বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

তথ্য গোপন করে মহামারী এড়ানো যাবে না: রিজভী

  • সময় বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

তথ্য গোপন করে করেনা মহামারী এড়ানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করা যাবে না। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে এই রোগের ভয়াবহতা বুঝিয়েই জনগণকে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ, সুরক্ষা ও প্রতিকারে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দিয়ে মানুষের আস্থা তৈরি করা উচিত। সরকারের তথ্য গো’পন পলিসির সমালোচনা করার কারনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত কয়েকদিনে বিএনপির ১২ নেতাকর্মী ও চিকিৎসকদের গ্রে’ফতার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কন্ফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন, করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে রোগের পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে দেশে পরীক্ষা নিয়ে নানা জটিলতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিংবা সরকারী পরিসংখ্যানের আপডেট এখন কেউ আর বিশ্বা’স করছে না। অন্ধ হলেই কি বন্ধ হবে প্রলয়!

‘এই সংকটময় সময়ও বিএনপি জনগণের পাশে নাই। তারা সরকারের সমালোচনা করে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অ’পতৎপরতায় লিপ্ত।’ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, আমি বলতে চাই- গণতন্ত্রকে যাদুঘরে পাঠিয়েছেন বলেই সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধ’রাকে অ’পতৎপরতা হিসেবে অ’ভিহিত করছেন। সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে সমালোচনা করাকে প্রকৃত গণতন্ত্রে অ’পতৎপরতা হিসেবে গণ্য করে না। আপনাদের গণতান্ত্রিক মানস নেই বলেই সমালোচনা শুনলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এই মহাদুর্যোগে যখন মানুষ জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে তখন ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য বিভাজন ও বিভেদেরই প্রতিফলন। কি কারণে যেন আপনারা সমালোচনার শ’ঙ্কায় অস্থির থাকেন।

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন তিনি কোয়ারেন্টাইনে থেকে কি বিএনপির সমালোচনা ছাড়া কিছুই বোঝেন না? যখন করো’নার প্রাদুর্ভাব শুরু হলো তখন আম’রাই রাজপথে নেমেছি, সারাদেশের সর্বত্রইা প্রথম সচেতনতা শুরু করেছি। আম’রা এবং আমাদের দলের ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই দুঃসময়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শ্রেণী-পেশার সংগঠন অর্থাৎ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করার আহবান জানিয়েছেন। সামাজিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সকল ভেদাভেদ ভুলে এখন সকলের একজোট হওয়ার সময়। আমাদের দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সারাদেশে যে যেভাবে পারছেন দলের নির্দেশ অনুযায়ী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশের প্রতিটি দুঃসময়ে জনগণের পাশে থেকেছে এবং আছে।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার যিনি গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছেন, তাকে দীর্ঘ ২৬ মাস বিনা দোষে কারাগারে আ’ট’কিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি গুলশানস্থ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। এমতাবস্থায় তার নিরাপত্তার জন্য মাননীয় চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আইজি বরাবরে আবেদন করলেও এ বিষয়ে এখনো পু’লিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি অবিলম্বে বিএনপির মাননীয় চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পু’লিশের আইজিপির কাছে অনুরোধ করছি।

রিজভী আরো বলেন, মহামা’রী ‘নভেল করো’নাভাই’রাস (কোভিড-১৯)’ পুরো বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। দুর্যোগের কাছে মানুষের অর্থ, অ’স্ত্র, ক্ষমতা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সামান্য উঁচু-নীচুর ব্যবধানেও যেখানে মানুষ মানুষকে প্রতিপক্ষ-প্রতিযোগী ভাবতো, আজ মৃ’ত্যুর ভ’য় সবাইকে জড়োসড়ো করে ফেলেছে। জাতি, ধ’র্ম, বর্ণ, লি’ঙ্গের বিভেদহীন দূত হিসেবে প্রতিদিন শত শত মৃ’ত্যুর পরোয়ানা নিয়ে নতুন নতুন মানুষের দুয়ারে হাজির হচ্ছে প্রা’ণঘাতী করো’না। লাখ লাখ মানুষকে সংক্রমণ আর হাজার হাজার মানুষের মৃ’ত্যু বিশ্বকে আজ এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে ১৭৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৪ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ধ’রা পড়েছে। বাংলাদেশে সামাজিক পর্যায়ে সংক্রমিত হচ্ছে বলে স্বীকার করলেও তা মৃদু মাত্রায় রয়েছে বলে দাবী করেছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকার বলছে-সবকিছু নিয়ন্ত্রণে, পশ্চিমা মিডিয়া বলছে-আগামী দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য ঝুঁ’কিপূর্ণ। বাংলাদেশের গণমাধ্যমও এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। মৃ’ত্যু হানা দিচ্ছে দেশে দেশে। আর করো’না যদি এখনি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে তা ভ’য়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। ইতোমধ্যে বিদেশী কুটনীতিকরা দলে দলে ঢাকা ছাড়ছেন। আম’রা মনে করি সরকারের নীতির কারণেই দেশের করো’না পরিস্থিতির আসল চিত্র ফুটে উঠছে না। ভেতরে ভেতরে সংক্রমণ হতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। আজকের পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, গতকাল ২৪ ঘন্টায় করো’নার উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বা’সক’ষ্ট নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মা’রা গেছেন বেশ কয়েকজন। আর সরকারী হিসাবে মা’রা গেছে একজন।

রিজভী বলেন, এক্ষেত্রে পরীক্ষা বাড়ানোর পাশাপাশি লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের শ’ঙ্কা-হঠাৎই বাড়তে পারে ভ’য়াবহতা। সেক্ষেত্রে লকডাউন চালিয়ে যাওয়া, আরো বেশি বেশি টেস্ট করে পজেটিভ রোগী খুঁজে আইসোলেশনে নিয়ে আসা কাজে আসতে পারে। সে’নাবাহিনী আজ থেকে করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। আম’রা মনে করি-সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ বিপদ ঠেকানো সম্ভব নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: