সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
নোঠিশ
ওয়েব সংষ্কারের কাজ চলিতেছে। সাময়িক অপরাগতার জন্য দু:খিত

চট্টগ্রামে ‘ঝং’ ধরছে ৬২ হাজার গণপরিবহনে, নষ্ট হচ্ছে বসে থাকা গাড়ির যন্ত্রাংশ

  • সময় রবিবার, ২৪ মে, ২০২০
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক::

দেশে পরিবহনের চাকা সচল থাকলে ঘুরে অর্থনীতির চাকাও। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির কারণে দেশে চলমান লকডাউনে এক্কেবারে নাজুক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে পরিবহন খাত। বিশেষ করে গণপরিবহণ বন্ধের ধাক্কা পড়ছে দেশের অর্থনীতিতেও।

প্রায় দুই মাস অসল বসে থাকার কারণে ঝং (মরিচা) ধরছে গণপরিবহনগুলোতে। নষ্ট হয়ে পড়ছে গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ। অন্যদিকে এসব পরিবহনের চালক-হেলপারও পড়েছেন বেকায়দায়। বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার, অটো টেম্পু, সিএনজি অটোরিকশা মিলে প্রায় ৬২ হাজার গণপরিবহন চলাচল করে চট্টগ্রামে।

এদিকে লকডাউনে বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে গণপরিবহন মালিকরা। অন্যদিকে বসে থাকা গাড়ি নতুন করে রাস্তায় নামাতে গেলে মেরামতখাতে নতুন করে অর্থ লগ্নি করতে হবে মালিকদের। কিন্তু দুইমাস অলস বসে থাকার পর এসব গাড়ি রাস্তায় নামাতে পারবে কি না তা নিয়েও সন্দিহান আর্থিক সংকটে থাকা মালিকরা।

পরিবহন সেক্টরে জড়িতরা মনে করছেন, সত্যিকারের পরিবহন মালিকরা সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা না পেলে করোনা পরবর্তী সময়ে রাস্তায় গণপরিবহন নামানো দুষ্কর হয়ে পড়বে।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মনজু বলেন, করোনার কারণে সাধারণ মালিক-শ্রমিকরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আন্তরিক। সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য, কৃষির জন্য প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছেন। পরিবহন মালিকরা অগ্রিম কর দিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে থাকেন। দুই মাস ধরে বন্ধ থাকার কারণে গণপরিবহন মালিকদের আয়ের পথ একেবারে বন্ধ গেছে। ব্যাংক ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ গাড়ি মালিক। বসে থাকার কারণে গাড়িগুলোর যন্ত্রাংশও বিকল হয়ে পড়ছে।

বর্তমানে যারা পরিবহন নেতা ও শ্রমিক নেতা আছেন, তারা মালিক-শ্রমিকদের সাথে সম্পৃক্ত নন, যে কারণে গণপরিবহন সেক্টরের চলমান সংকটগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরতে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, করোনা সংকটে সরকারি নির্দেশনা মেনে দুই মাস ধরে গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন মালিকরা। সেজন্য অগ্রিম ট্যাঙগুলো মওকুফ করতে হবে। মালিক সমিতিকে নয়, গণপরিবহনের যারা প্রকৃত মালিক তাদেরকে যদি সরকার আর্থিক সহযোগিতা দেন, তাহলে সাধারণ মালিকরা সবসময় সরকারের পাশে থাকবে।

জানা যায়, মার্চ মাসের শুরুতে বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয়। ধীরে ধীরে সামাজিক সংক্রমণ শুরু হলে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। ২৬ মার্চ থেকে সরকার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতের পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয় গণপরিবহন চলাচলও। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দফায় দফায় বাড়ানো হয় সরকারি এ সাধারণ ছুটির মেয়াদ।

সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩০ মে পর্যন্ত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এ ছুটি। এরপর থেকে এক্কেবারে অলস হয়ে পড়ে গণপরিবহনগুলো।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বাদেও কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান রুটে চেয়ারকোচ ও বাস চলাচল করে। একইসাথে চট্টগ্রামের সাথে সংযুক্ত লোকাল রুটগুলোতেও চলাচল করে বাস-মিনিবাস। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগরীর রুটগুলোতে কয়েক হাজার বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার ও অটোটেম্পু চলাচল করে।

তথ্য মতে, চট্টগ্রামে সোদিয়া, এস আলম, শ্যামলী, মারসা, হানিফ, হানিফ সুপার, পূরবী-পূর্বাণী, সোহাগ পরিবহনের চেয়ারকোচ ঢাকা ও কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক রুটে নিয়মিত চলাচল করে। আবার কক্সবাজার বিলাসী, মিনি মালিক সমিতি, সুপার মালিক সমিতি, পিএবি সড়ক, বাঁশখালী সমিতি, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সমিতি, নাজির হাট, হাটহাজারী বাস মালিক সমিতির অধীনেও অসংখ্য জেলার বিভিন্ন রুটেও বাস-মিনিবাস চলাচল করে।

সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের তথ্য মতে, চট্টগ্রামে বিআরটিএ থেকে নিবন্ধিত ১৪৭৮টি বাস, ২২১১টি মিনিবাস ও ৪৩১৪টি হিউম্যান হলার রয়েছে। করোনা সংকটকালীন লকডাউনে এসব গণপরিবহন একেবারে বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া নগরীতে ১৩ হাজার নিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচল করে। প্রায় দুই হাজারের মতো সিএনজি চালিত প্রাইভেট অটোরিকশাও নগরীতে চলাচল করে। আবার জেলার আঞ্চলিক ও আভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় ৪০ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। সবগুলো মিলিয়ে প্রায় ৬২ হাজারের অধিক গণপরিবহন চট্টগ্রামে চলাচল করে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বিলাসী কোস্টার চেয়ারকোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, গত ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গাড়িগুলো গ্যারেজ, টার্মিনাল, রাস্তার ধারে বসে রয়েছে। অলস বসে থাকার কারণে গাড়িগুলোতে ধুলাবালির আস্তরণ জমেছে। গাড়ি মানে লোহা। এগুলো ব্যবহার থাকলে সচল থাকে। বসে থাকলে মরিচার ঝং ধরে। গাড়ির যন্ত্রাংশগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুই মাস না বসে থাকার কারণে নতুন করে রাস্তায় নামাতে গেলে বেশিরভাগ গাড়ি মেরামত করতে হবে। এতে ২০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাস-চেয়ারকোচগুলোতে খরচ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে পড়ছে তা নয়, গাড়ির শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। তারাও বেকায়দায় দিনাতিপাত করছে। শুধু পরিবহন মালিক চালক-হেলপারদের বসিয়ে রেখে বেতন-ভাতা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিবহন মালিক ও চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল বলেন, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে শুধু শ্রমিকরা বেকার হয়েছেন তা নয়, মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ছোট মালিক রয়েছেন, যাদের একটি কিংবা দুটি বাস কিংবা হিউম্যান হলার রয়েছে। এগুলোর আয় দিয়ে তারা সংসার চালাতেন। করোনার কারণে এসব গাড়ি বসে থাকায় তাদের একেবারে পথে বসার মতো অবস্থা হয়েছে। অনেক গণপরিবহন প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মচারী রয়েছে। গাড়ি না চললেও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়েছে। সবমিলিয়ে গভীর খাদে পতিত হয়েছে গণপরিবহন খাত।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: