রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

রাজশাহীর বাঘায় স্থানীয় আওয়ামীলীগনেতা বন বিভাগের প্রায় শতাধিক গাছ উপড়ে ফেলেছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

  • সময় বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২০
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী ব্যুরো প্রধানঃ
রাস্তার মাটি খননের ড্রেজার মেশিন (ভেকু) দিয়ে এই গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার (১-১-২০২০ইং) উপজেলার পীরগাছা গ্রামের আফতাব হোসেনের বাড়ি থেকে মাঝপাড়া খোকনের মোড় পর্যন্ত ১ কিলো মিটার পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন জাতের প্রায় শতাধিক গাছ ডেজার (ভেকু) মেশিন দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়। এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাঘা থানায় সাধারন ডাইরি করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে উপজেলার উন্নয়ন অবকাঠামোর, ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ওই রাস্তা ণির্মানের কাজ পেয়েছেন, বাঘা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকার। পাঁকা রাস্তা ণির্মানের জণ্য মাটি কেটে বেড তৈরির অজুহাতে, ঠিকাদারের ভেকু’র (খনন যন্ত্র ড্রেজার) ড্রাইভার রাস্তার দুই পাশের বিভিন্ন জাতের গাছগুলো উপড়ে ফেলেন। গাছগুলোর মধ্যে রায়েছে,বাবলা ২৪টি, জিনজিরা ৩৩টি, কড়ই ৪টি, খেজুর ৩২টি, গামা ৪টি, মেহগনি ২০টি, ৫টি আমগাছসহ প্রায় দেড় শতাধিক ।

সরেজমিন বুধবার বিকেলে কথা হলে, ভেকু’র ড্রাইভার শহিদুল ইসলাম জানান, রাস্তার মধ্যে কিছু গাছ ছিল। নিয়ম মোতাবেক পাঁকা রাস্তার বেড তৈরির জন্য মাটি কাটার সময়, সেগুলো কাটতে গিয়ে ব্যক্তিমালিকানা জমির উপর পড়ে কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে আমাকে দিয়ে সেই কাজটি করে নিয়েছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, রাস্তার বেড খনন কালে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জোর পূর্বক ভেকু’র ড্রাইভার কে বাধ্য করেন বন বিভাগের বড় বড় গাছ উপড়ে ফেলতে। তবে স্থানীয় জনগণ বাধা দিলেও কোন ফল হয়নি।
বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন,যে গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে সেইগুলো প্রায় ১৫ বছর আগে বন বিভাগের লাগানো। পীরগাছা-মাঝপাড়া খোকনের মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে বনবিভাগের পক্ষ থেকে ট্রি ফার্নিং ফার্ম (ট্রি এফ এফ) প্রকল্পের মাধ্যমে গাছগুলো লাগানো হয়েছে। সেই প্রকল্পের ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বন বিভাগের কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।

উপজেলা বন কর্মকর্তা জহুরুল হক বলেন, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এ ঘটনার জন্য স্থানীয় জাহিদ নামের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে বাঘা থানায় সাধারণ ডাইরী (জিডি)করা হয়েছে। জিডি নং ৩৪। উর্দ্ধতন কর্মকর্তার পরামর্শে বন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের গাছ সরকার তথা জনগনের সম্পদ এটি নষ্ট করার অধিকার নেই।রাস্তার কাজে যদি বন বিভাগের গাছের কারনে অসুবিধা হয়
জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ মাঝপাড়া গ্রামের নাসের আলীর ছেলে ও বাউসা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক।

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, পাকা রাস্তা নির্মানের প্রয়োজনে গাছ উপড়ে দেয়া হয়েছে। ঠিকাদার আবদুল কুদ্দুস সরকার বলেন, ঘটনাস্থলে যায়নি। তবে রাস্তার বেড কাটতে গিয়ে রাস্তার পাশের গাছ উপড়ে ফেলার কথা শুনেছি।
বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ ডাইরি করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। উপজেলা প্রকৌশলী রতন ফৌজদার বলেন, বিষয়টি জানার পর সেখানে তার অফিসের একজন অফিসার পাঠিয়েছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, বন বিভাগকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares