মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

করোনা: লকডাউনে কক্সবাজার সাগর তীরবর্তী পাহাড়ে অভাবনীয় পাখির মেলা!

  • সময় রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক::
করোনা সতর্কতা লকডাউনের কারণে পর্যটন শহরের রাস্তাঘাটে যান্ত্রিক গর্জন কম। আকাশেও দেখা মিলছে না বিকট শব্দে সৈকতের নীচু এলাকা দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানগুলো। ফলে যান্ত্রিকতার গর্জন ছাপিয়ে এখন প্রকৃতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে পাখপাখালীর মধুর শব্দ। গত প্রায় ৩ সপ্তাহের লকডাউনের কারণে কক্সবাজার টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী পাহাড়গুলোতে অভাবনীয় পাখির সমাবেশ ঘটেছে। হারিয়ে যাওয়ার বিশাল পাখির দলের আকাশে ভেসে ভেড়ানোর সেই দৃশ্যও ফিরেছে। পাখির এমন অভাবনীয় সমাবেশে বিস্মিত স্থানীয় লোকজনও।
করোনা সতর্কতায় কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ১৮ মার্চ থেকে। একটু পর পর আকাশ থেকে বিমানের বিকট শব্দও আর ভেসে আসছে না। রাস্তাঘাটে গাড়ী চলাচলও কম। পর্যটন শহরে যান্ত্রিকতার গর্জন ছাপিয়ে শোনা যাচ্ছে পাখপাখালীর মধুর সুর। নানা জাতের পাখির বিশাল দলের আকাশে ভেসে বেড়ানোর দৃশ্যও ফের দেখা যাচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে।
পাহাড় ও সমুদ্র তীরে প্রায় আড়াইশ বছর আগে বৃাটিশ আমলে গড়ে ওঠে শহরটি। তবে পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে এবং স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে ব্যস্ত পর্যটন শহরে পরিণত হয় কক্সবাজার। এখন কক্সবাজার শহরে গড়ে ওঠেছে প্রায় দেড় লাখ মানুষের সুিিবধা সম্বলিত চার শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস। গত ৩ দশকে শহর বড় হয়েছে অন্তত ১০ গুণ। কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কি.মি দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও নগরায়ণ হয়েছে। ফলে গাছপালা ও বনাঞ্চল কমে পাখপাখালী ও জীবজন্তুর আবাস সংকোচিত হয়েছে। যান্ত্রিকতার কর্কশ গর্জনে হারিয়ে গেছে প্রকৃতির সদস্যদের মধুর গর্জন। কিন্তু নজিরবিহীন নির্জনতার এ সুযোগে ডানা মেলতে শুরু করেছে প্রকৃতি। সৈকতে ও সাগরতীরবর্তী পাহাড়গুলোতে বিনা বাধায় উদ্ভিদগুলো বেড়ে ওঠার সুযোগ পাওয়ায় এখানে বিচরণের জন্য ফিরে আসছে হারিয়ে যাওয়া শত শত পাখির বিশাল দল। রোববার কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগরে গিয়ে দেখা গেল এমন অভাবনীয় পাখির ঢল। সৈকত সংলগ্ন কৃষি জমিতে দেখা গেল ঘুঘু, ফিঙে, শালিক, বাতাসী, চড়–ই, পেঁচা, মাছরাঙা, লেজ নাচুনী, বকসহ নানা জাতের পাখির সমাবেশ, আর সৈকত সংলগ্ন বানরের পাহাড়ের (প্রস্তাবিত জীববৈচিত্র সংরক্ষণ পার্ক) খাড়া ঢালে বাসা তৈরির জন্য গর্ত খুঁড়তে দেথা গেল শত শত সুঁইচোরাকে। সুঁইচোরার পাশে গর্ত করে বাস করছে শালিক, কাঠ শালিক, চড়–ইসহ আরো বিভিন্ন জাতের পাখি।
স্থানীয় দরিয়ানগর বার্ড ক্লাবের সদস্যরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এখানে শত শত সুঁইচোরা এসে গর্ত খুঁড়তে শুরু করে। আগেও এখানে এসব পাখি বাসা তৈরি করত। তবে এবারের ঘটনা নজিরবিহীন।
একই দৃশ্য কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কি.মি দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন যেসব খাড়া ও বিধ্বস্ত পাহাড় রয়েছে সেগুলোতেও দেখা যাচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যকর্মী ডা. জাকির হোসেন।
দরিয়ানগরের ভিসিজি সদস্য ছৈয়দ আলম জানান, লোকালয় ও লোকালয় সংলগ্ন পাহাড়েও পাখির বিচরণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
কক্সবাজার চেম্বার সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মাত্র ৩ দশক আগেও কক্সবাজার শহর ও শহরতলীর বনাঞ্চলগুলো বৈচিত্রময় উদ্ভিদ, পাখ-পাখালী ও জীবজন্তু সমৃদ্ধ ছিল। এখানে বাঘ, হরিণসহ বিরল প্রজাতির পাখির দেখা মিলতো। মাত্র ৩ বছর আগেও দরিয়ানগর-হিমছড়ি বনাঞ্চল পেরিয়ে সৈকতে চলে আসা একটি হরিণ উদ্ধার হয়। কিন্তু এখন আর হরিণের ডাক শোনা না গেলেও গত ৩ সপ্তাহের নির্জনতার সুযোগে প্রকৃতিতে প্রাধান্য বিস্তার করেছে পাখির কলতান।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: