বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

করোনায় কারাবন্দীর মৃত্যু নিয়ে উৎকণ্ঠা

  • সময় বুধবার, ১৩ মে, ২০২০
  • ২৪০ বার পড়া হয়েছে

কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে এক বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এটিই দেশে করোনায় প্রথম কারাবন্দীর মৃত্যুর ঘটনা। এই ঘটনার পর কারাগারের ভিতরে ও বাইরে আতঙ্ক উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

জেল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ কারান্তরীণ হয়েছিলেন কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ঘড়াই গ্রামের বাসিন্দা আহমদ হোসেন (৫৫)। প্রায় দুই মাস পর তিনি কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হন। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে। গত ১০ মে মারা যান তিনি।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মুজিবুর রহমান সময় সংবাদকে জানান, আহমদ হোসেন মারা যাওয়ার পর তিনি যে ওয়ার্ডে থাকতেন, সেটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বন্দী আছেন ৮৬ জন। এর বাইরে কারাগারের সিনিয়র সুপার, জেলার, কারা চিকিৎসক, কারারক্ষীসহ সহ ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।কারাগারে যাতে করোনা না ছড়ায়, সেজন্য কারা অধিদফতরের নির্দেশে গত মার্চ মাস থেকেই নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এরপরও করোনা কিভাবে কারাগার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলো তা নিয়ে কেউ বলতে পারছেন না। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মুজিবর রহমানও জানেন না কীভাবে, কার মাধ্যমে আহমদ হোসেন কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন।দুই মাস কারাগারে বন্দী আহমদ হোসেন। তাহলে তিনি কিভাবে কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হলেন? সিলেটের কারাগারে অন্য কোনো আক্রান্ত আছেন কিনি কিংবা এসেছিলেন কিনা? সতর্কতামূলক পদক্ষেপের পরও কারা অভ্যন্তরে কীভাবে করোনা প্রবেশ করলো? এসব প্রশ্নে উত্তর দিতে পারছেন না কেউই। ফলে খারাপ পরিস্থিতির জন্য উৎকণ্ঠায় আছেন সবাই।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মুজিবর রহমান জানান, কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ঘড়াই গ্রামের বাসিন্দা আহমদ হোসেন (৫৫)। কানাইঘাট থানায় একটি হত্যা মামলায় গত ৫ মার্চ তিনি কারাগারে যান। চলতি মে মাসের শুরুর দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে জ্বর, সর্দি, এরপর কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার। শুরুতে কারাগারের চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসাসেবা দেন। তবে অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকায় গত ৮ মে তাকে কারাগার থেকে নেওয়া হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আহমদ হোসেনের মধ্যে করোনার উপসর্গ থাকায় ওসমানী কর্তৃপক্ষ তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে ১০ মে তিনি মারা যান।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুশাস্ত কুমার মহাপাত্র জানান, গত ৯ মে আহমদ হোসেনের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১০ মে তিনি মারা যান। এরপর ১১ মে তার নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায়, তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিলেন।সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল জানান, গত মার্চ মাস থেকেই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে করোনা সতর্কতা গ্রহণ করা হয়। কারা অধিদফতরের নির্দেশেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এখানকার কর্মকর্তারা। কারাগারে কোনো নতুন বন্দিকে প্রবেশের সময় স্যানিটাইজার দিয়ে হাত-মুখ ধোয়ানো হয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ‘আমদানি ভবনের’ আগমনী ওয়ার্ডে। কারাগারের এ ভবনে এ ধরনের ওয়ার্ড আছে ১২টি। নতুন বন্দিকে আগমনী ওয়ার্ডে একরাত রেখে তার শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়। পরদিন তাকে আরেকটি নতুন ওয়ার্ডে নিয়ে রাখা হয় ১৩ দিন। সবমিলিয়ে নতুন বন্দিকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার পর পুরনো বন্দির সাথে রাখা হচ্ছে। কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালীন কোনো বন্দির মধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলেই নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা।

এছাড়া গত এপ্রিল থেকে কারাগারে বন্দীদের সাথে স্বজনদের সরাসরি সাক্ষাৎ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। স্বজনদের সাথে বন্দীরা কারা কর্তৃপক্ষের বিশেষ ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন। সপ্তাহে একদিন একজন বন্দী ৫ মিনিট তার স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।

এছাড়াও গেল ২২ মার্চ থেকে কারাগারের বন্দীদের আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: