বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৫ অপরাহ্ন

নারী মানে কি কামনা-বাসনা পূর্ণতার মাধ্যম?

  • সময় রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০
  • ৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

তারেকুর রহমান::
নারী শব্দটা মনে পড়তেই চোখে ভাসে মা-বোনের প্রতিচ্ছবি। নারীর বিশ্লেষণ করেও মনে হয়, এই যে- পাঠকের জন্য দু’কলম লিখতে বসলাম এটিও নারীর অবদান। আমার মা আমায় পৃথিবীর আলো না দেখালে হয়তো নারীর অধিকার নিয়ে এই কথাগুলো বলার সুযোগ হতো না।
বিশ্ব নারী নিয়ে বিশ্লেষণের সাথে আলোচনা করার মতো জ্ঞানী আমি নই। এরপরেও বিশ্ব নারী দিবসের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রান্তর থেকে ঢাক-ঢোল ও প্রতিবাদী কণ্ঠ কানে বাজে বলে চিন্তা করে দেখলাম, নারী কি পেরেছে নিজের অধিকার আদায় করতে নাকি গলা ফেটে যাচ্ছে যুগ থেকে যুগান্তরে?
যতটুকু জানি, আন্তর্জাতিক নারী দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেখান থেকে মুলত নারী দিবস পালনের সূত্রপাত। যদি আমার ভুল না হয়ে থাকে।
এখান থেকে আমরা বুঝি নারী দিবস বলতে নারীর অধিকার আদায়ের জোরালো কণ্ঠস্বর. . . .
মানুষ হিসেবে নারীদের সম্মান দেয়া আমাদের কর্তব্য, তাদের সৎ কাজে স্বাধীনতা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। তারা আসলে কি বলতে চায় সেটা আমলে নেয়া আমাদের উচিত।
কিন্তু একজন ভাই হয়ে বোন কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে, তার চলাফেরার ধরণ, আচার-আচরণ ইত্যাদি সম্বন্ধে সঠিক তদারকি করা সর্বোত্তম দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি।
আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমাদের দেশে নারীর অধিকার, স্বাধীনতা ও চিন্তা চেতনার একটা রীতি আছে। বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে অধিকার আদায়ের অজুহাতে পশ্চিমা সংস্কৃতি পালনের হিড়িক কখনো কাম্য নয়। বলতে লজ্জা হলেও এটাই বাস্তবতা।
আপনি কি জানেন,
বর্তমান সমাজে নারী মানে এখনো কামনা-বাসনা পূর্ণতার মাধ্যম? এখনো আমাদের সমাজ নারীকে ভোগের দৃষ্টিতে দেখে?
অবশ্য কথাটি অপ্রিয় হলেও সত্য যে, নারীর জন্য মজনুর মতো পাগল এই সমাজ।
হ্যাঁ আদর্শ নারীরা ভোগের শিকার হয় না।
এই কথা বলাতে পাঠক বোনটি আমার উপর রেগে আগুন হবেন, তাতেও যে আমাকে আদর্শ বোনটির পক্ষে বলতে হচ্ছে। কারণ তার মন পরিশুদ্ধ-পুণ্যময়।
প্রসঙ্গত একটি বাক্যের সারাজীবন বিরোধীতা করি আমি। এবং বিরোধীতা করে যাবো যতদিন বাঁচি।
সেটি হলো- ‘নারীর পোশাক কিংবা চলাফেরা নয়, নিজের দৃষ্টিকোণ বদলান দেখবেন সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’
এই বাক্যটি আমার কাছে হাস্যকর. . . .
আপনি পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পারেন, মৃত্যুশয্যায় শায়িত কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবীর অতিথি হয়ে থাকা বৃদ্ধ লোকটির কানের কাছে গিয়ে যদি বলেন, ‘ওয়াও… কি ড্রেস! কি সুন্দর-জোস একটা মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে’, কথাটি অসুস্থ বৃদ্ধের কানে পৌঁছালে তিনিও বালিশ থেকে মাথাটা তুলে মেয়েটিকে দেখতে চাইবেন।
আমার এই অপ্রিয় সত্য কথাটি আপনাকে চেতন করতে না পারলেও আপনার মন ঠিকই বলছে- ‘আসলেই তাই।’
পক্ষান্তরে, আপনি নিজেকে যত রোমান্টিক-হিরো ভাবেন না কেন, একটা পর্দাশীল-বোরকাপরা সুন্দরী নারী অসতর্কতার কারণে আপনার গা ঘেষে ধাক্কা লেগে গেলেও আপনি জোর গলায় বলবেন- ‘মুরব্বী একটু দেখে হাঁটা-চলা করবেন’।
এখান থেকে কি প্রতীয়মান হয়না- নারীরা পর্দার আড়ালে সুন্দর?
হুম, খুব সুন্দর! মাথার উপর থেকে কাপড়টি পড়ে যেতে দিবেন না, দেখবেন আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে বোন। আপনার অধিকার পর্দার আড়াল থেকেও নিশ্চিত করতে পারবেন।
সমাজের খেটে খাওয়া জীবন সংগ্রামী নারীরা কি পর্দার আড়ালে ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারে না?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর সমীক্ষা অনুযায়ী কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় কর্মজীবী নারী কাজ করেন তিনগুণ। দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতির মূল কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারীর অবদান ক্রমাগত বাড়ছে। এদেশের পোশাক শিল্পের মধ্যে জড়িত প্রায় ৪০ লাখ কর্মীর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী। নারীদের এই অবদানকে স্যালুট জানাই। কর্মক্ষেত্রে তাদের অধিকার আদায়ের প্রতিবাদী ধ্বনি অবশ্যই থাকবে কিন্তু পর্দার বাইরে অশ্লীলতার জন্ম যেন নারীর অধিকার আদায়ের মূলমন্ত্র না হয়।
নারীরা শত বাধা পেরিয়ে যাবে সেটা আমরা সকলেই চাই, তবে বাধা পার হতে যেন বাঁধ ভেঙ্গে না যায়। এতে বেশি কষ্ট পায় পরিবারের নীরবে কাঁদা স্বজনরা।

তারেকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার- দৈনিক হিমছড়ি

Please Share This Post in Your Social Media

আরো সংবাদ
%d bloggers like this: