শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

“তথ্য আপা” ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) উপলক্ষে আলোচনা সভা

  • সময় বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২০
  • ২৮৭ বার পড়া হয়েছে

মহিবুল ইসলাম সৌরভ :
“শেখ হাসিনার বারতা, নারী-পুরুষের সমতা” “শেখ হাসিনার সহায়তায়, তথ্য আপা পথ দেখায়” এই শ্লোগানে আজকে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের সিএনবি ডিগ্রী কলেজে ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা মাহবুবা শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিএনবি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ, উপস্থিত ছিলেন অত্র কলেজের অধ্যাপক এবং অধ্যাপিকা। আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্যসেবা সহকারী আয়েশা সুলতানা, মুন্নি ইয়াসমিন, অফিস সহায়ক তানজিলা আক্তার প্রমুখ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাধবী রায়। বাংলাদেশের ৪৯০ টি উপজেলা প্রত্যেকটিতে প্রকল্পের আওতায় একটি করে তথ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

প্রতিটি তথ্য কেন্দ্রে ১ জন তথ্য সেবা কর্মকর্তা। ২ জন তথ্যসেবা সহকারী তথ্য সেবা প্রদানের কাজে নিয়োজিত আছেন। এরাই প্রকল্প এলাকা “তথ্য আপা” হিসেবে পরিচিত। তথ্য আপার তথ্য কেন্দ্রে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, উপজেলা সরকারি সেবা সমূহের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ, ভিডিও কনফারেন্স, ই লার্নিং, ই কমার্স ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তথ্য আপার ল্যাপটপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকাধীন গ্রামবাসীর বাড়িতে গিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, ব্যবসা, জেন্ডার ও কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য সেবা প্রদান করেছেন। উপস্থিত সকলের সামনে তথ্যকেন্দ্রের সেবাসমূহ তুলে ধরেন উপজেলা তথ্য সেবা অফিসার মাহবুবা শিকদার। তিনি বলেন, বিনামূল্যে চাকরির খবর, চাকরির আবেদন পূরণ, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল প্রদান, মহিলাদের দিকনির্দেশনা প্রদান, মহিলাদের উদ্যোগী হিসেবে গড়ে তোলা, উঠান বৈঠক মুক্ত আলোচনা গ্রামীণ মহিলাদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বাল্যবিবাহ, ফতোয়া, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, চাকরি সংক্রান্ত তথ্য, আইন গত সমস্যা ও ডিজিটাল সেবা সমূহের নানা দিক সম্পর্কে অবহিত করা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ব্লাড প্রেসার পরিমাপ, ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা প্রদান, উপজেলা সরকারি সেবা সমূহের নিশ্চিত করা, বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, স্কাইপের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স সেবা প্রদান করা, ই লার্নিং এর মাধ্যমে প্রযুক্তি সম্পূর্ণ দল গঠন করা, সহায়তা প্রদান ল্যাপটপ ইন্টারনেটের ব্যবহার করে প্রকল্প এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন, ব্যবসা ইত্যাদি। সিএনবি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ উপস্থিত সকলের জন্য সচেতন মূলক তথ্য তুলে ধরেন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের শপথ করান। সেইসাথে বাল্যবিবাহ সম্বন্ধে বলেন, বাল্যবিবাহ হল অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিবাহ। আইনত বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর, বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে।

কিন্তু বিশেষ ক্ষেত্রে অভিবাবকের অনুমতি সাপেক্ষে এই বয়সের আগেও বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়। যদিও আইন অনুযায়ী বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর, তারপরও কিছু কিছু দেশের নিজস্ব প্রথাকেই আইনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। বাল্যবিবাহে মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের উপরই প্রভাব পড়ে। তবে মেয়েরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিশেষত নিম্ন আর্থসামাজিক পরিস্থিতির কারণে। বেশিরভাগ বাল্যবিবাহে দুজনের মধ্যে শুধু একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। বিশেষত মেয়েরাই বাল্যবিবাহের শিকার বেশি হয়। বাল্যবিবাহের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানত – দরিদ্রতা, যৌতুক, সামাজিক প্রথা, বাল্যবিবাহ সমর্থনকারী আইন, ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ, অঞ্চলভিত্তিক রীতি, অবিবাহিত থাকার শঙ্কা, নিরক্ষরতা এবং মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবা, বিভিন্ন কারনেই বাল্যবিবাহের প্রচলন অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দারিদ্রতা, নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণসমূহ। এখনও উন্নয়নশীল দেশসমূহ, যেমন, আফ্রিকার কিছু অংশ,দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া,লাতিন আমেরিকাএবং ওশেনিয়া প্রভ্রৃতি দেশে বাল্যবিবাহ বহুল প্রচলিত।

নাইজার, চাদ, মালি, ভারত, বাংলাদেশ, গিনিও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে বাল্যবিবাহের হার সবচাইতে বেশি, যা প্রায় ৬০% এর উপর। ২০০৩-২০০৯ জরিপ অনুযায়ী, নাইজার, চাদ, বাংলাদেশ, মালি এবং ইথিওপিয়াতে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের বাল্যবিবাহের হার ২০% এর উপর। ১০০ জন কলেজ শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আলোচ্য বিষয় ছিল করোনাভাইরাস সম্বন্ধে শিক্ষার্থীদের সতর্কমূলক বার্তা প্রদান।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: