শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

ছাত্রলীগ আমার কাছে আজন্মকালের লালিত স্বপ্নঃ সাখাওয়াত হোসেন

  • সময় বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৩০৬ বার পড়া হয়েছে

পিতা মুজিব ভালোবেসে এবং দেশ ও জাতির প্রয়োজন মনে করেই ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ছাত্রলীগ বলতেই প্রত্যেক মুজিব সৈনিকের কাছে ভালোবাসার অপর নাম। শৈশবের উচ্ছ্বাস, কৌশরের ভালোলাগা আর,যৌববেনর আজন্ম লালিত স্বপ। কতই না প্রিয় এই ছাত্রলীগ! জীবনের সকল মায়া, আন্তরিকতা, শ্রম, ত্যাগ আর জীবন উজাড় করে দিয়ে ভালোবেসেছি ছাত্রলীগকে। মুজিবার্দশের সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার মুখেই প্রথম শুনেছিলাম পিতা মুজিবের গান। না বুঝে, না জেনে, না দেখে প্রথম ভালো লাগার মানুষটি হয়তো পিতা মুজিবই হতে পারে। পিতা মুজিবের প্রেমে পড়ে ছোট বেলায় ভালো লাগার নামই হল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আমার এখনো মনে পড়ে সেই ২০০১ সালে যখন ক্লাস থ্রীতে, তখন আমার প্রাইমারি স্কুল বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেইটে কাগজের নৌকা বানিয়ে টাঙিয়ে রেখেই ছাত্রলীগের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে নিজের অজান্তে। বড় ভাইয়ার কাছে যখন আগ্নিঝরা স্লোগান আর ভাষণ শুনতাম তখন হৃদয় নাড়া দিয়ে ওড়ত। ধীরে ধীরে মনের মাঝে ছাত্রলীগকে বাঁধতে শুরু করি। ২০০১ সাল পরবর্তী বি এন পি – জামায়ত জোটের সীমাহীন দূর্নীতি আর অপশাসন দেখেছিলাম নিজ চোখে। আওয়ামী আদর্শের মানুষের ওপর চলা নির্মম নির্যাতন নিজ চোখে দেখে কোন প্রতিবাদ না করেই চেয়ে চেয়ে দেখার মত কষ্ট সেই সময়ে বুঝি আর পাইনি। ২১ আগষ্ট মমতাময়ী নেত্রী, শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নি। রাজপথে নেমেছিলাম সেদিন প্রতিবাদ জানাতে। সেদিনের পর বুঝতে পারলাম পিতা মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একমাত্র যোগ্যা দাবীদার প্রাণপ্রিয় নেত্রী ছাড়া আর কেউ হতে পারে না। সেদিন থেকে মমতাময়ী নেত্রীর প্রেমে পড়ে গেলাম। ছাত্রলীগ -আওয়ামীলীগের প্রতি ভালোবাসার কারণে এলাকার মানুষেরা আমাকে আওয়ামীলীগ বলে তুচ্চ তাচ্ছিল্য করত। আমার ডাক দেয় সবাই আওয়ামীলীগ। তবে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান আর গর্ববোধ করতাম। তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের মধ্যে পিতা মুজিবের আদর্শকে যে কতটা ভালবাসতাম তারই প্রকাশ পেতাম। ২০০৪ সালে বি এন পি -জামায়ত জোটের হরতাল বিরোধী মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে পড়ালেখা থেকে ছিটকেও গিয়েছিলাম। ২০০৮ সালে আবারও ভর্তি হয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের হাত ধরেই ভালোগা আর ভালোবাসার সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়। প্রাণপ্রিয় নেতা জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হাত ধরেই ছাত্রলীগের পথ চলা। এরপর বাংলা বাজার সাংগঠনিক শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক (জাহেদ – মুন্না) কমিটি, মোঃ ইলিয়াছ মিয়া চৌং উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ( মালেক – জাহাঙ্গীর) স্বাক্ষরিত, কক্সবাজার হার্ভার্ড ইন্টারন্যাশনাল কলেজ শাখার সভাপতি ( তানিম-শাকিল) স্বাক্ষরিত ও পরবর্তীতে কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (ইশতিয়াক- তানিম) স্বাক্ষরিত। দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতি জীবনে জামায়ত-বি এন পি চক্রের নাশকতা, হামলার বিরুদ্ধে রাজপথে থেকেছি স্বোচ্চার। তাদের হামলা ও নাশকতার মামলার বাদী হয়ে এখনও মামলাগুলো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। নীতি – আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কখনো বি এন পি – জামায়তের সাথে আপোষ করিনি। এমন কি নিজের রক্তের সম্পর্কের চাচাকে পর্যন্ত ছাড় দেয়নি। জীবনকে সর্বোচ্চ হুমকির মুখে রেখে পিতা মুজিবের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করেছি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নিজেকে নিয়োজিত করে রেখেছি। দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতির পথচলায় কখনো নিজের স্বার্থ, ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করি নি। পরিবার, আত্নাীয়, বন্ধু, প্রতিবেশি ও ক্যারিয়ারের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছি ছাত্রলীগকে। তাইতো ছাত্রলীগকে সবকিছুর উর্দ্ধে রেখেছি। আমার পরিবার আর শিক্ষক ও সহপাঠীরা বলত আমি ভবিষ্যতে বুয়েট, মেডিকেল বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বড় কিছু হব। সবাই অনেক স্বপ্ন দেখেছিল। তাদের কারোর স্বপ্নটা পূরণ করতে পারি নি। কারণ তারা জানত না তাদের স্বপ্নের চেয়ে আমার কাছে ছাত্রলীগের প্রতি ভালোবাসাটা অনেক বড়। অনেক বেশি ভালবাসি প্রাণের ছাত্রলীগকে। নিজের জীবনকে বিসর্জন দিয়ে হলেও পিতা মুজিবের মান রাখবই। ছাত্রলীগের প্রতি এই প্রেম -ভালোবাসা আজীবন থাকবে। মৃত্যুর পর একটাই কামনা থাকবে যেন কালেমা, জাতীয় ও ছাত্রলীগের পতাকা দিয়ে যেন আমার নিথর দেহে জুড়িয়ে দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হয় আমায়।
অনেক অনেক শুভ কামনা ও ভালোবাসা রইল পিতা মুজিব, মমতাময়ী নেত্রী শেখ হাসিনা ও প্রিয় সংগঠনের প্রতি।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares