বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

কৌশলী ট্রাফিক জ্যামের শিকার সদর হাসপাতালের রোগি ও পথচারী

  • সময় রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২০
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের একমাত্র সরকারী স্বাস্থসেবামূলক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের যাতায়াতে বেড়েছে ভোগান্তি। সড়কে খানাখন্দ দীর্ঘদিনের পুরোনো সমস্যা হলেও; পাশাপাশি নতুন সংকট রূপে দেখা দিয়েছে হাসপাতালের চতুর্দিকে বিদঘুটে ট্রাফিক জ্যাম। এই জ্যামের কারণে সেবাপ্রার্থী রোগী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে বিঘœ ঘটছে। ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে- ‘নো পার্কিং’। কিন্তু ভ্রæক্ষেপ নেই কারওই। সবাই যে যার মতো গাড়ি পার্কিং করে সড়ক দখল করে রেখেছে। সড়কের এমন হাল হয়েছে যে, পথচারী হেঁটে গেলে গাড়ি চলার মতো রাস্তা পাওয়া যায়না নতুবা গাড়ি গেলে পথচারী হেঁটে চলাচল করার মতো রাস্তা অবশিষ্ট থাকেনা। কেউ কেউ এটাকে কৃত্রিম সংকট হিসেবেই দেখছেন। প্রাইভেট হাসপাতালগুলোকে বাণিজ্যিক সুবিধা দিতেই সদর হাসপাতালের প্রবেশ মুখে এভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

সরেজমিন- সদর হাসপাতালে প্রবেশের তিনটি মুখেই রয়েছে ‘একমুখী রাস্তা’র ব্যারিকেড। এর উপর ফুটপাত দখল করে সারি সারি এম্বুলেন্স। রোগি বহনের অজুহাতে পার্ক করে রাখা হয়েছে কয়েক শত সিএনজি। অটোবাইক-রিক্সাতো রয়েছেই। হাসপাতাল সংলঘœ কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের সামনে থেকে দীর্ঘ লাইন দিয়ে ফুটপাত দখল করে কাঁচা সব্জি তরকারি, কাঁচা মাছ, শুটকি, ফলমূল, তৈজষপত্র ও চা-বিড়ি দোকানীরা পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এরপরে রয়েছে এম্বুলেন্সের বিশাল বহর। কমপক্ষে শতাধিক এম্বুলেন্স এখানে পার্ক করা থাকে। সেই সাথে রয়েছে সিএনজিগুলোও। এসব কারণে হাসপাতালের চতুর্দিকে একধরণের বাঁধা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে সহজে রোগীরা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যেতে পারছেন না। অনেকেই উডকু ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়ে আশপাশের প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা হাসপাতালে ঢুকে পড়ছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন নুরুল আলম (৩৫) তার স্ত্রীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি দিয়েছেন। এসেছেন সদরের খরুলিয়া থেকে। স্ত্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে হাসপাতাল এলাকার আশপাশে বিভিন্ন কারণে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কিন্তু একমুখী চলাচল ও জ্যামজটের কারণে স্বাভাবিক যাতায়াতে বারবার বিঘœ ঘটছে। ভিন্ন পথে দুরের রাস্তা দিয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে। অপর এক রোগী হাসপাতাল সড়কের উত্তর পাশ দিয়ে প্রধান সড়কের দিকে যেতে চাইলে তাকে বহনকারী রিক্সাটি আটকে দেয় ট্রাফিকের দায়িত্বরত পুলিশ। পরবর্তীতে ওই রোগীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান- বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়া ওই সড়ক দিয়ে তিনি মূলত একটি প্রাইভেট হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ তাকে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে না দেওয়ায় অন্য আরেকটি প্রাইভেট হাসপাতালে প্রবেশ করতে বাধ্য হন। এটাকে তিনি কৌশলি ট্রাফিক জ্যাম বলেও অবিহিত করেন। তিনি এধরণের প্রতিবন্ধকতার ফলে একটি প্রাইভেট হাসপাতালকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে মনে করছেন।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল তত্ত¡বধায়ক ডা. মো. মহিউদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান- আমরাও চাই হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশ সেবাবান্ধব হউক। যানজট এবং একমুখী রাস্তার ব্যারিকেডের কারণে রোগী সাধারণের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন ‘রাস্তায় যে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে তা আমি গতকাল মাত্র দেখেছি’। এছাড়াও সিএনজি এম্বুলেন্সগুলো যেনো সুনির্দিষ্ট একটি জায়গায় পার্ক করা হয় এবং হাসপাতালের আশপাশে যেনো যত্রতত্র পার্ক করা না হয় সেজন্যও বারবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তাগাদা দিয়ে আসছেন বলেও জানান তিনি।

হাসপাতাল এলাকায় যানজটের বিষয়ে জেলা ট্রাফিক পুলিশের এএসপি বাবুল চন্দ্র বণিক জানান- যান চলাচল সহজ করতে এবং ট্রাফিকিং এড়াতেই মূলত সড়কে একমুখী ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যারিকেডের দেওয়ার ফলে রোগী সাধারণের অসুবিধা হচ্ছে, যাতায়াতে বিঘœ ঘটছে এমন অভিযোগের বিষয়ে অবগত করা হলে তিনি জানান- সরেজমিন খোঁজ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এবং পার্কিং করা সিএনজি ও এম্বুলেন্সগুলোর বিষয়েও দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares