সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

নির্দেশনার পরও রোহিঙ্গা শিবিরে বিদেশিদের আনাগোনা, করোনার উদ্বেগ

  • সময় বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৭৭ বার পড়া হয়েছে

মরণঘাতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারা দেশসহ কক্সবাজার জেলার পরিস্থিতি একইরকম হলেও দেশের সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের পরিস্থিতি রয়েছে ভিন্ন রকমের। রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত দেশি-বিদেশি এনজিওগুলোকে শিবিরে যাবার ব্যাপারে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও কেউই সেই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সীমান্তের ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির নিয়ে এলাকাবাসীর কাছে করোনা আতঙ্ক দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।

এমনকি গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে রোহিঙ্গা শিবির নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সেখানে বিদেশিদের যাতায়াত না করতে অনুরোধ জানান। সরকারের শীর্ষ নির্বাহী হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর এরকম অনুরোধের একদিন পর বুধবার দেখা গেছে, কক্সবাজার থেকে শিবিরমুখী শত শত যানবাহনের ঢল। লকডাউনের কারণে কক্সবাজার জেলা শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ এবং টেকনাফ সড়কের ৪৫ কিলোমিটার জুড়ে কোনো যাত্রীবাহী গাড়ির যাতায়াত না থাকলেও এনজিও গাড়ির ভিড়ে দীর্ঘ জ্যামের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে এনজিও যানবাহনের জটলার বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে এসেছে। তদুপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দ্দেশনার পরেও শিবিরে বিদেশিদের যাতায়াত নিয়ে আমি উখিয়ার ইউএনওকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দ্দেশ দিয়েছি।
তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইন সবাইকেই মানতে হবে। না মানলে তারও ব্যবস্থা রয়েছে।
দেশে চলমান লকডাউন পরিস্থিতি বিরাজমান সময়ে রোহিঙ্গা শিবিরমুখি শত শত যানবাহনের স্রোত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা চলছে। দেশের প্রচলিত আইন সবার জন্যই সমান বলে যে কথাটি রয়েছে সেটি রোহিঙ্গা শিবিরের ব্যাপারে কার্যকর নয় কেন-এমন প্রশ্নই উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বুধবার কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল কেবল মাত্র এনজিওর যানবাহনগুলো নিয়ে।

উখিয়া উপজেলার রুমখাঁ চৌধুরী পাড়ার সমাজকর্মী রাসেল চৌধুরী এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, উখিয়া-টেকনাফের বাসিন্দাদের দ্বিগুণ হচ্ছে ৩৪টি শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের একটি বড় সংখ্যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তাদের হাতে বেশীর ভাগই বাংলাদেশের ভুয়া পাসপোর্ট। এসব প্রবাসী রোহিঙ্গাই আমাদের ঝুঁকিতে রেখেছে।

তিনি বলেন, এনজিওগুলোতে কর্মরত শত শত কর্মী স্থানীয়সহ দেশের নানা প্রান্তের বাসিন্দা। তাদের শিবিরে আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর ঝুঁকি বরাবরই থেকে যায়।

এসব বিষয়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গা শিবিরের খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও করোনা সচেতনতা সৃষ্টিসহ তিনটি কাজে জড়িত এনজিও কর্মীদেরই শিবিরে যাতায়াত অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর বাইরে যেসব এনজিওকর্মী এবং বিদেশিরা যাতায়াত করছে সেই বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: