বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

কক্সবাজার-মহেশখালী জেটিঘাটের যাত্রীদের ভোগান্তি শেষ হবে কবে ?

  • সময় বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২০
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার মহেশখালী নৌরুটে স্পিডবোট নিয়ে চরম নৈরাজ্য জেটি ঘাটে জীবন ঝুঁকি

কক্সবাজার-মহেশখালী জেটিঘাটের যাত্রীদের ভোগান্তি শেষ হবে কবে ? জেলা শহরের সাথে মহেশখালী দ্বীপের যাতায়াতের একমাত্র পথ নৌ-রুটের, দু’ঘাটের চিত্র দেখলে মনে হয় এখানে কোন সরকারের কর্তৃপক্ষ নেই। কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে তালিকাভুক্ত ১৩০টি স্পিডবোট রয়েছে। তার মধ্যে নিয়মিত ৭০-৮০টি স্পিডবোট চলাচল করছে। ৩০টির অধিক স্পিড বোট ঘাটে মজুদ থাকলেও শতশত যাত্রীদের অনুরোধে কেন ভাড়ায় ব্যবহার হচ্ছেনা, সে বিষয়টি জানার কারো অধিকার নেই। যার যেমন ইচ্ছা তেমনি ভাবেই চলছে ঘাটের চলাচল। যাত্রী অধিকারের বালাই নেই বোট মালিক ও সরকারী কর্তৃপক্ষের। জেটি ঘাটের-এ বিড়ম্বনার শেষ কোথায়? নিরব প্রশাসন।

কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে স্পিডবোট নিয়ে চলছে চরম নৈরাজ্য। স্পীডবোট চালক ও দায়িত্বরত প্রশাসনের কতিপয় লোকজন এই নৈরাজ্য চালাচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পর্যটকসহ স্থানীয় যাত্রীরা। এই কারণে বর্তমান পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন এক ভীতিকর ও অসহনীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে ৬নং ঘাটে।

বোটে উঠতে পারা যেন যুদ্ধ জয়ের সমান। জীবন ঝুঁকি নিয়ে স্পিড বোটে উঠছে নারী শিশুসহ সাধারণ মানুষ। উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী-কুতুবদিয়ার জনমানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ-রুটে ব্যাপক নৈরাজ্যের সৃস্টি হয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বর্তমান পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী হয়রানীর মাত্রা বহুলাংশে বেড়ে গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে স্পীডবোট চালকরা পর্যটন মৌসুমকে পুঁজি করে জোর করে অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে। মূূলত পর্যটকদের টার্গেট করেই চালকরা এই অপকর্ম চালাচ্ছে। তাদেরকে প্রশয় দিচ্ছেন ঘাটের দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা প্রশাসনের লাইনম্যান নামধারী লোকজন। চালক এবং লাইনম্যান যোগসাজস করে অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ মতে, বর্তমানে পর্যটন মৌসুম হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক মহেশখালী আদিনাথ মন্দির দর্শন ও সোনাদিয়ায় ঘুরতে যাচ্ছেন। পর্যটকদের কারণে যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু সেই সাথে বেড়েছে হয়রানীর মাত্রাও।

সাইফুদ্দিন খালেদ নামের একজন পর্যটক জানান, মহেশখালী -কক্সবাজার জেটি ঘাটের জন দুর্ভোগের কি কোন প্রতিকার নেই? রীতিমত যুদ্ধ করে ১০০টাকা করে ভাড়া দিয়ে মহেশখালী আসতে হল। শত শত মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকেও কোন বোট পাচ্ছে না। বোট ঘাটে থাকলেও ড্রাইভাররা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার জন্য কৌশলে গা ডাকা দিয়ে থাকে। লাইন ম্যানের কোন দেখা নেই।

স্থানীয় অধিবাসীরা ছাড়াও আরো অনেক পর্যটক জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পর্যটকরা আদিনাথ ও সোনাদিয়া যাত্রা করেন। একই সঙ্গে সকালের দিকে স্থানীয় অনেক যাত্রীরও ভিড় থাকে। কিন্তু এই সময়ে প্রায় ৮০ ভাগ বোট থাকে মহেশখালীতে। কেননা অধিকাংশ বোট মহেশখালীর লোকজনের মালিকানাধীন হওয়ায় আগের দিন সেইসব বোট মহেশখালী ঘাটে চলে যায়। ৬নং ঘাটে কিছু বোট থাকে মাত্র। তাই সকালের দিকে যাত্রীর তুলনায় বোটের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল থাকে। এর মধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত অর্ধেক বোটের চালক ঘাটে পৌঁছায় না।

যার ফলে ৬নং ঘাটে যাত্রীদের দীর্ঘ জট লেগে যায়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বোট চালকরা স্থানীয় যাত্রীদের বাদ দিয়ে পর্যটকদের পরিহন করেন। কারণ তারা পর্যটকদের কাছে ‘রিজার্ভ সিস্টেমে’ দিগুণ/তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া হাতিয়ে নেয়। জনপ্রতি নির্ধারিত ভাড়া ৭৫ টাকা হলেও পর্যটকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করছে। এসময় দায়িরত্ব জেলা প্রশাসনের লোকজন নীরব ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয় যাত্রীরা জানান, অনেক চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের যাত্রীদের বোটে উঠতে দেয় না স্পিড চালকরা। অনেক সময় কেউ উঠে গেলে তাকে জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়। এসময় চালকরা স্থানীয়দের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে। এমনকি ধাক্কা দিয়ে বোট থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে তিন/চার জন পর্যটক নিয়ে বোট চলাচল করে থাকে স্পিডগুলো। তারপরও কোনো স্থানীয় যাত্রীদের বোটে উঠতে দেয়া হয় না। এটা নিত্যদিনের ঘটনা। স্থানীয় যাত্রীরা প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছে না।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘অনেক স্থানীয় মানুষ প্রতিদিন কক্সবাজার-মহেশখালী এবং মহেশখালী-কক্সবাজার যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রতিদিনই এভাবে স্থানীয়দের ভোগান্তি চলছে। চালকদের অনিয়মের কারণে মহেশখালী এই ভোগান্তি কম হলেও ৬নং ঘাটে তা সীমাহীন। ঘাটের তদারকিতে থাকা লোকজনও অনিময়মের সাথে জড়িত। তারা স্পিডবোট চালকদের কাছ থেকে টাকার ভাগ খায়। এই জন্য তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে।’ এছাড়াও স্পিড বোটে কোন যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেটও পরানো হয়। ফলে চীবন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে যাত্রীদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাজার ৬নং ঘাটে যাত্রীদের ভিড়। অনেক পর্যটক আদিনাথ মন্দিরে যাওয়ার জন্য পর্যটকেরা ভিড় করেছেন। একই সঙ্গে অনেক স্থানীয় যাত্রীরও ভিড় রয়েছে। তবে একটি স্পীডবোটও নেই। প্রায় শতাধিক যাত্রী অপেক্ষা করছেন। মহেশখালী থেকে কোনো বোট আসলে তাকে স্থানীয় যাত্রীদের উঠতে দিচ্ছিল না। ‘বোট যাবে না’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে পরক্ষণে অতিরিক্ত ভাড়ায় রিজার্ভ সিস্টেমের পর্যটক বহন করে বোটটি চলে যায়। এসময় যাত্রীদের ভারে কাঠের জেটিতে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এমনকি যেকোনো মুহূর্তে যাত্রীদের ভারে জেটি ধসে দুর্ঘটনা ঘটার উপক্রম হয়।

কক্সবাজার জেলা স্পিড মালিক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে ইজারা নেই। ২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল বাংলা ১৪১৭ সালের জন্য ঘাটটি সর্বোচ্চ দরে ইজারা পেয়েছিলেন মহেশখালীর ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম। সেই সময় ঘাটটির ইজারা বাবদ সরকার ১ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার রাজস্ব পেয়েছিলেন। নানা টানাপোড়েনের জের ধরে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের আদেশে ইজারা ও এই ইজারা পদ্ধতি বাতিল করা হয় বলে সূত্রে প্রকাশ।
তাই জেলা প্রশাসনের স্থানীয় মন্ত্রণালয় শাখার মাধ্যমে খাস কালেকশন করা হচ্ছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে এভাবে চলছে। জেলা প্রশাসনের লোকজন এই প্রক্রিয়া দেখাশোনা করছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনজন ঘাটের রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে রয়েছে। বোটের শৃঙ্খলার জন্য লাইনম্যান রয়েছে। তারপরও কিছু অসাধু চালকরা আমাদের অজান্তে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়। এরকম অনেককে শাস্তি স্বরূপ বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার করা হয়। এখনো যদি এই অনিয়ম চলে তা আমাদের অগোচরে হচ্ছে। এ ব্যাপারে এখন থেকে আমরা আরো সজাগ হবো।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares