শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

কক্সবাজারের হুন্ডি সাম্রাজ্য এখন মৌলভী নুরুল কবিরের হাতে

  • সময় বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

শাহীন মাহমুদ রাসেলঃ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে
কক্সবাজারে আবাদে চলছে অবৈধ হুন্ডির রামরমা বানিজ্য। জেলায় বিভিন্ন সময় হুন্ডি ব্যবসায়ীদের তালিকা হলেও এখনো পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ কারনে বহাল তবিয়তে চিহৃত হুন্ডি ব্যবসায়ীদের অনেকেই।

কক্সবাজার সদরের লিংক রোড়ের ভাই ভাই ট্রেডিং চালের দোকানের আড়ালে অবাদে চলছে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা। এর নেতৃত্বে দিচ্ছেন চিহৃত হুন্ডি ব্যবসায়ী নুরুল কবির( ওরফে) মৌলভী নুরুল কবির। এ চক্রের দৈনিক প্রায় কোটি টাকার মত লেনদেন হয় বলে সূত্রে জানাগেছে।

চিহৃত নুরুল কবির সেন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এক প্রকার প্রকাশ্যে অবৈধ লেনদেন বহাল তাবিয়ত থাকলেও কৌশলে রয়েগেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলাকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী হুন্ডিচক্র রয়েছে। তাদের সম্পর্ক সৌদিআরব, দুবাই, ওমান, বাহরাইন, কাতারসহ বাংলাদেশী অধ্যূসিত বিভিন্ন দেশে। দেশ বিদেশে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এপারে টাকা জমা করলে নিমিষে ওপারে মেলে নির্ধারিত কমিশনের বিনিময়ে সেদেশের মুদ্রা। তাতে সরকার হারাচ্ছে রেমিটেন্স।

কক্সবাজার সদরের কবির উদ্দিন নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তার শ্বশুর দীর্ঘদিন সৌদিআরব বসবাস করেন। হঠাৎ আকামা মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য টাকা দরকার পড়ে তার। নুর কবির ও চাউল ব্যবসায়ী আমিন নামের সহোদর দুই ভাই হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে গত জুন মাসে রাতে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পাঠায়।

মক্কার নাক্কাসা এলাকার একটি ঘড়ির দোকানে গিয়ে ৩ দিন পর ৭ হাজার রিয়াল দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে ৬৯৩০ সৌদি রিয়াল গ্রহণ করেন শ্বশুর। হুন্ডি ব্যবসায়ী নুর কবির ও আমিনের বাড়ি কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের বাংলাবাজার মৌলভী পাড়া এলাকায়। প্রবাসিদের তথ্যমতে হুন্ডির টাকা লেনদেনের জন্য নিরাপদ ও বিশ্বস্ত ঠিকানা হচ্ছে ভাই ভাই ট্রেডিং।

স্থানীয়রা জানান, আমিন ও নুর কবির বড় মাপের হুন্ডি ব্যবসায়ী। শহরের প্রবেশমুখ লিংকরোডে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন ভাই ভাই ট্রেডিং তাদের হুন্ডি ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক। সেখানে বসে তাদের দুই থেকে তিনজন পার্টনার। চেরাংঘাটা ও সুইচগেটে তাদের নিয়ন্ত্রিত আরো দুইটি দোকানে হুন্ডি লেনদেন হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌদি আরব প্রবাসি কয়েকজন জানান, নাক্কাসা ও মিছফালাহ এলাকায় হুন্ডির জন্য তাদের আপন ভাই ও ভাতিজা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। ঘড়ির দোকান ও স্টেশনারীর দোকানের আড়ালে তাদের অবৈধ ব্যবসা চলে। সেখানকার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে নুর কবিরের আপন ভাই হাকিম, সাদেক ও ভাতিজা ওলি উল্লাহ। তারা দুজনই কক্সবাজার সদরের বাংলা বাজারের মৌলভী পাড়ার বাসিন্দা।সৌদিআরব কেন্দ্রিক তাদের সিন্ডিকেটে রয়েছে আরো অন্তত ১০ জন।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমের পরিচয় গোপন রেখে হুন্ডি চক্রের মূলহোতা নুর কবিরকে গ্রাহক সেজে ফোন হয়।তিনি জানতে চান কোন দেশে, কত টাকা পাঠাতে হবে?। তার সঙ্গে ২লাখ টাকা সৌদিতে পাঠানোর কথা পাক্কা হলে সে সুইচ গেইটে পিএমখালী সড়কে অবস্থিত একটি দোকানে গিয়ে শাহাজান নামের একজনকে ফোন ধরিয়ে দিতে বলেন।

তার সূত্রধরে এ প্রতিবেদকের দেখা হয় শাহাজানের সঙ্গে। পরে গণমাধ্যমের পরিচয় জানতে পেরে শাহাজন জানান নুরুল কবিরের কাছে মাসে ১০ হাজার টাকায় চাকরি করেন করেন তিনি।অন্য অনেকের মত তার কাজ হুন্ডির টাকা দেয়া নেয়া।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন শুধু মাত্র হুন্ডির টাকা লেনদেনের জন্য নুরুল কবিরের ৭থেকে আটজন কর্মচারী রয়েছে।

এ বিষয়ে নুরুল কবিরের সঙ্গে ফের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন আমি আগে হুন্ডি ব্যবসা করলেও এখন করিনা না। তবে তার সঙ্গে ফোনে ২লাখ টাকা লেনদেন এবং কর্মচারী শাহাজনের স্বীকারোক্তি বিষয় উল্লেখ করতেই তিনি ফোনের লাইন বিছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আনা হলে খুব শীঘ্রই এসব হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares