বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

সড়ক দুর্ভোগ চরমে, উন্নয়নের আশায় শহরবাসীর নরকবাস!

  • সময় বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২০
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

কউকের পুকুর বিলাসে বিপর্যস্ত জনজীবন

আলোকিত প্রতিবেদক::

শহরজুড়ে ঘটা করে প্রচার রয়েছে পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজার জেলার একমাত্র ছোট্ট শহরটির সড়ক হবে বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক কিংবা দৃষ্টিনন্দন। দেশি-বিদেশী গণ মাধ্যমে প্রচারিত থ্রি-ডি এনিমেশনে অঙ্কিত সেই চোখ ধাঁধানো ছবি দেখে যে কেউ গর্ব করে বলবেন আমিই সেই গর্বিত কক্সবাজারের নাগরিক। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কিছু। চলাচলের একমাত্র সড়কটি এখন শহরবাসীসহ পর্যটনের আশায় আগত সকলের নিকট বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিল পরিমাণ স্বস্থি পাওয়ার ফুরসত নেই। নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা, জমে থাকা প্যাগ, কাদা ও পানির ছিটা জামায় লেগে যাওয়া যেনো শহরবাসীর ন্যায্য পাওনা। এককথায় সড়ক নয়; এক ময়লার ভাগাড়ে চলাচল পথচারী সাধারণের।

সরেজমিন- সমগ্র সড়ক জুড়ে অজস্র খানাখন্দে ভরপুর হয়ে আছে। শহরের লালদিঘির পাড় এলাকা থেকে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত প্রধান সড়কটির পুরো অংশ খানাখন্দে সয়লাব হয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রশাসনিক এলাকা লালদিঘির পাড় থেকে বাণিজ্যিক এলাকা বাজারঘাটা, পিটিস্কুল, টেকপাড়া, আলীর জাহান, বাসটার্মিনাল পর্যন্ত সুস্থ সড়কের কোনো হদিস নেই। অল্প বৃষ্টি বা নর্দমার পানি উপচে সড়ক টুইটুম্বুর করে ফেলে। খানাখন্দে ভরপুর এই সড়ক একমাত্র জলেই সমতল দেখা যায়। তবে হলিডেমোড় থেকে লাবনী পয়েন্ট হয়ে কলাতলী সড়কটি এখনও অক্ষত রয়েছে। শহরতলীর আন্ত:আবাসিক এলাকা বাহারছড়া, নতুন বাহারছড়া, পাহাড়তলী, টেকপাড়া, তারাবনিয়ার ছড়া, রুমালিয়ার ছড়া, গোদারপাড়া, চৌধুরীপাড়া, এবিসি ঘোনা, পূর্ব লারপাড়া, ঘোনাপাড়াসহ আরও অন্যান্য যাতায়াতের উপ-সড়ক ও অলিগলির রাস্তাগুলোও কোনোটি চলাচলের উপযোগী নেই। সব মিলিয়ে দুভোর্গের সীমা ছাড়িয়েছে।

তবুও জীবন জীবিকার তাগিদে খানাখন্দ মাড়িয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও যাত্রীরা। এই নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে পৌরকর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যাত্রীরা চলাফেরায় দুর্ভোগের শিকার হয়ে কখনও মেয়র আবার কখনও কাউন্সিলর নতুবা কউককে প্রকাশ্যে অভিশাপ দিচ্ছে! এভাবে ক্রমশ জনরোষ বাড়ছে।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের মহাসচিব এইচ.এম. নজরুল ইসলাম জানান- এভাবে তীব্র ক্ষোভ সঞ্চারিত হতে থাকলে একসময় গিয়ে গণবিস্ফোরণ ঘটবে এবং উক্ত বিস্ফোরণে জনপ্রতিনিধিরা তাদের গদি রক্ষা করবে দুরে থাক কষ্মিনকালেও ক্ষমতার মুখ দেখতে পাবে না আর।

কউক সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিত নগরায়নের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের ‘হলিডের মোড়-বাজারঘাটা হয়ে লারপাড়া বাসস্ট্যান্ড’ পর্যন্ত প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত হবে। শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় সড়কটি চার লেন করার প্রকল্প নিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। গত বছরের ১৬ জুলাই একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে প্রকল্পটি। গত ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছিলেন কউক চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজ শুরুই হয়নি। এমনকি নিকট সময়েও শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, এই সড়কটি দীর্ঘদিন সড়ক বিভাগের অধীনে ছিলো। তারা সড়কটি বহুকাল পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না করলেও মাঝে মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে চলাচলের জন্য কোনো রকম উপযোগী করে রাখতেন। বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়লে কক্সবাজার পৌরসভাও মাঝে মাঝে সহযোগিতা করতেন। কিন্তু কউক’র অধীনে চলে যাওয়ার পর সড়ক বিভাগ ও পৌরসভা এই সড়কের দিকে আর ভ্রুক্ষেপ করেনি। বরং আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তারা নিজেদের দায় গুছিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে কক্সবাজার পৌর এলাকাস্থ প্রধান সড়কটির নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর কউক এখনও পর্যন্ত যুৎসই কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরং মেগা প্রকল্পের দোহাই দিয়ে নূন্যতম সংস্কারের উদ্যোগটিও নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। যার ফলে দিনকে দিন ভোগান্তি বাড়ছে। ক্রমান্বয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর পর্যটন শহর। এতে শহরের প্রধান সড়কটি কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে দাবি শহরবাসীর!

অথচ বর্ষা পেরিয়ে শুষ্ক মৌসুম চলেছে এখন। এই সময়টি পর্যটন মৌসুম হিসেবেও ধরা হয়। থাকে ভরপুর পর্যটক। মূলত বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত নানা প্রতিকূলতার কারণে সড়ক সংস্কারের কাজ তরান্বিত হয় না। একারণে সাধারণ জনগণ কর্তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত মনোভবও পোষন করেনি তখন। কিন্তু শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার পরও কাজের দেখা না মেলায় শহরবাসী এখন ক্ষোভে ফুসছে। দৃশ্যত: শহরের এই প্রধান সড়কের সংস্কারে এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়নি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এতে ভঙ্গুর অবস্থায় রয়ে গেছে সড়কটি। ফলে শহরবাসী এবং পর্যটকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে প্রতিনিয়ত।

পথচারীদের অভিযোগ- শহরের লালদিঘির পাড় এলাকা থেকে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এর মধ্যে রয়েছে ভংয়কর বিপদসংকুল গর্তও। বার্মিজস্কুল সংলগ্ন স্থান এবং বাস টার্মিনাল সংলগ্ন পশ্চিম অংশ একেবারে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বার্মিজ স্কুল সংলগ্ন স্থানে কিছুদিন আগে সড়কের কয়েক গজ স্থানের মধ্যখানে কনক্রিট ঢালাই দেয় কউক। কিন্তু এতে বিপর্যয় আরো বেড়েছে। মধ্যখানে ঢালাই দেওয়ায় দু’পাশে বিপদজনক খাদের সৃষ্টি হয়েছে। ওই খাদে পড়ে প্রতিনিয়ত উল্টে যাচ্ছে অটোবাইক, সিএনজি এবং রিক্সা। এতে বহু মানুষ আহতও হয়েছে। এছাড়াও অন্য সব স্থানে যেসব খানাখন্দ রয়েছে তার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে শহরের সর্বত্র সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্তও লেগে রয়েছে তীব্র যানজট। একদিকে খানাখন্দের গ্লানি, অন্যদিকে যানজটের দুভোর্গ- সব মিলে শহরে চলাচল সম্পূর্ণ রূপে অচল হয়ে পড়েছে। তাই দুর্ভোগের শিকার শহরবাসী প্রতিনিয়ত কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে গালি-গালাজ করছে এবং অসুস্থ রোগী দুর্বলরা নিরুপায় হয়ে শুধুই অভিশাপ দিচ্ছে। শহরবাসী বলছেন, শহরের চলাচলের একমাত্র সড়কটি মরে গেছে। কিন্তু কউক পড়ে আছে পুকুর উন্নয়নে। এটাকে ‘ছনের ছাউনিতে এসি’ লাগানোর মতো ভ্রান্ত বিলাসিতা বলে অবহিত করছেন সাধারণ মানুষ। জনগণের সাথে কউক তামাশা করছে বলেও ক্ষোভ জানাচ্ছে কেউ কেউ। তাই আপাতত সব কিছু বন্ধ রেখে সড়ক উন্নয়নের কাজে হাত দেওয়ার আহ্বান তাদের।

শহরের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পর্যকেরা কক্সবাজার শহরে ঢুকে মারাত্মকভাবে হতাশ হচ্ছেন। সড়কের এই ভঙ্গুর দশা তাদের ভ্রমণের আনন্দকে মাটি করে দিচ্ছে। তারা খুব বিরক্ত অনুভব করছে। এই কারণে চরম নেতিবাচক একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে তাদেরকে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার থেকে ফিরতে হচ্ছে এবার। এটা সামগ্রিক পর্যটন শিল্পের উপর বেশ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজার শহরবাসী মারাত্মক সময় পার করছে। শহরের সড়কের এমন করুণ দশা আগে কখনো হয়নি। বর্তমানে সড়কের যে অবস্থা তাতে মানুষের চলাচলের উপায়ও নেই। বিভিন্ন লোকজন আমাকে বললেও আমার করার কিছু নেই। এটা কউকের অধীনে রয়েছে। কউক দ্রুত সড়কের উন্নয়ন করে শহরবাসীকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিক।

এ ব্যাপারে জানতে একাধিক গণমাধ্যমকর্মী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তিনি ঢাকায় ব্যস্ত থাকার অজুহাত দেখিয়ে এই বিষয়ে কথা বলেননি।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares