শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

কুরবানির মুস্তাহাব ও মাকরূহ নিয়ে আলোচনা,

  • সময় রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০
  • ১৭০ বার পড়া হয়েছে

মাওঃ হাফেজ শরীফুল ইসলাম:

কুরবানির মুস্তাহাব ও মাকরূহসমূহ এবং কুরবানী করার সময়।

কুরবানির মুস্তাহাব ও মাকরূহসমূহ
কুরবানির পশু ক্রয় করার সময় যদি বিক্রেতা সাথে কোন রশি দেয় তাহলে তা সদকা করে দেয়া মুস্তাহাব। আর যদি ক্রেতা রশি ক্রয় করে নেয় তাহলে তা সদকা করার দরকার নাই।
ফাতওয়ায়ে শামী,৬/৩২৮
কুরবানির পশুর দুধ পান করা, গোবর, পশম ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কেননা, কুরবানী পশু থেকে কুরবানির পূর্বে যে কোন ধরনের উপকৃত হওয়া মাকরূহ। কেউ যদি দুধ পান করে কিংবা কোন ধরনের উপকৃত হয় তাহলে সে পরিমাণ মূল্য সদকা করে দিবে। যদি কুরবানির পশুর দুধ এমন হয় যে, দোহন না করলে পশুর কষ্ট হয় তাহলে তা দোহন করে সদকা করে দেবে। আর যদি নিজে পান করতে চায় তাহলে সে পরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে।
মাবসূতে সারাখসী,১২/১৫ ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া, ৫/৩৭১
কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করার পর তা দ্বারা হাল চাষ করা মাকরূহ। কেননা, কুরবানী পশু থেকে কুরবানির পূর্বে যে কোন ধরনের উপকৃত হওয়া মাকরূহ। এর দ্বারা যদি পশু শুকিয়ে যায়, যার কারণে সাধারনত পশুর মূল্য কমে যায় তাহলে সে পরিমান সদকা করে দিতে হবে।
মাবসূতে সারাখসী, ৪/১৪৪ আহসানুল ফাতওয়া,৪/৫২৬
বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে কুরবানির পশুর সাথে কোন কিছু ফ্রি দেয় তাহলে তা ক্রেতার মালিকানায় সম্পদ হয়ে যাবে। সেটা ইচ্ছে হলে নিজে ব্যবহার করতে পারবে। তবে উত্তম হলো সেটা সদকা করে দেয়া।
কুরবানী করার সময়
যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে বার তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কুরবানী করা জায়েয আছে। তবে ১০ তারিখে করা উত্তম।
সুনানে কুবরা লিল বাইহাকী, ৯/৫০০ মুয়াত্তা মালেক, ২/১৮১ আল মুহাল্লা বিল আছার, ৬/৪০ (শামেলা) মুহীতে বুরহানী, ৬/৮৯
যে সমস্ত এলাকায় ঈদের নামায ও জুমার নামায পড়া হয় সে সমস্ত এলাকায় ঈদের নামাযের পর কুরবানী করতে হবে। নামায শেষ হওয়ার পূর্বে করলে কুরবানী হবে না।
মুহীতে বুরহানী,৬/৮৯ ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া, ৫/৩৬৪
কেউ যদি নামাযের পর পর খুতবা চলাকালিন সময়ে কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তবে উত্তম হলো খুতবার পর কুরবানী করা।
মুহীতে বুরহানী, ৬/৮৯ ফাতওয়ায়ে তাতারখানিয়া, ১৭/৪১৮
যদি কোন এলাকায় যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে ঈদের নামায পড়া না হয়
তাহলে সে এলাকায় দ্বীপ্রহরের পর থেকে কুরবানী করতে পারবে।
ফাতওয়ায়ে শামী,৬/৩১৮ বেনায়া শরহে হেদায়া, ১২/২৪
রাতে কুরবানী করা জায়েয আছে। তবে ফুকাহায়ে কিরামগণ রাতে যবেহ করার মাধ্যমে সব রগ কাটা না যাওয়ার ভয়ে মাকরূহ বলেছেন। তাই কোথাও যদি ভালো লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করে তাহলে মাকরূহ হবে না। সুনানে কুবরা লিল বাইহাকী, ৯/৪৮৮ মাজমাউল আনহুর, ২/৫১৯
কোন এলাকায় যদি সবাই কুরবানী করার পর জানা যায় যে ইমাম সাহেব অযু ছাড়া নামায পড়িয়ে ছিলেন কিংবা কোন কারণে নামায ছহীহ হয় নায় তাহলে এমতাবস্থায় সকলের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। পূণরায় কুরবানী করা লাগবে না।
বাহরুর রায়েক, ৮/২০০ মুহীতে বুরহানী,৬/৪৭৪

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: