সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পাননি ত্রাণসামগ্রী, কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরল ৩০০ পরিবার

  • সময় বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩০৪ বার পড়া হয়েছে

সরকারি ত্রাণসামগ্রী হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজে’লার নুরপুর ইউনিয়নে গতকাল বুধবার বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের ১৫০ জনের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ত্রাণের চাল-ডাল। তবে অধিকাংশ হতদরিদ্র ত্রাণের চাল-ডাল না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে গেছেন।

গতকাল বুধবার শায়েস্তাগঞ্জ উপজে’লা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল, উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) সুমী আক্তার, ইউপি চেয়ারম্যান মুখলিছ মিয়ার উপস্থিতিতে কয়েকটি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। বাকিরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও ত্রাণসামগ্রী পাননি।

এ সময় দেখা গেছে, ত্রাণসামগ্রী নেয়ার জন্য বুধবার দুপুর ১টা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমান হতদরিদ্ররা। বিকেলে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়। মাত্র দেড় শতাধিক লোকজনকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে ত্রাণ বিতরণ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ অবস্থায় ত্রাণসামগ্রী না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে গেছে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। ত্রাণ না পেয়ে অনেকেই কা’ন্না কা’ন্না করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরেছেন।

এ সময় শায়েস্তাগঞ্জ উপজে’লার নুরপুর ইউনিয়নের সুরাবই গ্রামের হালেমা খাতুন, কুলসুম, শ্যামলা বেগম, ফুল বানু, মনোয়ারা বেগম, ছমির আলী, সুফিয়া বেগম, প্রতিব’ন্ধী রফিক মিয়া, পুরাসুন্দা গ্রামের বৃদ্ধ পত্রিকা বিক্রেতা উম্বর আলী ও আইয়ুব আলীসহ শতাধিক ব্যক্তি ত্রাণ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন।

এ সময় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে আমাদের ঘরে খাবার নেই। আজ সারাদিন দাঁড় করিয়ে রেখে আমাদের খালি হাতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাড়ি গিয়ে আম’রা খাব কী’? আমাদের জন্য বরাদ্দ নেই?।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুখলিছ মিয়া বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ এসেছে দেড়শতাধিক লোকের জন্য। কিন্তু পাঁচ শতাধিক লোকজন এসেছেন ত্রাণের জন্য। সবাইকে ত্রাণ দেয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরে গেছেন।’

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজে’লা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ তালুকদার ইকবাল বলেন, ‘ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থদের তালিকা দেখে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। করো’নাভাই’রাসের কারণে লোকজনের রোজগার না থাকায় তালিকার বাইরের লোকের উপস্থিতি বেশি ছিল। সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রীর পরিমাণ না বাড়লে গ্রামের কর্মহীন, হতদরিদ্র মানুষকে না খেয়ে থাকতে হবে। তাই এ বিষয়ে সবার একান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন।’

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: