সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

চেম্বার খুলে ডাক্তারি করছেন রোহিঙ্গা আবদুল্লাহ

  • সময় শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০
  • ৬৩৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রোহিঙ্গাদের কারনে স্থানীয়রা জন্মনিবদ্ধন ভোটার হতে গিয়ে নানান হয়রানির শিকার হচ্ছে।তবে এ ক্ষেত্রে সহযে বাংলাদেশি নগরিক হয়ে যাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। স্থানীয় ও প্রভাশালী ব্যাক্তিদের সহযোগীতা রোহিঙ্গারা নিজস্ব ঘর বাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলে বসেছেন।

তাদের একজন রোহিঙ্গা আবদুল্লাহ্। তার বাবা মা বর্তমান রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে রয়েছে। তবে তিনি (আবদুল্লাহ) বর্তমানে বাংলাদেশি নানান ডিগ্রি ধারী ডাক্তার। রামু উপজেলায় পানির ছড়া বাজারে নিজে খোলে বসেছেন চেম্বার ও ফার্মেসী।

তার নামের পাশে বসিয়েছেন অখ্যাত সব ডিগ্রি।যেমন, (বিডিটিসি) রাবেতা (ভিআর এমপিএ) ঢাকা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তারি করে যাচ্ছেন তিনি। যদিও বাংলা লিখতে জানেন না কথিত ডাক্তার আবদুল্লাহ।

সম্প্রতি তার পরিচয় প্রকাশ পেলে সর্বত্র আলোচনার ঝড় উঠে। ক্ষোভে ফুঁসে উঠে স্থানীয়রা। বেশ কয়েকবার এই ভূয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্টরা কোন ধরনে ব্যবস্থা গ্রহণ না কারায় হতাশ স্থানীয়রা।

খবর নিয়ে জানা যায়,রোহিঙ্গা আবদুল্লার বাবা মা বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছে। ২০১৭সালে ২৫আগস্টের পর তারা অন্যসব রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গা আবদুল্লাহ নিজেও বিষয়টা স্বীকার করে নিয়েছেন।তবে তিনি দীর্ঘ বছর আগে বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুল্লাহ
দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে অবৈধ পণ্যবহন করে বাংলাদেশে নিয়ে আসতেন। গত দেড়যুগ ধরে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে আসা যাওয়ার এক পর্যায়ে রামু উপজেলার জোয়ারিয়া নালা ৮নং ওয়ার্ড থেকে এক স্থানীয় নারীকে বিয়ে করেন।

আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানে একসময় অবৈধ পণ্যবহন বন্ধ করে দিয়ে তিনি ডাক্তারি প্রতারণা শুরু করেন।তার ডাক্তারি বিষয় নিয়ে আপত্তি জানালে সে নিজেকে জেলা আ’লীগের এক বড় নেতার মামাতো ভাই পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি ধুমকি দেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আবদু রহিম নামে স্থানীয় এক ব্যাক্তি দাবি করেন,সম্প্রতি আবদুল্লাহ্ ক্যাম্পে থাকা তার বাবা মাসহ আত্মীয় স্বজনদের ভোটার করার লক্ষে চারিদিকে ছুটাছুটি করছেন।এর মধ্যে কয়েকজনকে ভোটার করিয়েছেন বলেও তিনি শুনেছেন। ডাক্তারি প্রতারনা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের কথাও জানান তিনি।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানায়, আবদুল্লাহর চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগের কমতি নেই।তবে তার বিরুদ্ধে সরাসরি কেউ কথা বললে বিভিন্ন নেতা ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী
দিয়ে তিনি স্থানীয়দের অপদস্থ করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবদুল্লাহর কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, আমি বাবা মায়ের অনেক আগে বাংলাদেশে এসেছি এবং ভোটার হয়েছি। তাই ডাক্তারি করার অধিকার আমার আছে।তিনি বলেন,আমি পড়াশোনা করে ডাক্তারি পেশায় এসেছি।

জোয়ারিয়ানালা ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম-উল ইসলাম বলেন, আবদুল্লাহ্ বিভিন্ন সময় ভোটার হওয়ার চেষ্টা করলে আমি সাক্ষর করিনি। সে যদি অন্য কোথাও গিয়ে ভোটার হয় তা আমার জানার বিষয় নয়। তিনি আরোও বলেন,তার ছেলেরাও আমার আপত্তির মুখে ভোটার হতে পারেননি। আর ডাক্তারি বিষয়ে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে সহযোগীতা করার কথা জানান তিনি।

এ ব্যাপারে রামুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন,তার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares