সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

টেকনাফের বাহারছড়ায় আব্দুল আলীর ঘাট দিয়ে মানবপাচার এখনো সক্রিয়

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মা পাড়া এলাকার উপকূলের আবদুল আলীর ঘাট দিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে শত শত সাগর পথে মানবপাচার অবহ্যাত রয়েছে বলে এলাকাবাসী সুত্র জানা যায়। ওই মানবপাচারকারীদের দৌরাত্মে এলাকাবাসীরাও আতংকে রয়েছে।

সুত্রে জানা যায়, শীত মৌসমকে সামনে রেখে মানবপাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠে। এর মধ্যে কয়েকটি ফিশিং বোট যোগে সাগরে অপেক্ষামান বড় ট্রলারে তিন শতাধিক মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নোয়াখালী পাড়ার উপকূল দিয়ে মানবপাচারের ফলে এলাকার নিরহ, নারী-পুরুষ হয়রানীর শিকারের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, আব্দুল আলীর ঘাটের মানবপাচারকারী দালালদের দৌরাত্মে প্রতিদিন এলাকাবাসীর ঘুম হারাম হয়ে গেছে। টেকনাফের উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার বিভিন্ন নৌকা ঘাট দিয়ে সক্রিয় রয়েছে এসব মানবপাচারকারীরা। এর মধ্যে নোয়াখালীর জুম্মাপাড়া এলাকায় প্রতিনিয়ত সুকৌশলে মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ অবৈধ মানব পাচার ব্যবসা করে এলাকায় কোটিপতি হয়েছে আবদুল আলী, মো. ইসমাইল। বনে গেছেন রাতারাতি সহায় সম্পত্তির মালিক। এরা এলাকায় কাউকে মানুষের মত মানুষ মনে করেনা। ফলে এলাকাবাসী মানবপাচারের দালাল আবদুল আলী, মো. ইসমাইলকে আটক করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিতি করেছে বলে এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে। এই সব মানবপাচারকারীদের হাতে অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়েশিয়া মানব পাচার করতে গিয়ে সমূদ্রে ডুবে অনেকের সলিল সমাধি হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া পৌঁছে মুক্তিপন আদায় করতে না পারায়ও প্রাণ দিতে হয়েছে এদেশের অনেক নাগরিককে। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা ও কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় মানব পাচার ব্যবসায়ীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সুত্রে আরও জানা যায়, চিহ্নীত অনেক দালাল সাগর পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিয়েছে বলেও জানা গেছে। যাওয়ার আগে পাচারকারী দালাল সিন্ডিকেট তাদের উত্তর সূরী হিসেবে নতুন পাচারকারী সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে এরা ভিন্ন কৌশলে সাগর পথে মালয়েশিয়া আদম পাচার অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীর জুম্মাপাড়ার আব্দুল আলীর মাঝির ঘাট নামক এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত মালয়েশিয়া যাত্রী বিশেষ ব্যবস্থা ও প্রহরায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছে একটি দালাল চক্র। সেখান থেকে রাতের বেলায় জেলে সেজে ফিশিং নৌকায় করে দালালদের মাধ্যমে বড় ট্রলারে উঠিয়ে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার কয়েকজন যুবক জানান, আগে যারা মানব পাচার কাজে জড়িত ছিল তাদের অনেকেই মালয়েশিয়া পাড়ি দিয়েছে। তাদের উত্তরসূরী হিসেবে নতুন কিছু মানব পাচারকারী দালাল আইন শৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন কৌশলে মানব পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা হলেন, বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার আব্দুল আলী, মো. ইসমাইল, ইলিয়াছ, সাইফুল, মোহাম্মদ জাবেরসহ ১০/১৫ জনের একটি মানবপাচারকারীদের সিন্ডিকেট। এই মানবপাচার দালালদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আব্দুল আলীর মাঝির ঘাট দিয়ে শত শত নারী-পুরুষ পাচার করছে বলে এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়। এলাকায় মানবপাচার দালালদের বিরুদ্ধে পাচার কাজে বাধা দিতে এলে মারধর, বিভিন্ন মামলার হুমকি ধমকি দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতিতে রেখেছে। অভিযুক্ত ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে ইয়াবার মত ব্যাপক হারে ভাইরাস ছড়ার আগে এসমস্ত মানব পাচারকারী দালালদের আইনের আওতায় আনার দাবী সচেতন মহলের।

এবিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা জানান, মানবপাচার এবিষয়ে শুনেছি। মানবপাচারকারীদের পুলিশের অভিযান অবহ্যাত রয়েছে। তবে মানবপাচারকারী যেই হোকনা কেন আইনের আওতায় আনা হবে।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares