শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

খুলনায় বাড়ীওয়ালাদের চাপে দিশেহারা কর্মহীন ভাড়াটিয়ারা

  • সময় বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃনিজাম উদ্দীন (স্বাধীন) নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ

মাস শুরু না হতেই ভাড়ার টাকার জন্য জন্য চাপাচাপি শুরু করেছেন খুলনা নগরীর ভবন/ফ্ল্যাট মালিকরা। এতে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক ভাড়াটিয়া পরিবার। মাসের অর্ধের শেষ হলেও অনেক এখনো ভাড়ার টাকা শোধ করতে পারেননি। বাড়ি মালিকের ভয়ে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। করোনা ভাইরাসের ভয়ংকর থাবায় পুরো বিশ্ব যেখানে থমকে আছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ি ভাড়ার চাপে দিশেহারা খুলনা নগরীর মধ্যবিত্ত, দিনমজুরসহ অনেক ভাড়াটিয়ারা। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।

বিশেষ এক সূত্রে জানাযায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাস করেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ লোকই অন্যের ঘরে ভাড়ায় থাকেন।

অঘোষিত লকডাউনের প্রভাবে যখন দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট, ঠিক সেই মুহূর্তে বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান ও বাসা ভাড়ার চাপে ভুলে গেছেন করোনাভাইরাসের কথা। বাধ্য হয়ে অনেকেই রাস্তায় নেমেছে ভাড়া যোগানোর আশায়।

মঙ্গলবার ও বুধবার দুদিন পর্যন্ত খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

নগরীর বিভিন্ন ভাড়াটিয়া দের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী চলছে অঘোষিত লকডাউন। ফলে অধিকাংশ নিম্ন,মধ্যবিত্ত সহ অনেকের ঘরের খাবার শেষ হয়ে গেছে। ত্রাণের আশায় ঘরের দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকেন কেউ কেউ। কে কখন ত্রাণ নিয়ে আসেন সেই প্রতীক্ষায়। রয়েছেন চরম বিপাকে। আবার কেউবা লোক লজ্জায় না খেয়েই দিন পার করেন। আবার এই মুহূর্তে বাড়িওয়ালারা ভাড়ার টাকার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।

সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার এক ভাড়াটিয়া জানান, তাদের বাবা অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য পরিবার নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে এসে ভাড়াবাসায় উঠেছেন। তারা কেউ টিউশনি করে, কেউ ক্ষুদ্র চাকরিজীবী। কিন্তু করোনার কারণে চলতি মাসের মাঝখান থেকে তাদের টিউশনি বন্ধ, অন্যজনের চাকরি বর্তমানে বন্ধ। মাস শেষ বেতন পাওয়া অনিশ্চিত। কিন্তু মাসের প্রথম সপ্তাহেই বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছে।

পাইকগাছা থেকে এসে আবু বক্কার ভাড়া থাকেন নগরীর নিরালা এলাকায় । কাজ করতেন বেসরকারি একটি সংস্থায়। করোনার কারণে কাজ বন্ধ,সাথে বেতন ও বন্ধ। আক্ষেপ করে বলেন, আমার পরিবারে একমাত্র ভরসা আমি। কোন জায়গায় কাজ করতে পারি না। কোন মতে খেয়ে না খেয়ে পরিবার নিয়ে চলছি। প্রতি মাসেই বাসা ভাড়া দিতে ঝামেলা হয়। সময়মত দিতে পারি না। এবার তো দিতেই পারবো না। বাড়িওয়ালা বাসা ছেড়ে দিতে বলেছে। আর যদি এই বাসায় থাকি তাহলে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া দিতে হবে বলেছে। সব মিলে মানুষিক চাপের মহাসাগরে আছি, এর থেকে করোনায় মৃত্যু ভাল। করোনায় নয় মনে হয় মানুষিক চাপেই মরে যাবো এবার। যশোর থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র থাকেন নগরীর বয়রার মেলার মাঠের এলাকায় তিনি বলেন আমরা এখানে লেখাপড়া করতে এসেছি কিন্তু করোনার জন্য লক ডাউনে সব যখন বন্দ বাড়ি থেকেও টাকা পাঠাতে পারছে না কিন্তু বাড়ি ভাড়ার তারনায় মনে হচ্ছে লেখাপড়া বাদ দিয়ে পালিয়ে যাই বাসা থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাড়িওয়ালা বলেন, আমরা ঋণ করে বাড়ি করেছি। আজ পর্যন্ত সব টাকা কিস্তি দিতেই যাচ্ছে। একটি টাকা দিয়েও বাজার করে খেতে পারি নাই। আর ব্যাংক তো আমাদের ছাড় দেবে না, এ টাকা তারা নেবেই। সুতরাং বাড়ি ভাড়া ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। আর ভাড়াটিয়ারা কোথায় টাকা পাবে এটা চিন্তা করে লাভ নেই। তারা এতদিন চাকরি করে কি করেছে, কোন টাকা জমায়নি কেন। বিপদের জন্য মানুষ ঠিকই টাকা জমায়। এখন সবার বিপদের সময় টাকা তো দিতেই হবে তাই না।

বৃহত্তর খুলনা সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ্জামান বলেন, যারা বাড়ি ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন আমি তাদের উদ্দেশ্য বলবো, আপনারা মানবিক হোন। এই দুর্যোগে আপনারাও যোদ্ধা হিসেবে যোগদান করেন।

সবকিছু সরকারের আশায় থাকলে হবে না। নিজেদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা ১ মাসের বাড়ি ভাড়া ছেড়ে দিতে পারেন না। তাই আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ ভাড়াটিয়াদের প্রতি একটু মানবিক হোন। তাদের পাশে দাঁড়ান। আপনারাও করোনা যুদ্ধে যার যার অবস্থান থেকে যোগ দেন। তাহলেই হয়তো আমরা এবারের মত জয়ী হতে পারবো।

খুলনা নগরীর বেশ কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তাদের সবারই কর্মস্থল বন্ধ। নিজেরা হয়ে আছেন ঘরবন্দি। তাই আয়-রোজগারও নেই। খাবারের ব্যবস্থা করতেই তাদের হিমশিম অবস্থা। তাই মানবিক বিবেচনায় তারা বাড়ির মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অন্তত এপ্রিল মাসের ভাড়া যেন মওকুফ করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: