শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

অবশেষে একাধিক মামলার আসামী ডাকাত ও ইয়াবী কারবারী দিদার সাদা পোশাকধারীর হাতে আটকঃ ছাড়িয়ে নিতে কোটি টাকার মিশনে ইয়াবা সেন্ডিকেট

  • সময় সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৮৭৮ বার পড়া হয়েছে

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজার সদরের ১০ নং ঝিলংজা ইউনিয়নের দরগাহ পাড়া এলাকার চিহ্নিত ডাকাতী ও চাঁদাবাজ মামলার আসামী দিদারুল আলম দিদার অবশেষে সাদা পোশাকধারীর হাতে দশ হাজার ইয়াবা ও অস্ত্র সহ আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫/২ ধারা অনুযায়ী দিদার একজন প্রতারক সে আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গীয়ে ভুয়া সংগঠন আওয়ামীলীগ মটর চালক লীগের জেলা সভাপতি দাবী করে কক্সবাজার জেলায় ব্যাপক চাদাবাজীতে লিপ্ত রয়েছে।  অন্যদিকে এই ডাকাত দিদারকে ছাড়িয়ে নিতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে একটি ইয়াবা সেন্ডিকেট মাঠে নেমেছে বলে জানা গেছে।

চুরি, সন্ত্রাসী, চাদাবাজী ডাকাতী সহ একাধিক মামলার আসামী দিদার । ২০০৭ সালে বে- আইনী জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করিয়া জোর পূর্বক চাঁদাদাবী করতঃ খুন করার উদ্দেশ্যে মারধর করিয়া জখম ক্ষতি সাধন ও চুরি করার অপরাধে মোঃ রফিক উদ্দিন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানার একটি মামলা দায়ের করেন । দিদার উক্ত মামলার এজাহার নামীয় একজন আসামী । কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-৪৪, তারিখ- ৩১ মার্চ, ২০০৭; জি আর নং-১১৮, তারিখ- ৩১ মার্চ, ২০০৭; ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/৩২৩ । চোরাই মূল্য ৪,৭০০ টাকা উদ্ধার নাই । ২০১১ সালে বেআইনী জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করতঃ চুরি ও ভয়ভীতি প্রর্দশনের অপরাধে জালাল আহমদ বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানার একটি মামলা দায়ের করেন । দিদার উক্ত মামলার এজাহার নামীয় একজন আসামী । কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-৭০, তারিখ- ৩০ মার্চ, ২০১১; জি আর নং-২০২/১১ তারিখ- ৩০ মার্চ, ২০১১ ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬। চোরাই ১ ভরি ওজনের স্বর্নের চেইন । উদ্ধার নাই । ২০১৮ সালে পরষ্পর যোগসাজসে গতিরোধ করিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করতঃ সাধারন, গুরুতর জখম, চুরি ও হুমকি প্রদর্শনের অপরাধে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানার একটি মামলা দায়ের করেন । দিদার উক্ত মামলার এজাহার নামীয় একজন আসামী । কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-১০ জি আর ৬০৯/১৮, তারিখ- ০২ আগষ্ট, ২০১৮; ধারা- ৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/৩৪। চোরাই মূল্য ২,৯০,০০০/- টাকা, উদ্ধার-নাই । ২০১১ সালে রাত্রীবেলায় সঙ্গোপনে দোকান ঘরের তালা কাটিয়া প্রবেশ করতঃ মারধর ভয়ভীতি ও খুন জখমের হুমকী প্রদর্শন করিয়া কাপড় চোপড় মোবাইল কম্পিউটার সামগ্রী এবং নগদ টাকা অনুমান ৫,০০,০০০/= সহ সর্বমোট ১০,০০,০০০/= টাকা লুণ্ঠন করার অপরাধে আলী আহমদ বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানার একটি মামলা দায়ের করেন । দিদার উক্ত মামলার এজাহার নামীয় একজন আসামী । কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-৩৪, তারিখ- ১০ আগষ্ট, ২০১১; জি আর নং-৫৯৩/১১ (কক্সবাজার সদর), তারিখ- ১০ আগষ্ট, ২০১১; ধারা- ৩৯৫/৩৯৭ ।

এতগুলো মামলার এজাহার নামীয় আসামী হলেও দিদার কালো টাকার বিনিময়ে এতদিন ধরাছোয়ার বাইরে ছিল। অবশেষে তার গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় খুশীর জোয়ার উঠেছে।

একাধিক সুত্রে জানাযায়, কক্সবাজার জেলা থেকে ইয়াবা যাদের হাত ধরে সারাদেশে বিস্তারলাভ করে তাদেরই একজন আলোচিত ইয়াবা গডফাদার কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ার দিদারুল আলম । তার নেতৃত্ব চলেছে তিনটি ইয়াবা সিন্ডিকেটের কার্যক্রম । এ তিন সিন্ডিকেটে দিদারের অধিনে কাজ করেন প্রায় ৩৭জন । তার মধ্যে রোহিঙ্গা ও বেশ কয়েকজন নারী সদস্যও রয়েছে বলে সূত্রে জানাগেছে ।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে এ ডনের নেতৃত্বে বাসর্টামিনাল সংলগ্ন ইয়াবা গ্রাম খ্যাত লারপাড়ার একডজন ইয়াবা কারবারি কাজ করেন । তাদের নেতৃত্ব দেন কবির প্রকাশ টুকাই কবির ও তার ভাই । লার পাড়ায় এ সিন্ডিকেটটি গড়ে তুলতে সহযোগীতা করেছিলেন লাল মোহাম্মদ ওরফে থানার দালাল লাল মোহাম্মদ । লাল মোহাম্মদ লার পাড়াকে ইয়াবা গ্রাম করে শত শত তরুণকে ইয়াবা ব্যবসা করতে বাধ্য করেছেন বলে পুরা জেলায় জনশ্রুতি আছে। তিনি বর্তমানে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ ধরা পড়ে জেলে আছেন । এ ছাড়াও রোহিঙ্গা নারী পুরুষের সমন্নয়ে গড়ে তুলেছেন একটি ইয়াবা বহনকারী সিন্ডিকেট । এই সিন্ডিকেটের প্রধান করে দেয়া হয়েছে আক্তার নামে দিাদারের এক ড্রাইভারকে । তারা ঢাকাসহ সারাদেশে ইয়াবা পাচার করে থাকে বলে সূত্রটির দাবি । অপরদিকে মটরলীগের নাম করে আরেকটি শক্তিশালী ইয়াবার সিন্ডিকেট কাজ করেন পর্যটন শহরের ভিতরে । এটি দিদার নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেন । মটরচালক লীগের নামে ঝিলংজা খাদ্যগোদামের পাশে ব্যবসায়ীক অফিসে চলত সমস্ত লেনদেন ও মাল লোড আনলোড । এই কাজে দিদার কে সহযোগীতা করত দক্ষিণ ডিক্কুলের কামাল ঊদ্দিনের ছেলে রুস্তম আলী ও মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে আব্দুল হক । গডফাদার দিদার বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসা করে গাড়ি, বাড়ি নামে বেনামে অঢল সম্পদের মালিক। স্থানীয়দের তথ্যমতে শূন্য থেকে দিদার বর্তমানে প্রায় শত কোটি টাকার মালিক । দিদারকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারনা সচতেন মহলের। বিস্তারীত আসছে…..

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares