শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

উজিরপুরে ভাঙ্গারী বাচ্চুর অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী

  • সময় শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ১০৯ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব মুন্ডপাশা গ্রামের মৃত বাবুল বেপারীর পুত্র বাচ্চু বেপারীর বেপরোয়া কর্মকান্ডে ক্রমেই অতিষ্ট হয়ে পরেছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। এতোদিন বাচ্চুর ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস না পেলেও বিগত ও বর্তমানে প্রকাশ্যে কয়েকটি অপরাধ সংঘঠিত করায় ওই এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।
শিকারপুর বন্দরের ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম করিম খান জানান, পূর্ব মুন্ডপাশা গ্রামের বাচ্চু বেপারী এক সময় শিকারপুর ফেরিঘাটের টোকাই ছিলো। পরবর্তীতে সে (বাচ্চু) শিকারপুর বন্দরের মাছ বাজারে ঘুরে ঘুরে পলিথিন বিক্রি করতো। এমনকি সে সময় ফেরিঘাট কেন্দ্রীক একটি চোরচক্রকেও নিয়ন্ত্রন করতো বাচ্চু। এমনকি এলাকার বিভিন্নস্থানে ছিচকে চুরি করে কয়েকবার ধরা পড়ে গণপিটুনি খায় সে। ২০০৩ সালে দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতু উদ্বোধন হলে শিকারপুর বন্দরের ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বাচ্চুর চুরির ব্যবসায় ভাটা পরে। এরপর শিকারপুর বন্দরে শুরু করে ভাঙ্গারির ব্যবসা। সেই থেকে এলাকায় তাকে সবাই ‘ভাঙ্গারি বাচ্চু’ হিসেবে চিনে। পরে ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে ফেন্সিডিল বিক্রি শুরু করলে সে সময় তার দোকান থেকে ফেন্সিডিল উদ্ধার করে আইন শৃংখলা বাহিনী। এরপরই মাধ্যমিকের গন্ডি না পেরেনো বাচ্চু হঠাৎ নিজেকে পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় শুরু করে লাগামহীন চাঁদাবাজি। তিনি আরও জানান, বাচ্চু এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে শিকারপুর বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির মধ্যে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে তাদের সাথে থাকা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছিলো। সেই মামলা এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়াও গত কয়েক মাস আগেও বাচ্চু ইচলাদি বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে গভীর রাতে অবৈধ মেলামেশা করতে গিয়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে পরে। এক পর্যায়ে সেখানে স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হয়ে নিজের মোটর সাইকেল রেখে পালিয়ে এসে প্রানে রক্ষা পায়। এমনকি একাধিকবার চাঁদাবাজি ও নারীর সাথে অবৈধ মেলামেশা করতে গিয়ে জনতার হাতে গণপিটুনির শিকারও হয়েছে বাচ্চু। আর বাচ্চুর এসব অপকর্মের নিত্যদিনের সঙ্গী তার মাদক বিক্রেতা দুই ভাই মিঠু ও লিটন বেপারী।
সন্ত্রাসী বাচ্চুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় কমপক্ষে দশটি মামলা রয়েছে দাবী করে ওই ব্যবসায়ী আরও জানান, অতি সম্প্রতি তার (শফিকুল আলম করিম) ভাই শাকিল মাহামুদ আউয়াল খাঁন শিকারপুর বন্দরে একটি ফার্মেসীর কাজ শুরু করলে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে বাচ্চু। একপর্যায়ে বাচ্চুকে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিকারপুর বন্দরের মধ্যে ব্যবসায়ী আউয়াল খাঁনকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে বাচ্চু ও তার মাদক ব্যবসায়ী দুইভাইসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা। এঘটনায় সন্ত্রাসী বাচ্চুর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হলেও রহস্যজনক কারনে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে বাচ্চুসহ হামলায় অংশগ্রহনকারীরা। তিনি (করিম খাঁন) কথিত সাংবাদিক বাচ্চুর হাত থেকে রক্ষায় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: