বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

খরুলিয়া দুগ্ধ খামারির মাথায় হাত ঃআসছে তীব্র তাপপ্রবাহ।

  • সময় রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

ইনু- মুহাম্মদ ইউনুচ।

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে পুরোবিশ্ব।থমকে গেছে বাংলাদেশের মানুষের জীবন।নাজেহালে নিম্ম আয়ের মানুষগুলো, তাদের পেটে ভাত নেই।করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে নাজেহাল বিশ্বও। করোনা রোধে লক ডাউনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতনতা মূলক বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়ে এবং করোনার ভাইরাসের বিরুদ্ধে যোদ্ধ ঘোষনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

তবে এ সময়ে আরেক দুঃচিন্তার খবর জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।জানানো হয়েছে এই এপ্রিলেই আসছে ঘূর্ণিঝড়, নিয়মিত বৃষ্টি,আকস্মিক বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ।এটি দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। এমনটি হলে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে বেশি। প্রয়োজন বেশি জনসচেতনতা তৈরি করা।এরই ফলে রীতিমতো হুমকির মুখে জনজীবন, দেশের দুগ্ধ খামার ও দুগ্ধ শিল্প।

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় রয়েছে ছোট বড় প্রায় দশটি দুগ্ধ খামার।তদমধ্যে খরুলিয়া ঘাট পাড়ার এবিএস ডেইরি ফার্ম ও আবু তাহের ডেইরি ফার্ম উল্লেখযোগ্য।স্থানীয় বাজারে দুধের দাম অর্ধেকে নেমে ২০ থেকে ৩০ টাকায় দাড়িঁয়েছে প্রতি লিটার।দুধ সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় দুগ্ধ উৎপাদনকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।ন্যায্যমূল্য ও খরিদ্দার না পেয়ে পুষ্টিহীন মানুষের মাঝে ফ্রী বিতরণ করছেন তারা।তবে দুধের চাহিদা পুরনে দেশের বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানও মুখথুবড়ে নিয়েছে।

টানা লক ডাউনে সারা দেশে তরল দুধের সরবরাহ বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায়, শীর্ষ দুধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ও বাজারজাত করনের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায়, দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারির বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান খামারিরা।

খুচরা পর্যায়ে প্যাকেটজাত তরল দুধও পাওয়া যাচ্ছে না।ফলে পুষ্টিহীনতায় ভোগছে দেশ। অন্যদিকে পানির দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় দুগ্ধ খামারিরা। দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায়, তরল দুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় সংরক্ষণকেন্দ্রগুলোও পূর্ণ থাকায় নতুন করেও দুধ কিনতে পারছেন না তাঁরা। দু-একটি প্রতিষ্ঠান ও মিষ্টির দোকানিরা কিনলেও পরিমাণ কম হওয়ায় দুধের দাম একেবারেই পড়ে গেছে।

স্থানীয় দুগ্ধ খামার মালিক মাহিথ বলেন, বাজারে দুধের দাম নেই।খুব অল্প দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। আবার টানা লক ডাউনের কারণে গো-খাদ্যের দামও বেশি।উৎপাদনকৃত দুধের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অধিকাংশ খামারি।

স্হানীয় দুগ্ধ খামারি আবু তাহের বলেন,লক ডাউনের কারণে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ কিনছে না। তাই অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এলাকায় প্রতি কেজি দুধ ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছি। অন্য সময়ে প্রতি কেজি দুধ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতো বলে জানান তিনি।ফলে খামারিরা পড়েছে চরম ক্ষতির মুখে।জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়,অনেক লোক আছে দু-একটি গরু পালন করে দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুধের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।

পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতে খামারি ও প্রান্তিক খামারিদের ভুতুর্কি দেওয়ার সরকারি ব্যবস্হা থাকলেও বাংলাদেশের খামারিদের জন্য এমন ব্যবস্হা নেই। ফলে এমনভাবে চলতে থাকলে ধ্বংস হবে দুগ্ধ শিল্প ও দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামার।এমতাবস্হায় এই শিল্পকে বাচাঁতে সরকারি ভাবে দুধ সংগ্রহের দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: