঃ অভিযান জরুরী

  • সময় সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০
  • ৩৫৪ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ক্রাইম প্রতিবেদকঃ

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পুরোটাই বৈধ পথে দেশে আসছে না, এ কথা সবারই জানা। বড় অংশই হুন্ডিতে আসে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তবে জরিপের প্রতিবেদন তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ শতাংশ আসছে হুন্ডির মাধ্যমে।২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে বর্ধিত ব্যয় লাঘব এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হবে এবং হুন্ডি প্রবণতা কমে আসবে। এজন্য বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সার্কুলারও জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও নিয়মনীতিকে তোয়াক্ষা না করে জমজমাট চলছে হুন্ডি ব্যবসা।

ঈদ কে সামনে রেখে উখিয়ার হুন্ডি বাজার জমজমাট। উখিয়া উপজেলায় তালিকাভূক্ত হুন্ডি ব্যবসায়ীরা বিকাশ এজেন্টে এবং বিভিন্ন মহিহারি দোকানের মহাজনের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে আসা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা বিতরণের নিরাপদ চ্যানেল হচ্ছে বিকাশ এজেন্ট ও বিভিন্ন দোকানের মহাজনেরা। উপজেলার সর্বত্র প্রায় অর্ধ শতাধিক হুন্ডি চক্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে এক শ্রেনীর দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলে অবৈধভাবে হুন্ডির টাকা লেনদেন করছে বলে অভিযোগ। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সুৃত্র জানায়, উখিয়ায় ৩০ জনের অধিক চিন্থিত হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছে । তালিকাভূক্ত এসব হুন্ডি ব্যবসায়ী বর্তমানে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। রাতারাতি অবৈধ টাকা আয় করে বহুতল ভবন ও উখিয়া,কোটবাজার, মরিচ্যা সহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভিআইপি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। শুধু তাই নয় জেলার সবচেয়ে বেশি হুন্ডির মাধ্যমে আসা অবৈধ টাকা লেনদেন হয় উখিয়াতে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এবং কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকাকে টার্গেট করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা লাখ লাখ টাকা প্রতিদিন চালানীর মাধ্যেমে বিতরন করা হচ্ছে বলে জানান সচেতন মহল।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইল পাড়া এলাকার মৌলভী ছানাউল্লার পুত্র একরামের নেতৃত্বে প্রতিদিন কোটি কোটি হুন্ডির টাকা বিতরণ হয়।   স্থানীয়রা ছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক প্রতিনিয়ত কোটি কোটি হুন্ডির টাকা লেনদেন করায় স্থানীয় রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকগুলো প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে সংশ্লিদের অভিমত।

সূত্রে জানা গেছে, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক একটি রোহিঙ্গা হুন্ডি চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রবাসীদের পাঠানো টাকা লেনদেনের ধারাবাহিকতা চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। আর এ হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে ক্যাম্প সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম। উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবির ও সংলগ্ন বস্তির অন্তত ১ লাকের অধিক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। প্রবাসী থেকে ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে নিকটত্মীয়দের নিকট টাকা পাঠানোর বিষয়টি ঝামেলা মনে করে প্রবাসী রোহিঙ্গারা। তারা লেনদেনের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সরাসরি হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে থাকে। সূত্রমতে, ১০/১২ জনের একটি রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট হুন্ডি ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। সুত্র মতে, জেলার বহুল আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ীদের অন্যতম গডফাদার হুন্ডি জগতের কিং উখিয়া ডেইল পাড়া গ্রামের একরামের সিন্ডিকেটে রাজাপালং ইউনিয়নের উত্তর পুকুরিয়া গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে আনোয়ার প্রকাশ হুন্ডি আনোয়ার, কোটবাজারের ফজল মার্কেটস্থ বিকাশের দোকানের ভালুকিয়া গ্রামের আব্দুর রহিম প্রকাশ হুন্ডি রহিম, নিদানিয়া গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে কোটবাজার চৌধুরী মার্কেটস্থ ফ্যামেলি ক্যালেকশনের মালিক আব্দুল্লাহ প্রকাশ হুন্ডি মৌলভী, একই এলাকার আবু তাহের প্রকাশ হুন্ডি তাহের, কোটবাজারের চিহ্নিত হুন্ডি ব্যবসায়ী মঞ্জুর, সোনার পাড়া এলাকার হুন্ডি হামিদ, পূর্ব ডেইল পাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম প্রকাশ ঠান্ডু, মরিচ্যার আব্দু,  ডেইল পাড়ার হাসেম ও শাহ জাহান, ক্লাসেপাড়র জয়নাল, ডিগলিয়াপালংয়ের জসিম, মরিচ্যার তাজ উদ্দিন, সহ আরো রয়েছে। সেন্ডিকেট প্রধানদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো গুরুত্বপুর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে অভিমত সচেতন মহলের।

উখিয়ার ইনানী, সোনারপাড়া, কোর্টবাজার, মরিচ্যা, পাগলির বিল, ভালুকিয়া, উখিয়া সদর, কুতুপালং, টাইপালং, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী সহ একাধিক স্পটে এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে লেনদেন করে থাকে। চক্রটি শুধুমাত্র একটি মোবাইল নাম্বারের উপর ভিত্তি করে অভিনব কায়দায় হুন্ডির টাকা লেনদেন অব্যাহত রাখায় বিষয়টি আলোচনার বাইরে থেকে যায়। বিকাশের মাধ্যমে মোবাইল নাম্বারে হুন্ডির টাকা পৌঁছে দিচ্ছে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। মোবাইল ভিক্তিক ব্যবসা বেড়ে যাওয়ায় চিন্থিত হুন্ডি ব্যবসায়ীরা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। গোপন সুত্রে জানাযায়, উখিয়ার ব্যবসায়ীদেরকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা সরবরাহ দিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার আসাদ কমপ্লেক্সের চিন্থিত হুন্ডি এজেন্ট সাইফুল এন্টারপ্রাইজের মালিক সাইফুল ইসলাম ও টেকনাফের মিনহাজ। আরো জানাযায়, উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং গ্রামের আলী আহম্মদ কোম্পানীর ছেলে আন্ডার ওয়াল্ড হুন্ডি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রক সেীদি প্রবাসী আব্দুল হামিদ। বাংলাদেশে উখিয়ার একরাম কক্সবাজারের সাইফুল ও টেকনাফের মিনহাজ তারাই মুলত সেন্ডিকেট প্রধান হিসেবে কাজ করে।

উত্তর পুকুরিয়ার আনোয়ার, হাজী পাড়ার মাহমুদুল হক, চাকবৈঠার একরাম, জালিয়াপালং পাইন্যাশিয়া গ্রামের হেলাল, নেতৃত্বে ২০/২৫জনের একটি শক্তিশালী হুন্ডি সিন্ডিকেট রয়েছে। হুন্ডি আনোয়ারের নেতৃতে কোটবাজার ও উখিয়ায় সবচেয়ে বেশী টাকা লেনদেন হয়ে থাকে। এছাড়া কোটবাজারের চিন্থিত হুন্ডি ব্যবসায়ী মনজুরের নেতৃতে¦ কোটবাজার চৌধুরী মার্কেটের চমক ক্লথ ষ্টোরে ৪/৫ জনের একটি সিন্ডিকেট দিনেরাতে হুন্ডির টাকা বিরতন করে যাচ্ছে।এদিকে কোটবাজার চৌধুরী মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী একরাম সু-স্টোরের মালিক একরাম হুন্ডি জগতের একটি চিন্থিত নাম।

ব্যাংক কতৃপক্ষ বলেন, বর্তমানে সহজ পন্থায় প্রেরকের পাঠানো টাকায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপকের হাতে তুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা থাকলেও হুন্ডি চক্রের কারণে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন লক্ষ্যমাত্রায় অর্জন হচ্ছে না।  আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনদের তৎপর হলে হুন্ডি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার লাভবান হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে জানান, তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: