সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

বেতাগীতে শশীভুষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অর্থ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ

  • সময় শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০
  • ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃনিজাম উদ্দীন (স্বাধীন)

বরগুনা জেলা বেতাগী উপজেলার ৬নং ইউনিয়নের কুমড়াখালী শশীভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট করে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ ও অর্থ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিধিবিধান উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি (স্কুল ম্যানেজিং কমিটি) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি স্বদেশ কুমার রায় সুব্রত পছন্দের লোক নিয়োগ দেয়।
সিন্ডিকেট করে লোক নেওয়ায় যোগ্য প্রার্থী অনেকেই নিয়োগ পাননি। পার্শ্ববর্তী কাজির হাঁট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে একই প্রতিষ্ঠানের দু‘জন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের বিএসসি শিক্ষকের স্ত্রী রীপা বেগমকে রয়েলের নিবন্ধিত সনদ ( বেসরকারি রেজিঃভুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত গ্রন্থগারিক সনদ যা শিক্ষক নিয়োগের বিধি বহির্ভূত) দিয়ে সহকারি গ্রন্থগারিক পদে নিয়োগ দেন।

অথচ শশীভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যারা আবেদন করে ছিলেন তাদের কোন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নতুন প্রধান শিক্ষক মো. মাইনুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন নিয়োগপত্র পাওয়ার সাথে সাথেই যোগদান করেন। নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকরা এ বিষয় ভয়ে তারা মুখ খুলছেন না।

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন, যথাযথ নিয়ম আনুসরন করে আবেদন এবং পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করলেও নিয়োগ পরীক্ষায় পরিকল্পিতভাবে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি।

পাতানো নিয়োগবোর্ডের কারনে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে এই অবৈধ নিয়োগ বৈধ করার জন্য সভাপতি সাজানো প্রার্থী হিসেবে কয়েকজনকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সূযোগ করে দেন।

এর মধ্যে অন্যতম তার অনুগত শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য অত্র বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষক শেখর কুমার সিংহকে কোরাম পূরণ তথা নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষককে সহযোগিতার জন্য নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান।

তাছাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির কোন সভা কমিটির সকল সদস্যদের নোটিশ দিয়ে কিংবা মৌখিকভাবেও অবহিত না করে তার অনুগত কয়েকজন সদস্যদের নিয়োগ বিধি বহির্ভূতভাবে গোপনে তাঁর নিজ বাড়ীতে সভা করে।

এ ধরনের নানা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিয়োগটি সম্পন্ন করায় ওই সকল পদের যোগ্য প্রত্যাশী প্রার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বিধি মোতাবেক ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য দীপক কুমার রায়কে জেষ্ঠ্যতম শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব দেওয়ার কথা কিন্তু বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপর প্রভাব খাটিয়ে এক অফিস আদেশের বলে অত্র বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্মের শিক্ষক মোঃ আব্দুল বারীকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে।

এর বিরুদ্ধে দীপক কুমার বরগুনা বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে গত ২৭মে‘ ২০১৯ এক দেওয়ানী মামলা করেন (নং ৪৯/২০১৯) যার প্রেক্ষিতে আদালত ১৮ নভেম্বর ‘২০১৯ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

মামলার ১নং বিবাদী আব্দুল বারী আপিল করলে তা শুনানীর জন্য ২৯ জানুয়ারি ‘২০২০ তারিখ ধার্য করেন কিন্তু অত্র বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি স্বদেশ কুমার রায় সুব্রত এবং নিয়োগ কমিটির সাধারন সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী আইনের তোয়াক্কা না করে দায়িত্বভার সংক্রান্ত মামলাগুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পূর্বেই ভাবে অর্থ বাণিজ্যের বিনিময়ে ১৬ জানুয়ারি ২০২০ জেলা স্কুলে এক পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ওই পদে বিধি বহির্ভূত ভাবে নিয়োগ প্রদান করে।

বিদ্যালয় পরিচালনা ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি স্বদেশ কুমার সুব্রত রায়ের সাথে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ফোন ধরছেন না । নিয়োগ কমিটির সম্পাদক ও ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী জানান,‘ কোন অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়নি। আর আর্থিক লেনদেনের বিষয় তার জানা নেই।

এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: শহীদুর রহমান জানান, নিয়মমেনেই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অনিয়মের কোন সূযোগ নেই। আর্থিক লেনদেনের বিষয় তিনি কিছুই বলতে পারেন না।

তবে ক্ষুদ্ধরা নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল পূর্বক মামলাগুলো নিষ্পত্তির পর আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares