সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ১২:২৩ অপরাহ্ন
নোঠিশ
ওয়েব সংষ্কারের কাজ চলিতেছে। সাময়িক অপরাগতার জন্য দু:খিত

”আমাকে আটক করতে হলে পেছনে থাকা আরও একশো জনকে আটক করতে হবে ”

  • সময় বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২০
  • ৫৬০ বার পড়া হয়েছে

ফদনার ডেইলের ত্রাস রোজিনার দম্ভোক্তি

আলোকিত প্রতিবেদন::
কক্সবাজার শহরের ১নং ওয়ার্ড ফদনার ডেইলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠা ক্রাইমকুইন খ্যাত রোজিনা আক্তার (৩৫) এখন প্রশাসনের নজরদারীতে। কিন্তু অতীতে তার অপকর্মের বিষয়ে প্রশাসন যখনই নড়েচড়ে বসেছে তখনই তার অসীম ক্ষমতা প্রদর্শন করে অধরা থেকে যান। এমনকি দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন- আমাকে ধরতে হলে এর আগে আমার পেছনে থাকা আরও একশো জনকে আটক করতে হবে। রোজিনা তার বিশ্বস্ত কারও সাথে এমন একটি চ্যাঞ্চল্যকর আলাপের অডিও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। একারণে এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণের শঙ্কার জায়গাটি এখনও থেকে যাচ্ছে। অনেকটাই জগদ্ধল পাথরের মতো চেপে বসা রোজিনা নামের এই ত্রাস নারীর কবল থেকে রেহাই পেতে চান শহরের ১নং ওয়ার্ডের ফদনারডেইলবাসী। সর্বশেষ গতকাল ১১ মার্চ রোজিনার নানা অপকর্মের বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন চৌধুরীকে অবগত করা হলে তিনি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। রোজিনার অভিযোগ- ব্যবসায়ী অথবা সাধারণ মানুষকে ধরে এনে টাকা আদায়, জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, বানোয়াট মামলা, ইয়াবা পাচার, মানব পাচার, যৌনকর্মী সরবরাহসহ নানা অপকর্মে জড়িত এই নারী। সমাজের বখে যাওয়া কতিপয় যুবক-যুবতী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহার করে রোজিনা এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার অবাধ্য কিংবা বিরোধিতাকারীদের উচিত শিক্ষা দিতে প্রস্তুত করেছে একাধিক টর্চার সেল। সেখানে রোজিনার নেতৃত্ব চলে নিয়মিত নির্যাতন ও অত্যাচারের মহড়া। তার কারণে পুরো এলাকাবাসী এখন ভীত সন্ত্রস্ত। রোজিনার ক্ষমতার প্রভাব এত বেশি যে- সাধারণ লোকজন তো নয়ই; মুখ খোলেন না এলাকার অন্যান্য জনপ্রতিনিধি পর্যায়ের লোকজনও। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ- স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একজন দাপুটে নেতার আশ্রয়েই রোজিনা এখন পাপিয়া হয়ে উঠেছে। সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী- ২০১৪ সাল থেকে রোজিনা কমপক্ষে ৫/৭টি ফৌজদারী মামলার আসামী। তন্মধ্যে রয়েছে- ইয়াবা পাচার, যৌনকর্মী সরবরাহ, দোকানপাট লুট, প্রতিবেশির ঘরবাড়ি ভাঙচুর ইত্যাদি। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার এলাকাবাসী দফায় দফায় অভিযোগ পেশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তিদের কাছে। কিন্তু রোজিনার ক্ষমতার দাপট এত বেশি যে এখনও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি প্রশাসন। সর্বশেষ গত ২মার্চ কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশ ৪শ’ পিচ ইয়াবাসহ রোজিনার দুই সহযোগীকে আটক করে। আটককৃত ওই দুই নারীর স্বজনদের দেওয়া তথ্যে রোজিনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়- ওইদিন রোজিনা আটককৃত ওই দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী নারীকে পুলিশ থেকে ছাড়িয়ে নিতে জোর তদবির করে। কিন্তু সেদিনও রোজিনা কৌশলে রহস্যজনকভাবে পুলিশের হাতে আটক হওয়া থেকে বেঁচে যায়। এছাড়াও ধৃত দুই নারী রোজিনার পরামর্শে পুলিশকে অসংখ্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে এজাহার তৈরি করিয়ে নেয়। রোজিনার পর্যায়ক্রমে অত্যাচারের শিকার হলেন যারা: ২৯ জানুয়ারী ২০১৪ সালে রফিক, একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর মো. হানিফ, ২৬ জুলাই ২০১৮ সালে মো. হোসেন, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ সালে মো. রফিক, ১২ জানুয়ারী ২০১৯ সাজেদা বেগম, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ আয়েরা বেগমসহ আরও অসংখ্য নিরীহ সাধারণ লোকজন। এদের প্রত্যেকেই রোজিনার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে থানা মামলা কিংবা অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এপর্যন্ত কোনো সুরাহা পাননি। এভাবে চলতে থাকায় রোজিনা আরও বেশি বেপরোয়া ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে। নিয়মিত নির্যাতন হয়ে আসলেও এখন আর কেউ অভিযোগও করেন না। মুখ বুঝে সয়ে যান রোজিনা ও তার পালিত ক্যাডার বাহিনীর নির্যাতন। রোজিনার অনুগত ক্যাডার বাহিনীতে রয়েছে যারা: সুলতান মাঝির পুত্র ইলিয়াস (৩৫), আলমগীরের পুত্র রহমান (২৭) ও বাদশা (২০), কামাল হোসেনর স্ত্রী ময়না আক্তার (২৮), মো. বাবুল, মৃত নুরুল কবিরের পুত্র ফয়সাল (২৫) প্রকাশ ফুতু ও আব্দুশ শুক্কুর, নুরুল ইসলামের পুত্র গুরা মিয়া (২৫) প্রকাশ গুরাইয়া, গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী জান্নাত বেগম (৪২), নুরুল ইসলামের পুত্র রবিউল ইসলাম (২০) প্রকাশ গুরু, আবুল কালামের পুত্র শফিউল আলম (২৫), আইয়ুব আলীর পুত্র মো. হাকিম (২২), প্রকাশ মন্ত্রীর পুত্র রানা (২৩), ছৈয়দ হোছনের স্ত্রী ছুরা খাতুন (৪৯), আনু আক্তার (৪৩), খালেদা বেগম (৩০), বৈদ্যানি বেগম (৪৫), রুবী আক্তার (২৫), মৃত মকবুল আহম্মদের পুত্র জয়নাল আবেদীন (৩৬), সোনা মিয়া (৩৫), আব্দুর রহমান (৪৫), আব্দুর রহমানের পুত্র মো. কালু (২৩) ও মো. রাসেল (২৭) এবং রাসেলের স্ত্রী জোসনা আক্তার (১৯)। এরা সকলেই ফদনার ডেইল ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এদের বিষয়ে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করে বলেন- রোজিনা আক্তার তার লালিত ক্যাডার বাহিনীকে তাদের অপকর্মের ব্যাপারে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারা সেটি কর্ণপাত করছে না। দিনকে দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সমগ্র এলাকাকে ইয়াবা ও পতিতার হাট বানিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে রোজিনা তার এসব অপকর্ম চালিয়ে যেতে দুটি টিনশেড লম্বা কলোনি ও একটি টর্চার সেল তৈরি করেছে। টিনশেড কলোনি দুটিতে অসংখ্য পতিতা মেয়ে তৈরি করে নেওয়া হয় এবং আশ্রয় দেওয়া হয়। তাদের পরবর্তীতে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করা হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে পতিতা মেয়েদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি প্রতিবাদকারীদের সর্বশান্ত করে ফেলার নজিরও সৃষ্টি করেছে এই মাদক সম্রাজ্ঞী। আবার কখনও কখনও প্রতিবাদকারীদের ঘরে কিংবা দোকানে ইয়াবার পুটলা ঢুকিয়ে দিয়ে পরবর্তীতে পুলিশকে সংবাদ দিয়ে উক্ত ইয়াবা উদ্ধার করে জঘন্যভাবে হয়রানিও করেছে। রোজিনার এমন নির্যাতনে অনেক নিরীহ মানুষ জেল খেটেছে। তার এধরণের অত্যাচার এখনও অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এলাকার ভুক্তভোগী মহল। তার নির্যাতন, অত্যাচার ও অসামাজিক কার্যকলাপের দরুন এলাকাবাসী চরমভাবে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। এবং অনেকেই এলাকা ছেড়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়- ২০০৭ সালের দিকে রোজিনা শহরের বন্দর পাড়ায় একটি ভাড়া ঘরে থাকতেন। আর্থিক অনটনের কারণে অসামাজিক উপার্জন করে চলতেন। এরপর ২০১৪ সালে রোহিঙ্গা যুবক ইলিয়াসকে (৩৮) বিয়ে করে অপকর্মের নতুন পথ খোঁজে নেন। সরকার দলীয় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে বৃদ্ধি করেন ক্ষমতার প্রভাব। কথা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা আতিক উল্লাহ প্রতিবেদককে জানান- রোজিনা জেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নারী সদস্যদের নিয়ে অংশগ্রহণ করে। জনবল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কিন্তু তার অপকর্মের বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না বলেও মন্তব্য করেন। এবিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তাফার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান- এধরণের কোনো মহিলাকে দল আশ্রয় দেওয়ার কথা না। তবে অভিযুক্ত মহিলা ও ঘটনাস্থল যেহেতু মেয়র সাহেবের এলাকায় পড়েছে সেহেতু এবিষয়ে মেয়র মুজিবুর রহমান ভালো বলতে পারবেন বলেও জানান। উল্লেখ্য, কক্সবাজার পৌর এলাকার মেয়র মুজিবুর রহমান জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্বে রয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: