বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন
নোঠিশ
ওয়েব সংষ্কারের কাজ চলিতেছে। সাময়িক অপরাগতার জন্য দু:খিত

সৈকতের বালিয়াড়িতে বিষাক্ত বর্জ্যরে ছড়াছড়ি : মারা পড়ছে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণী

  • সময় সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২০
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্ট::
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে ইনানী পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার বালিয়াড়িজুড়ে বিষাক্ত বর্জ্যরে ছড়াছড়ি দেখা গেছে। সেসব বিষাক্ত বর্জ্য খেয়ে মারা পড়ছে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণী। গত কয়েকদিন ধরে এসকল সামুদ্রিক মাছ, প্রাণীগুলো অহরহ চরের দিকে ভেসে আসছে। যার মধ্যে রয়েছে- বিলুপ্ত প্রায় কাছিম, ডলফিন, কুচিয়া, বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়াসহ আরও বেশকিছু জলজ প্রাণী। বিশেষজ্ঞদের অভিমত- সম্প্রতি পর্যটকবাহী কয়েকটি জাহাজ এই পথে যাতায়াত করছে। এসব জাহাজের ব্যবহৃত জ্বালানী তৈল, পোড়া মোবিলসহ আরও অন্যান্য বিষাক্ত বর্জ্য তারা অসাবধানতাবশত সাগরে ফেলে থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে- সামুদ্রিক প্রাণীগুলো খাবার ভেবে এসব বিষাক্ত বর্জ্য গলদকরণ করে মারা পড়ছে।

সরেজমিন- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের যেখানে পর্যটকরা সমুদ্রস্নান করে থাকেন লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলী পয়েন্ট থেকে শুরু করে দরিয়ানগর, হিমছড়ি এবং ইনানী পর্যন্ত বালিয়াড়িজুড়ে অসংখ্য পোড়া মোবিল, ব্যবহৃত জ্বালানী তেল পানির সাথে ভেসে আসে। সাগরে গোসল করতে নেমে বিড়ম্বনায় শিকার হচ্ছেন পর্যটকরাও। ভেসে থাকা তেল সারা শরীরে লেপটে যাচ্ছে। সৈকতের বালিয়াড়িতে হাঁটতে গিয়ে পায়ের জুতোয় লাগছে। কালো রঙের এসব বর্জ্য নিয়মিত ভেসে আসতে দেখা যাচ্ছে। বালির উপরে জমে যাওয়া তেলের ছটাগুলো জমাট বেঁধে বালির উপরে একধরণের শক্ত আস্তরণের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- গত কয়েকদিনে সেখানে ২বস্তা পোড়া মোবিল, ৫টি কাছিম, ৫টি ডলফিন, বেশকিছু কুচিয়া, বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়া এবং ছোটো বড় অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী চরের দিকে ভেসে এসেছে। এগুলোর কোনোটির দেহে ধাতব ধারালো পাতের আঘাতের চিহ্নও রয়েছে বলে জানান বার্জার পেইন্টের নিয়োগকৃত সৈকত পরিচ্ছন্নকর্মী রহিমা (৩৫)। তিনি আরও জানান- লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্টের মাঝখানের এলাকায় এসব সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসতে দেখেছেন। তিনি নিজেই ভেসে আসা মৃত এসব প্রাণী মাটিতে পুঁতেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট, মৃত মুরগী ও রন্ধনশীল বিভিন্ন সব্জির উচ্ছিষ্ট ইদানিং বেশি ভেসে আসছে। আগে এমনটি ছিলো না। পানিতে ভেসে আসা বর্জ্যরে হার বেড়েছে। কীটকট চেয়ার ও টিউব ব্যবসায়ী জাফর (২৮) জানান- পানিতে ভেসে থাকা তেলগুলো টিউবের সাথে লেগে যাচ্ছে। যার ফলে টিউবগুলো ব্যবহারের উপযোগীতা হারিয়েছে। পর্যটকরা এখন সেসব টিউব নিচ্ছেন না।

সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট থেকে এম.ভি কর্ণফুলী ও হানিমুন নামে দুটি মাঝারি আকারের জাহাজ ছেড়ে যায়। এম.ভি কর্ণফুলি কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করে এবং হানিমুন জাহাজটি কলাতলী পয়েন্ট থেকে সোনাদিয়া পর্যন্ত যাতায়াত করে। স্থানীয় সচেতন মহল ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের অভিমত- এদুটি জাহাজের গমনাগমনের পর থেকেই সমুদ্রে এই পয়েন্টে বর্জ্য বেড়ে গিয়েছে। আরও ধারণা করা হচ্ছে- ব্যবহৃত বর্জ্য মোবিল ও পোড়া তেল, প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেটগুলো এই জাহাজদ্বয় থেকেই ফেলা হচ্ছে। এবিষয়ে জাহাজদুটির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে তাদের ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পরিবেশবিদ মতিন সৈকত জানান- সাগর পথে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় এধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। সাগরে মৎসজীবিরা আগেও মাছ শিকার করতে গিয়েছিলো। কিন্তু তখন এতো সংখ্যক সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়নি। এবং এভাবে বর্জ্য তেলও ভেসে আসেনি। কিন্তু পর্যটকবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল শুরু হওয়ায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। বড় বড় জাহাজগুলো চলাচলের সময় প্রচুর পরিমান বর্জ্য তেল, আলকাতরা, নিঃসরণ করে। এসবের কারণে পানিতে অক্সিজেন বিলুপ্ত হয়। যার ফলে সামুদ্রিক প্রাণীগুলো মারা পড়ছে। এছাড়াও বিষাক্ত এসব বর্জ্য খেয়েও মারা যাচ্ছে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ-পরিচালক শেখ নাজমুল হুদা জানান- তিনি এবিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছেন। তবে কি কারণে আকস্মিকভাবে এতগুলো সামুদ্রিক প্রাণী মারা গেলো এবং বর্জ্য তেল কোথা হতে ভেসে এসেছে তার কোনো হদিস তিনি এখনও নিশ্চিত ভাবে জানাতে পারেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: