সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
নোঠিশ
ওয়েব সংষ্কারের কাজ চলিতেছে। সাময়িক অপরাগতার জন্য দু:খিত

কেউ কাওকে ছাড় দিতে চান না এই দুই ফুটবল মহারথী

  • সময় বুধবার, ১৩ মে, ২০২০
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

ফুটবলারদের দ্বৈরথ সম্পর্কে তো সবাই জানে। এর বাইরেও ফুটবল মাঠে চলে আরো কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা। খেলা ছাপিয়ে যেখানে চলে আসে ফুটবলীয় রাজনীতি। তেমনই এক দ্বৈরথ দুই কোচ হোসে মরিনহো এবং পেপ গার্দিওলার। অসাধারণ সব অর্জনে একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে যান প্রতিটি মুহূর্তেই। ক্রীড়াঙ্গণে কিংবদন্তিদের নিয়ে খেলার সময়ের আয়োজনে আজ থাকছে মরিনহো-গার্দিওলা দ্বৈরথের গল্প।ফুটবল বিশ্বে এই মুহূর্তে শ্রেষ্ঠ কোচ কারা বা কে ? প্রশ্নটার উত্তর দেয়া বেশ কঠিন। অনেকগুলো নাম চলে আসবে লোকমুখে। তবে, কয়েক বছর আগেও যদি এই একই প্রশ্ন করা হতো, তাহলে কিন্তু আর খুব একটা বড় হতোনা নামের তালিকাটা। কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, যে নাম দুটো অবধাতরিতভাবেই আসতো সবার মাঝে, তা হলো পেপ গার্দিওলা এবং হোসে মরিনিও।

দ্বন্দ্ব, প্রতিদ্বন্দ্বীতা, কথার ঝাঁঝ কিংবা কৌশলের মারপ্যাচ যেভাবেই তুলনায় আনা হোক না কেন, তারা দুজনই অপ্রতিরোধ্য এবং অতুলনীয়। এতো বেশি অমিল এ দুজনের মাঝে যে মিল খুঁজে পাওয়াটা হ্যালির ধূমকেতু দেখার মতো ঘটনা হয়ে যাবে।

অনেক অমিলের মাঝে, এ দুজনের মিল আছে একটা। তবে, এই মিলটাই তাদের সকল অমিলের আঁতুড় ঘর। তা হচ্ছে বার্সেলোনা। হোসে মরিনহো ও পেপ গার্দিওলা দুজনে একসাথে বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন চার বছর। সে সময় তাদের মধ্যে ছিলো মধুর সম্পর্ক। গুঞ্জন ছিলো, বার্সার কোচ হতে আগ্রহী ছিলেন স্পেশাল ওয়ান। কিন্তু তাকে ডিঙ্গিয়ে কাতালান ক্লাবটির দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় আনকোরা গার্দিওলা’র হাতে। শুরু হয় পৃথিবী বিখ্যাত তিক্ততা।২০১০ এর ২০শে এপ্রিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় গার্দিওলার বার্সেলোনা আর হোসের ইন্টার মিলান। ১৯ মিনিটেই পেদ্রোর গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। কিন্তু এরপরের গল্পটা মনে হয় চোখ কপালে তুলেছিলো তখনকার সব ফুটবল সমর্থকদের। ডিয়েগো মিলিতোর একক নৈপুণ্যে, সেদিন হাসি ফুটেছিলো মরিনহোর মুখে। ৩-১’এ ম্যাচ জিতে নেরাজ্জুরিরা।

মৌসুম শেষ হতেই সান সিরো ত্যাগ করেন মরিনহো। নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে চলে আসেন গার্দিওলার আরো কাছাকাছি। ম্যানেজার হন রিয়াল মাদ্রিদের। একই বছরের ৩০ শে নভেম্বর আরেকবার দুর্দান্ত এক দ্বৈরথ দেখার সৌভাগ্য হয় ফুটবল সমর্থকদের। ইউসিএলের প্রতিশোধ কড়ায় গণ্ডায় তুলে নেন পেপ গার্দিওলা। ন্যু ক্যাম্পে ৫-০ তে ধ্বসিয়ে দেন মরিনহোর রিয়ালকে।

জঘন্য এক মৌসুম শেষে, মরিনহো কিছুটা সঞ্জীবনী শুধা খুঁজে পান কোপা দেল রে’র ফাইনালে। ২০১১ এর ২০ শে এপ্রিল। ন্যু ক্যাম্পে আবারো গার্দিওলার বিপক্ষে জয়ের দেখা পান স্পেশাল ওয়ান। গোলশূন্য নির্ধারিত সময়ের পর, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কল্যাণে জয় পায় লস ব্লাঙ্কোরা।২৭ শে এপ্রিল, ২০১১। কোপা দেল রে’র ৭ দিনের মধ্যেই আবারো মুখোমুখি হন স্পেশাল ওয়ান এবং টেকনিক্যাল ওয়ান। সেবারের মঞ্চটা ছিলো ইউসিএল সেমিফাইনালের প্রথম লেগ। কোপার জয়ের সুবাতাস মিলিয়ে যাবার আগেই, স্তব্ধ হয়ে যায় মাদ্রিদ। মেসি ম্যাজিকে ২-০’তে হারেন মরিনহো। জয়ের পাল্লাটা আরও ভারী করে নেন পেপ।

এরপর আরো অনেকবারই মুখোমুখি হন এ দুজন। কিন্তু সময়ের সাথে উজ্জ্বলতা হারায় তাদের লড়াই। মাঠের চেয়ে কথার লড়াইয়ে মনোযোগী হয়ে পড়েন দুজন। ধীরে ধীরে যা বিরক্তি ছড়াতে থাকে ফুটবল বিশ্বে।

কিন্তু, কথায় আছে ফর্ম ক্ষণস্থায়ী হলেও, ক্লাসটা নাকি চিরস্থায়ী। তাই তো দেশ, ক্লাব পতাকা বদলে গেলেও, একই রকম থেকে যায় দুই চির শত্রুর সম্পর্ক।

তাদের ক্যারিয়ারের আরো একটি দুরন্ত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ইপিএলে। ২০১৮ সালের ৭’ই এপ্রিল সিটিজেনদের মাঠে লাল পতাকা উড়ান হোসে মরিনহো। লিগ টাইটেলের স্বপ্নে বিভোর, গার্দিওলাকে ভূপাতিত করেন পর্তুগীজ কোচ। ৩-২ গোলে জয় পায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমে দু গোল করেও, এক পল পগবার কাছেই হেরে যান গার্দিওলা।এরপরও অনেকবারই মুখোমুখি হয়েছেন তারা। হয়তোবা আরো হবেনও। কিন্তু, পৃথিবীর যে প্রান্তেই দেখা হোক না কেন, যে ক্লাবের ঝাণ্ডাই থাকুক না কেন তা যে শিহরণ ছুটিয়ে যাবে ফুটবল সমর্থকদের মনের কোণে তা হয়তো আলাদা করে বলে দেবার আর প্রয়োজন নেই।

কারণ, পর্তুগাল, ইতালি, স্পেন, ইংল্যান্ড ঘুরে যে ২৫টি শিরোপা পকেটে পুরেছেন হোসে মরিনহো ডস সান্তোস, তার জবাব যে স্পেন, জার্মানি, ইংল্যান্ডের ৩০টি শিরোপা দিয়ে একজনই দিতে পারেন। পেপ গার্দিওলা।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: