রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ১০:৪৩ অপরাহ্ন
নোঠিশ
ওয়েব সংষ্কারের কাজ চলিতেছে। সাময়িক অপরাগতার জন্য দু:খিত

রহিম- রুপবান এখন রিফুজি

  • সময় শনিবার, ২৩ মে, ২০২০
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

রঙে ঢঙে ভরা কোন যাত্রাপালা নয়। কোন আলোক উজ্জ্বল ঝিলিমিলি রঙ্গ মঞ্চে পরিবেশিত নয়। লেখা পড়ে মনোরঞ্জনের জন্য কিছুই পাবেন না। তবুও যদি ইচ্ছে হয় একটু পড়ে নেবেন।

কারোর লেখারই সময় নেই। শোনার সময় নেই। তাই হয়তো কেউ পড়ার সময় ও পাবেন না। হয়তো ইচ্ছা আকর্ষণ নিয়ে অনেকেই পরতো যদি এটা গুজব হত। বা রঙ্গে রঙ্গে ভরা কোন লেখা হতো। অথবা কোন বড় উপন্যাসিক আরো বড় করে লিখত।
এটাই বাস্তবতা।

অনেকেই হয়তো রোহিঙ্গাদের নাম জানেন।মায়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে আছেন। এর বেশি হয়তো এ বিষয়ে জানাবা দেখার ইচ্ছাও নাই। কারণ যে যার কাজে তো ব্যস্ত। যাই হোক
রহিম রুপবান এটি কোন যাত্রাপালার ইতিহাস নয়। তিন ঘন্টা রঙ্গিন রুপালি পর্দায় কোন অভিনয় নয়। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নায়েক নায়িকা র কোন কাহিনী নয়। এ চরিত্রে কোন চলচ্চিত্র পুরস্কার ও পাওয়া যাবে না। এ লেখা সম্পাদনা করে কোন সেরা উপন্যাসিকের পুরস্কার হবে না। কোটি কোটি টাকা দামের এই লিংক এ লাইক কমেন্ট ও হবে না।

রহিম রুপবানের সাথে পরিচয় তিন মাসের। রহিম তখন মংডুর বাজারে। বাজার নিয়ে বাড়িতে যাবে রান্নাবান্না হবে তার অসুস্থ মা খেয়ে ঔষধ খাবে। কোন স্কুলের সুযোগ না পেয়ে রহিম স্বশিক্ষায় শিক্ষিত ব্যাবসা বিষয়ে লেখাপড়া করে। ইচ্ছে ছিল কোন ভাবে রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী নিবে। ইংরেজিতে কথা বলে অনর্গল। তার ম্যানেজমেন্ট এর জ্ঞান আমার এমবিএ কেও হার মানায়।

ছয়কানি ধানের জমি একটি স্বর্ণের দোকান তাদের সম্বল। ঘটনার দিন সন্ধ্যা বেলায় বাজার নিয়ে বাড়িতে ফিরে দেখে তার তিন বছরের কন্যার রূপমা স্ত্রী রাবেয়া বিবাহযোগ্য বোন চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। পাশেই রান্নাঘরে তার বৃদ্ধ মা হাত-পা বাঁধা মুখে টেপ লাগানো। বাড়িতে কোন আলো নেই পাশের বাড়িগুলোর জ্বলজ্বল করে আগুনে জ্বলছে। সুস্থ জ্ঞান থাকা রহিম হতবাক হয়ে চাদরটি টান দিয়ে দেখতে পেল। স্ত্রীর শরীর তিন টুকরো বোনের শরীরে ধর্ষণের চিহ্ন আদরের কন্যা নিহত। শরীরের ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি নিঃসরণের আগেই গর্ভধারণের মা ইশারায় তার বাঁধন খুলে দেয়ার জন্য রহিম কে ডাকছে। স্বজন হারানোর ব্যথা অশ্রু দিয়ে প্রকাশ করবে না শরীরের শক্তি দিয়ে আমার বাঁধন খুলে দেবে সে দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য।

তার গ্রামে কোনো লোক নেই ঘরবাড়ি জ্বলছে। লেলিহান শিখা। আগুনের তাপে তার চোখের অশ্রু শুকিয়ে গেল। সেটাই বা কম কিসে। কষ্ট করে কাপড় দিয়ে চোখ মুছতে হলো না। বাজারের কেনা চাউল পানি মাকে খাওয়াই ঔষধ সেবন করায়। ছোট্ট মাকে হারায় বৃদ্ধ মাকে কাঁধে নিয়ে ঘুম ঘুম বর্ডারের দিকে রওনা দেয়। সঙ্গে কেউ নেই। ঘন ঘোর অন্ধকার। জঙ্গল রাস্তা। কাটাবন সাপের ভয়। তার চেয়ে বেশি নিরাপত্তা বাহিনী। স্বজন হারানোর ভার বহন করতে না পারলেও মায়ের ওজন তার কাছে বহন করতে কোন কষ্টই হয়নি।

মা,র পানি পিপাসার চাহিদা দেখে চিন্তা করে নাফ নদীর পানি খাওয়াবো। নাফ নদীর বর্ডারে যখন আসে তখন রাত প্রায় বারোটা থেকে একটা।রুপবানের সাথে দেখা করার ইচ্ছা থাকলেও রহিম ভাবছে সে যদি এই মুহূর্তে মারা যেত তাহলে সে নিজের জন্ম টাকে সার্থক মনে করত।

সীমান্তে একদল কুলাঙ্গার সামনে উপস্থিত। পানির কথা বলতেই রহিমের যে পরিস্থিতি।কয়েকজন তার বৃদ্ধ অসুস্থ মা তাকে কেড়ে নিয়ে গেল। পাশেই তার মার ওহ আর্তনাদ। তারপরে তার মায়ের পরিস্থিতি আর বর্ণনা করে নি। জন্মদাতা গর্ভে কোন সন্তান বর্ণনা করতে পারে না। আপনি আমি কেউই বর্ননা করতে পারব না।

পিপাসার্ত তার মা ছেলের সামনে লজ্জায় হত সম্মানে নিগৃহীত নোংরা উলঙ্গ পরিপূর্ণ ব্যর্থ একজন মানুষ হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিল।
কুলাঙ্গার দল রহিমের মুখ ভরে প্রস্রাব করে পানির পিপাসা মেটানোর চেষ্টা করলো। ওই মেয়ের পাছায় লাথি মেরে বলল যা নদীতে ঝাঁপ দে।
নদীর দিকে আগাতে আসতেই নারীর কন্ঠে আকুল আবেদন। প্লিজ আমাকে ব্যাথা দিও না আর না আর না ছেড়ে দাও ছেড়ে দাও মেরে ফেলো মেরে ফেলো আমি বাঁচতে চাই না আমাকে হত্যা করো আমার কাছে এক ভরি স্বর্ণ আছে দিয়ে দেব।
সব হারিয়ে রহিম যখন সর্বহারা। সম্মান আর মানসিক নির্যাতনে রহিম যখন জন্মগত অধিকার হারা। তার আর কিসের ভয়! এগিয়ে যেয়ে দেখে

যা দেখে তাতো আমি আপনি পৃথিবীতে কোন দিনই দেখি নাই।কোটি কোটি টাকায় নির্মিত অশ্লীল সিনেমাতেও দেখানো হয় না। অসভ্যতার চরম সীমানা পার হলেও সেগুলো চিত্রায়িত হয় না। অভিনয় করে যা দেখানো যায় না তা বাস্তবে ঘটে গেল। স্বামীকে গাছের সাথে বেঁধে রাখা। স্বামীর দুই পায়ের সাথে রুপবানের দুই হাত বাধা। পর্যায়ক্রমে চলছে রুপবানের উপর পাশবিক নির্যাতন।

যে কয়জন ব্যক্তি নির্যাতন করল তাকে ধর্ষণ ও বলা যায় না। ব্রিটিশ থেকে প্রচলিত বর্তমান আইনে খুন ধর্ষণ অত্যাচার নির্যাতন নারী নির্যাতন বল প্রয়োগ শক্তি প্রয়োগ অশ্লীলতা কোন আইনের সংজ্ঞায়িত করা যায় না। একজন প্রস্টিটিউট ও এত সংখ্যক পুরুষর ভার বহন করতে পারে না। সিম এর বর্ণনা 17 জন 17 জন কুলাঙ্গার পশু রুব্বান কে ব্যবহার করে প্রায় নিস্তেজ করে দিল। তারপরে তারা চলে গেল। অসুস্থ বৃদ্ধ মাতার ওজনের ভার কাঁধে নেই।

মা,রুপি কন্যার মানুষ করার চাহিদা নেই। প্রিয়তমা স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেই। সহোদর বোনের বিবাহ দেওয়ার চিন্তা রহিমের নেই। সমস্ত পৃথিবীর ওজন রহিমের মাথায় যা কোন পরিমাপ দিয়ে মাপা যায় নাই।
কিন্তু সে মানুষ। নিজ ভূমি র আর স্বজাতির টানে রহিম রূপবান ঘাড়ে তুলে রওনা দিল অজানা আশ্রয়ের দিকে। নাফ নদীর তীরে এভাবেই পরিচয় হলো রহিম রুপবানের (অসমাপ্ত)

মোঃ ইমাউল হক পিপিএম
পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র)
ইন্টেলিজেন্স এন্ড মিডিয়া সেল
14 আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন
কক্সবাজার

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ