বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

খরুলিয়ায় সেলুনের আড়ালে মুবিনের চলছে জমজমাট ইয়াবা ব্যবসা

  • সময় শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২০
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া বাজারের ঘাটপাড়া রোড়ে অবস্থিত প্রগতি সেলুনের মালিক মুবিন কৌশলে সেলুন কারবারের নেপথ্যে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা, দোকানের আড়ালে চুল কাটার বিভিন্ন সামগ্রী এর প্যাকেটে ভরে খুব সহজেই ইয়াবা লেনদেন করছে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের কাছে এমন অভিযোগ করেছে স্থানীরা।

মুবিন আইনসংস্থাকারী বাহিনীর হাতে মুবিন একাধিকবার আটক হলেও টাকার বিনিময়ে থানায় যাওয়ার আগেই স্ব-পদে মাদক ব্যবসা শুরু করে।

স্থানীয় সুত্রমতে, খরুলিয়া কোনার পাড়া এলাকার মাদক সম্রাজী লায়লার ছেলে মুবিন প্রকাশ মাঝু, দোকান থেকে বাড়ি কাছে হওয়ায় গ্রাহকদের সুযোগমত বাড়ি থেকে বা দোকান থেকে ইয়াবা দিচ্ছে বলে জানা যায়। অনেক সময় দোকানে বা বাড়িতে সুযোগ না হলে তার এক সহযোগী মোটা রাশেদকে দিয়ে ইয়াবা লেনদেন করছে এমনটাই জানা গেছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের খরুলিয়া গরুর বাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজারের চারপাশে ইয়াবার হাট হিসেবে বেশ পরিচিত, বাজার পাড়া, কোনার পাড়া, হিন্দু পাড়া, বেপারী পাড়া, গরুর বাজারে দুর-দুরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা আসায় জনবহুল এই এলাকায় খুব সহজেই ছাত্র-ছাত্রী, ব্যাবসায়ী, চাকরিজীবী দের টার্গেট করে জমজমাট ইয়াবা ব্যাবসা চালাচ্ছে।

ইয়াবা ব্যাবসায়ী মুবিন স্থানীয়দের সাথে খুব কম লেনদেন করেন। মুবিন ও রাশেদ ইয়াবা ব্যাবসায় ৭০% কাষ্টমার হচ্ছে বাইরে জেলা, শহর, থেকে বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই দোকানের ব্যবসায়ী কার্যক্রমের আড়ালে দীর্ঘদিন যাবত পাইকারীভাবে ইয়াবা বিক্রি করে আসছে। মুবিন এবং তার মা লায়লা একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে ফিরে এসে কৌশল পাল্টাতে পরবর্তীতে নিজ বাজারে সেলুন ব্যবসা শুরু করে। এখানেও সে ওপেন সিক্রেটভাবে ইয়াবা ফেন্সিড্রিল পাইকারী বিক্রী করে যাচ্ছে। বর্তমানে সেলুনটি মাদক বিক্রি’র দোকান হিসেবে পরিচিত লাভ করায় মুবিন নিজেই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেনা। কিন্তু থেমে নেই মুবিনের ইয়াবা ও ফেন্সিড্রিল বিক্রি।

বাজারের বিভিন্ন অলি-গলিতে গোপনে বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সে। বর্তমানে সেলুন ব্যবসা এর পণ্য বিক্রির আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিকবার গ্রেফতার হওয়ার কারনে আইনের চোখের অন্তরালে অবৈধ এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে প্রগতি সেলুন এর প্রোপাইটর মুবিন বলেন, আমার মা ইয়াবা ব্যবসা করতো, সর্বশেষ ২০১৭ সালে জামিনে বের হয়েছে, আমি মামলা মোকদ্দমায় জড়াইনি।

দেশে প্রচলিত যে কোনো আইনের চেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হলেও বেশিরভাগ মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। আইনি সীমাবদ্ধতা, সাক্ষীর অভাব এবং মামলা নিয়ে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যের কারণেই অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) খাইরুজ্জামান বলেন, মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। তাতে নেতা, ব্যবসায়ী, নারী, পুরুষ কাউকেই ছাড় দেয়া হয় না। কক্সবাজার থেকে মাদক ব্যবসায় জিরো টলারেন্স ঘোষনা করা হয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ব্যবসায়ী তাদের নির্দিষ্ট ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট তৈরী করার ব্যাপারে কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশ’র ওসি (ডিবি) হুমায়ুন কবির বলেন, মাদক ব্যবসা যত সিক্রেটভাবেই করুক না কেন আমার গোয়েন্দা বাহিনী তাদেরকে আটক করবেই। একমালিকানা কারবারের নেপথ্যে যারাই মাদক ব্যবসায় জড়িয়েছে তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এতেও যদি তারা সংশোধন না হয় গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে, সঠিক তথ্য প্রমানাদি পেলেই ওইসব ব্যবসায়ীদের আটক করা হবে। আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares