শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

করোনা থেকে নেওয়া মানবতার শিক্ষা পরে যেন ভুলে না যাই

  • সময় বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৫০ বার পড়া হয়েছে

করোনা ইনসান (মানুষ) কে ইনসানিয়াত (মানবতা) এর শিক্ষা দিচ্ছে। ইনসানিয়াত বা মানবতা আমরা ভুলে গিয়েছিলাম বলেই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আমাদের নতুন করে শিক্ষা দিচ্ছেন। এই শিক্ষা আমরা যদি আবার ভুলে যায় তাহলে মহান আল্লাহ আবার হয়তো অন্য কোন নামে আরো বেশী মারাত্মক শক্তিশালী ভাইরাস বা আসমানী-জমিনী বালা মুসিবত দিবেন এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। তাই আসুন আজ বিশ্ব ইনসান বা মানুষ যেভাবে ইনসানিয়াত বা মানবতার শিক্ষা নিচ্ছেন সেই শিক্ষা যেন এই দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে ভুলে না যাই।

মহান আল্লাহ্ যাহা করেন নিশ্চয় মানব জাতির কল্যাণের জন্য করেন। যখন মানব জাতি সীমা লঙ্ঘন করেন তখন পৃথিবীতে আল্লাহ্ আসমানি গজব নাজিল করেন। বর্তমান সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে ঈমানের মজবুতি আনায়নে বিশ্ববাসীর সাথে আমরাও ব্যস্ত রয়েছি। কিছুসংখ্যক লোকের ধারণা মুসলমানদের কিছুই হবে না। কিন্তু আল্লাহর রহমত এবং গজব যাই আসুক তা সবার জন্যই আসে।

এজন্য মহনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নির্দেশিত আমল গুলো মেনে চলার জন্য ইহুদী খ্রীষ্টান গবেষকরাও আহ্বান জানিয়েছেন। পৃথিবীর বড় বড় ডাক্তার, বিজ্ঞানী, গবেষকরা আজ অসহায় এবং সমাধানের রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে তারা সবাই বুঝতে পেরেছেন যে, এর সমাধান একমাত্র তারই হাতে যিনি সমগ্র জাহানের মালিক। দাম্ভিকতা ছেড়ে দিয়ে পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্র প্রধানগণও আকাশের মালিকের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সব খারাপেরই কিছু না কিছু ভালো দিক থাকে, চলুন এই খারাপ সময়ের মধ্যেও করোনা আক্রান্ত মানবসভ্যতার ভালো দিক গুলো দেখে নিই। শহর হয়েছে শান্ত, ভুমিতে আকাশে এখন আগের মত কোন প্রকার যান্ত্রিক দানব নেই, রয়েছে শুধু ডানা মেলার শব্দ। যান্ত্রিক দানব নেই সেই ভাগ্য পরিবর্তনের রাস্তায়।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ক’দিনে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আংশিক বা পূর্ণ লকডাউনে পরিবেশ দূষণের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত ভাবে কমেছে। আকাশের দৃশ্যমানতা বেড়েছে, পৃথিবীর সর্ব বৃহত সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্রের ধারে অনেক দিন পর আবার ডলফিনের ঝাঁক দেখা গেছে। পরিযায়ী পাখিরা আবার ফিরে আসছে। হিমবাহের বরফের গলন কমেছে। প্রকৃতি আবার একটু শ্বাস নিতে পারছে।

কর্মব্যস্ততা, বন্ধু বান্ধব, পার্টি এসবের জন্য যারা পরিবারের লোকজনকে সময় দিতে ভুলে যাচ্ছিলেন, তারা বহু দিন পর একে অপরকে সময় দিতে পারছেন। বহুদিন পরে অনেকে আলমারির ধুলো মাখা না পড়া বইটা বা ভালোলাগার গল্পগুলো নিয়ে পড়তে বসতে পারছেন। পারমাণবিক বোমা, মিগ বা রাফায়েল বিমান দিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে মানুষের প্রাণ নেওয়া যে অনেক সোজা কাজ যারা মনে করত, কিন্তু মানুষের প্রাণ বাঁচানো যে অনেক কঠিন কাজ সেটা আজ অনেক রাষ্ট্রনায়করাও বুঝতে পেরেছেন।

নানা আদর্শে অনুপ্রাণিত আত্মঘাতী জঙ্গিরাও আজ প্রাণ ভয়ে ডেরায় সেঁধিয়ে গেছে।

নাগরিকত্বের প্রমাণ ছাড়াই আজ দেশজুড়ে লোকজন সকল দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেদের নাগরিকত্বের কর্তব্য পালনের সহমত পোষণ করছেন। কোন সরকারী দপ্তর থেকে আজ তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়ে তারপর নাগরিকের দায়িত্ব পালন করতে গেজেট নোটিফিকেশন করেনি। অনেক সংশোধনাগারের জেল বন্দীরা বাইরের মুক্ত মানুষদের জন্য লক্ষ লক্ষ মাস্ক/ উপকরণ তৈরী করতে আজ ব্যস্ত।ধর্মগুরুরা আজ নিজেদের মুখ লুকিয়েছে,পবিত্র কাবা শরীফ হয়েছে জনশূন্য। পুরীর মন্দির, শ্রীনগরের হজরতবাল দর্গা, রোমের ভ্যাটিকান আজ বন্ধ।

আজ মানব জাতির প্রাণ বাঁচাতে সবার সামনের সারিতে আছেন চিকিৎসক আর বিজ্ঞানীরা। সারাবছর প্ররোচণা জোগানো নেতারা আজ সেল্ফ কোয়ারেন্টাইনে। প্রকৃত জননেতারা আজ মানুষের নেতৃত্বে সামিল হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী সহ সমস্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আজ রাজপথে নেমে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন নিজেদের জীবনের মায়া ছেড়ে দিয়ে। বৈশ্বিক এই ক্রান্তিলগ্নে যারা সম্মুখ যুদ্ধের মহা সৈনিক আমাদের দেশের চিকিৎসক সমাজ। আমরা তাদের কসাই বলতাম এবং তাদের উপর হামলা করতাম। তাদের বিরুদ্ধে সভা সমাবেশ মিছিল মানব বন্ধন করতাম। বর্তমান সময়ে আমরা কেউ আর ডাক্তার মারার কথা বলছিনা মিছিল মিটিং করছিনা। সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মহান আল্লাহ/ ঈশ্বর/ ভগবান বলেন সকল কিছুর মালিক সৃষ্টি কর্তার কাছে সেই ডাক্তারদের সুস্থতা কামনা করছি।

দেশে হঠাৎ করে চুরি ডাকাতি অন্যায় দুর্নীতি হিংসা ও হানাহানি বন্ধ হয়ে গেছে। নারীরা আজ অনেক বেশী সুরক্ষিত, ধর্ষন শূন্য দেশ। যে মিনিমাম হাইজিনটা এতবছর কাউকে দিয়ে মানানো যায়নি সেটা আজ বেশীরভাগ লোকজনই মানছেন। দুহাতে পয়সা অপচয় করা লোকজন আজ মিনিমাম জিনিস দিয়ে জীবন যাপন করেই খুশি রয়েছেন। জ্যোতিষীদের আজ বিপদের মোকাবিলায় স্টোন গছাতে দেখা যাচ্ছেনা। ঘৃনার বদলে ভালোবাসা আর মানবতার রাজ চলছে চারদিকে। মৃত্যুভয় ভীষন নিষ্ঠুর, জীবনের থেকে প্রিয় আর কিছু নেই, তাই আজ পৃথিবীটা খুব অচেনা লাগছে।

কোভিড ১৯ পরবর্তী পৃথিবী এক নতুন পৃথিবী হবে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া মানুষদের জন্য গত ক’দিন থেকে চিন্তা করছি এই নিশ্চিত মৃত্যুর পূর্বক্ষনে সংশ্লিষ্ট সবার থেকে মাফ চেয়ে নিচ্ছি।
আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে আবার অনেক কাজ করতে পারবো ইনশাল্লাহ।

আমার শুভাকাঙ্ক্ষী আত্মীয় ও আপনজন পরিবারের লোকেরা সহি সালামতে থাকলে আপনার দেনা-পাওনা দিতে এবং নিতে কোন সমস্যা হবে না

পরিশেষে নিবেদন করছি, আমার অতীত চলার পথে আমি আপনাকে/আপনাদের যে কষ্ট দিয়েছি তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আমিও আপনাকে আপনাদের ক্ষমা করে দিলাম। আমাদের পেছনের সমস্যা ছিল ইনসান (মানুষ) শব্দের অর্থ ভুলে যাওয়া। ইনসানের (মানুষের) থাকতে হয় ইনসানিয়াত (মানবতা) এবং ইনসাফ ( ন্যায় বিচার) এই দুটি গুণ থাকলেই ইনসান (মানুষ) হওয়া যায়। আজ বৈশ্বিক মহামারী কোভিড নাইন্টিন করোনা নিয়ে মহান আল্লাহ আমাদের যে ইনসানিয়াতের (মানবতার) শিক্ষা দিচ্ছেন। আমরা সৃষ্টির সেরা জীব ইনসান (মানুষ) হয়ে আমাদের শ্রেষ্ঠ গুণাবলি ইনসানিয়াত (মানবতা) এর এই শিক্ষা পরবর্তী সময়ে আবার ভুলে যাই।

পরিশেষে যে যেখানে থাকুন,পরিবার পরিজনসহ ভালো থাকার জন্য আল্লাহর নিকট পারস্পরিক দোয়া কামনা করছি। সকল মুসলমান ভাইয়েরা মহান আল্লাহর কাছে এই বৈশ্বিক মহামারী কোভিড নাইন্টিন করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে এই দোয়াটি পড়ি। যে দোয়াটি আমাদের প্রিয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিজে পড়তেন আমাদেরও পড়তে বলে গেছেন। “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারাছি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুযামি ওয়ামিন সাইয়িল আসকাম”।

লেখকঃ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ (সাবেক সরকারি কর্মচারী) ০১৭১৫০৫১১১৮

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: