শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

সোনাইছড়ির মূল ঘটনা কি?

  • সময় শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

উখিয়ার জালিয়াপালং পশ্চিম সোনাইছড়িতে সপ্তাহখানেক আগে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আবছার নান্নু ও তার ভাইদের সাথে এনজিওকর্মী দেলোয়ার হোসেনসসহ কয়েকজনের সংঘর্ষ হয়।

এতে নান্নু ও তার পক্ষের লোকজনের ছুরিকাঘাতে দেলোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই সময় আহত হয়েছিল আরো বেশ কয়েকজন।

এ ঘটনায় ৩১ মার্চ উখিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ভিকটিমের ছোট ভাই মোবারক হোসেন। যার মামলা নম্বর -৪৫। এ মামলায় ৩ জনকে আসামী করা হয়।

তারা হলো- পশ্চিম সোনাইছড়ি এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন, দুই ছেলে নুরুল আবছার নান্নু ও আহমদ শরীফ।

৩ এপ্রিল বিকাল ৪ টার দিকে আসামী আহমদ শরীফকে গ্রেফতার করে ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শামসুল আলম, সানা উল্লাহ আসরের নামাজের পরে দোকানে বসলে প্রতিপক্ষের সাথে বিতর্ক হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায়।

এতে সোনাইছড়ি গ্রামের আবদুস কুদ্দুস (৪৫), ফরিদুল আলম (৪৭ মো. হোসেন (২৫), মোঃ রনি (২১), মোহাম্মদ রাসেল (২২), শামসুল আলম (৩৫) সানা উল্লাহ (৪০), জাফর আলম (৪৫)সহ অনেকে আহত হন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আহমদের ছেলে মমতাজ মিয়া, মৌলভী ইসলামের ছেলে সিরাজ উল্লাহ ও বদিউল আলমের ছেলে হাকিম আলীকে গ্রেফতার করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, এসব ঘটনার সুত্র ধরে স্ট্রোক করেন নান্নুর মা নুর নাহার বেগম। তাৎক্ষণিক কোটবাজার অরজিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন। নুর নাহার বেগম সোনাইছড়ি গ্রামের আলী হোসেনের স্ত্রী।

এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডাঃ মেরাজ হোসেন চয়ন বলেন, নুর নাহার বেগমের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নি। হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে।

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার প্রকৃত ঘটনা তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরী ও নুর নাহার বেগম মারা যাওয়ার পেছনে শামশু আলম সোহাগ ও সানা উল্লাহসহ কয়েকজনের ভূমিকাকে দায়ী করছে স্থানীয়রা।

আসামী ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তারা দুইজনে মিলে দুই পক্ষকে উত্তেজিত না করলে হয়তো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না বলে ধারণা প্রত্যক্ষদর্শী লোকদের।

ঘটনায় কারা জড়িত তা সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী স্থানীয়দের। এতে স্থানীয় ‘নাইন স্টার গ্রুপ’ নামের একটি সংগঠনকে দায়ী করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ সাহা বলেন, আলী হোসেনের ছেলে আহমদ শরীফ নিয়মিত মামলার আসামী। তাকে গ্রেফতার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

তবে, এসব ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্যও রয়েছে মাঠে।

গত তিন দিন আগে নান্নুর জীবাণু নাশক স্প্রে ছিটানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে বলে এক পক্ষের দাবী।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আবছার নান্নুসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন মোবারক হোসেন। আসামীরা বাড়ীতে আছে খবরে তাদের ধরতে স্থানীয় মেম্বার শামশুল আলম প্রকাশ শমশু ডাকাতের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। স্বামী ও সন্তানদের মারধর করতে দেখে এগিয়ে যান নান্নুর মা নুর নাহার বেগম। এ সময় তাকেও মারধর করা হয়।

নির্মমতা সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন নুর নাহার বেগম।

তাকে দ্রুত কোটবাজার অরজিন হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার ‘মৃত’ ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা চলছে সোনাইছড়িতে।

ঘটনার সুষ্টু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি মকবুল হোসেন মিথুন।

নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন উপজেলা যুব লীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদ। তিনিও ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

করোনার আতংকের সময়ে এমন ঘটনা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না এলাকাবাসী।

c/সিবিএন:

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: