শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

প্রথম ১১ মাসে যে এগারো মন্ত্রী ব্যর্থ

  • সময় রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ডেস্কঃ
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছিল। আর সেই হিসাবে আজ আওয়ামী লীগ সরকারের ১১ মাস পূর্ণ হলো। উক্ত মন্ত্রিসভায় ছোট খাটো কয়েকটি পরিবর্তন ছাড়া পুরো মন্ত্রিসভাই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অন্যদিকে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগ যে বিরোধী পক্ষ থেকে উঠেছে, তা নয়। সাধারণ মানুষ, এমনকি খোদ আওয়ামী লীগ থেকেও তারা সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের ঘরোয়া আড্ডায় বলছে যে, এই ব্যর্থ মন্ত্রীদের জন্যই আওয়ামী লীগ চাপের মুখে পড়েছে এবং গত ১১ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার এরকম চাপের মুখে আগে কখনো পড়েনি।

আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকেই মন্ত্রীরা দায়িত্ব পালনে কতটুকু যোগ্য, সেই প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন যে, তারা মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম ভালোভাবে বুঝছেন না এবং তাদের ব্যর্থতার কারণেই পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যাদের নিয়ে এই সমালোচনাগুলো হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন।

টিপু মুনশি

ব্যর্থ মন্ত্রীদের তালিকায় যে ১১ জন রয়েছে তাদের মধ্যে সবার আগে রয়েছে টিপু মুনশির নাম। পেঁয়াজসহ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং পেঁয়াজের দামের বিশ্বরেকর্ড টিপু মুনশিকে ব্যর্থতার তালিকায় শীর্ষে রেখেছে। টিপু মুনশি নিজেও তার ব্যর্থতার কথা অস্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, পদত্যাগ ১ সেকেন্ডের বিষয়। তিনি পদত্যাগ করুন বা না করুন তবে মন্ত্রী হিসেবে যে তিনি ব্যর্থ সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের ভেতরে বাইরে কারোরই কোনো সন্দেহ নেই।

মোঃ শাহাব উদ্দিন

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন। বাংলাদেশ এখন বায়ুদূষনে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে নানা রকম কথা বার্তা হলেও তিনি কিছু্ই করেননি। মন্ত্রী হিসেবে তাকে এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো বক্তব্য, বিবৃত্তি বা কোনো উদ্যেগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

জুনাইদ আহমেদ পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিতর্কিত কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মীগণ। নেতাকর্মীরদের দাবী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব পালনের চেয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ার দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে খোদ তাঁর আপন বড় ভাই জুবাইর আহমেদ নয়নের বক্তব্য হচ্ছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামায় তার ছোট ভাই যে সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন তা বাস্তবের শত ভাগের এক ভাগও নয়।

সূত্র থেকে জানা যায়, দেশের সর্বকনিষ্ঠ এমপি পরিচিতি পাওয়া জুনাইদ আহম্মেদ পলক, তার স্ত্রী আরিফা জেসমিন, শ্বশুর, শ্যালক ও তার ফাইভস্টার বাহিনীসহ অনুগত কর্মীদের নামে-বেনামে পলক শত শত বিঘা জমি কিনেছেন এবং সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার কাজে ব্যস্ত থাকেন বেশিভাগ সময় । যার ফলে প্রযুক্তি নির্ভর দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন না।

নুরুল ইসলাম সুজন

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ব্যর্থ মন্ত্রীদের তালিকায় আরেকজন। একের পর এক রেল দূর্ঘটনা, রেল নিয়ে নানান নৈরাজ্য এবং নজিরবিহীন সময় বিভ্রাট রেলকে এক নতুন সঙ্কটের মুখে ফেলেছে এবং এইক্ষেত্রে রেলমন্ত্রী ব্যর্থ মন্ত্রী হিসেবেই পরিচিত পেয়েছে।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন

ড. এ কে আব্দুল মোমেন আরেক জন ব্যর্থ মন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে না পারছেন কিছু করতে আবার ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক তার সময়ে নতুন টানাপোড়েনের সামনে পড়েছে। আর এসব বিষয়ে তিনে বক্তব্য ও বিবৃত্তি দেওয়া ছাড়া তেমন কিছু করতেও পারছেন না।

সাধন চন্দ্র মজুমদার

খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার আরেক ব্যর্থ মন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তিনি খাদ্য পরিস্থিতি বাজার পরিস্থিতি তার কোনো উদ্বেগ বা উৎকন্ঠা জনগণের চোখে পড়েনি। খাদ্য মজুদ এবং সরবারহের বিষয় নিয়েও তার মন্ত্রণালয়ের কোন রকম দায়িত্বপূর্ণ আচরণ জনগন দেখেনি।

ইমরান আহমেদ

প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যানের ক্ষেত্রে কোন অগ্রগতি হয়নি। বরং সৌদি আরব থেকে নারী কর্মীদের বারবার দেশে ফেরা বাংলাদেশকে এক নতুন সমস্যার মধ্যে ফেলেছে। এ কারণে অভিবাসীদের মধ্যে নতুন আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। অভিবাসন নিয়ে বাংলাদেশের যে গর্বের জায়গা ছিল সেই জায়গাগুলো ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।

শ ম রেজাউল করিম

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীও ব্যর্থদের তালিকায় থাকবেন। তিনি এফ আর টাওয়ারের পরে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সমস্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং নকশাবহির্ভুত ভবন চিহ্নিত করবেন। তাঁর সেই বক্তব্য শুধু বক্তব্যই রয়ে গেছে। এফআর টাওয়ারের তদন্ত রিপোর্ট নিয়েও বাস্তবে কোন কাজ হয়নি। তিনি বিজেএমই ভবন ভেঙে ফেলার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই ভবনও এখন বহাল তবিয়তে রয়েছে। বাংলাদেশে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের কোন নতুন অবয়ব বা নতুন সম্ভাবনা নিয়ে জনগণের সামনে উদ্ভাসিত হয়নি।

মাহবুব আলী

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাহবুব আলী আরেক ব্যর্থ মন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। তিনি বিমানের নানা রকম উন্নয়ন এবং উৎকর্ষতা বৃদ্ধির জন্য কথাবার্তা বলছেন, তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বিমানের যে খারাপ অবস্থা, সেই খারাপ অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয়ের একটি। এবং সেখানে এবারের সবথেকে বড় চমক ছিল তাজুল ইসলামের মতো অপেক্ষাকৃত অরাজনৈতিক ব্যবসায়ীকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার তুলে দেয়া। মন্ত্রী হিসেবে তিনি এই মন্ত্রণালয়ের জন্য কিছুই করতে পারেনি। বরঞ্চ এই মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি শ্লথ হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এখানে এসে সুবিধা পাচ্ছেনা বলেই তাঁরা অভিযোগ করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি স্থানীয় রাজনীতিবিদরা যুক্ত এবং সেখানে এসে এই মন্ত্রণালয় কতটুকু সফল হয়েছে- তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ

গত ১১ মাসের মন্ত্রিসভায় ১১ তম ব্যর্থ মন্ত্রীর তালিকায় অবশ্যই থাকবেন ধর্মমন্ত্রী। রোজার ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে তিনি যে কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন সেজন্য তার নাম ব্যর্থতার তালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে।

এই ১১ জন ব্যর্থ মন্ত্রীর নানা ব্যর্থতার কারণে সরকার গত দুই মেয়াদে যেরকম সাফল্য অর্জন করেছিল এবং উন্নয়নের যে গতির সূচনা হয়েছিল তৃতীয় মেয়াদে এসে সেই গতিধারা ধরে রাখতে পারেনি এবং সাফল্যগুলো অনেকক্ষেত্রে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মনে করেন এই সাফল্য ম্লান হওয়ার পেছনে এই ১১ মন্ত্রীর ব্যর্থতা এক বড় কারণ।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares