রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:৪০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

লামা উপহেলায় দখল-দূষণের কবলে ঐতিহ্যবাহী বাজার পুকুর

  • সময় বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১৭০ বার পড়া হয়েছে

আরিফুল ইসলাম,লামা প্রতিনিধি :

লামা বাজারের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত একমাত্র পুকুরটি দখল ও দূষণের কবলে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। পুকুরের চারপাশে গড়ে উঠা দোকানপাট ও বসতবাড়ির লোকজনের ফেলা আবর্জনার কারণে পুকুরটি ময়লার ভাগাড় হিসাবে রুপ নিয়েছে। এতে করে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পুকুরটি। একসময় বাজার ও চারপাশের মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল কাজে পুকুরটির পানি ব্যবহৃত হত। প্রতিবছরই লামা বাজারের আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তখন পুকুরটির পানি স্বর্গীয় আর্শীবাদ হিসাবে কাজে লাগে সকলের। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ‘বাজার ফান্ডের’ আওতাধীন লামা বাজারের এই পুকুরটি পুনঃসংসস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা সময়ের দাবী হিসাবে দেখছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া পুকুরটি নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এখন কচুরিপানা ও আবর্জনায় পরিপূর্ণ। ফলে এলাকায় মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী কিছু লোক সুকৌশলে দিন দিন আরো ময়লা-আবর্জনা ফেলে সরকারি ওই জলাশয়টি দখল করার পায়তারা করছে। কচুরিপানা ও আবর্জনায় পরিপূর্ণ ওই জলাশয়কে অনেকেই মশার আদর্শ প্রজননস্থল বলে মনে করছেন। সৃষ্টির পর থেকে দুই-একবার সংস্কার হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ পুকুরটি সংস্কার করা হয়নি। এতে মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তাছাড়া প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে ডুবে যাওয়ায় পলিমাটি ও কাঁদায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে পুকুরটি।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, মাসখানেক আগে আমি সরেজমিনে পুকুরটি পরিদর্শন করে এসেছি। চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে আলাপ করে পুকুরটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লামা মাছ বাজারের সামনে চতুর্ভুজ আকৃতির পুকুরটি প্রায় ৪৫ শতক জায়গা জুড়ে রয়েছে। পুকুরের পানি ব্যবহারের জন্য দুইপাশে ২টি সিঁড়ি করা হয়েছে। পুকুরটিতে বারমাসই পানি থাকে। পুকুরের এক পাশে দোকানপাট আর বাকী তিন পাশে মানুষের বসতবাড়ি। ধীরে ধীরে দখল ও দূষণের কারণে পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চারপাশের বসবাসকারীরা তাদের সকল ময়লা আবর্জনা সহ টয়লেটের মলমূত্রের লাইন দিয়েছে পুকুরটিতে। অর্ধশত বছরের পুরাতন বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় পুকুরটি এখন কয়েক কোটি টাকা সম্পদে রুপ নিয়েছে। তাই কৌশলে কিছু অসাধু মানুষ ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে দখল নিতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, জনস্বার্থে এবং পর্যটকের ব্যবহারের সুবিধার্থে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পুকুরে একটি ঘাটলা নির্মাণ করে দেয়।

লামা বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন সেন, বাবলা দাশ ও নাজমুল ইসলাম নিপুল সহ অনেকে বলেন, লামা বাজারে বারমাসই পানির সংকট। এটি লামা বাজারের একমাত্র পুকুর। দ্রুত পুকুরটি সংস্কার করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করার দাবী জানাচ্ছি আমরা।

লামা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাপান বড়ুয়া বলেন, বাজারের আগুন লাগলে পুকুরের পানি একমাত্র ভরসা। অযত্নে অবহেলায় ও ময়লা ফেলার কারণে পুকুরটি ভরাট হয়ে গেছে। আগে প্রতিবছর মাছ চাষের জন্য ইজারা দিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। পুনখনন ও সংস্কার করে পুকুরটি জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার অনুরোধ করছি।

লামা বাজার চৌধুরী থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, লামা বাজার প্রতিষ্ঠা কালে শতক প্রতি দেড় হাজার টাকা প্রদান করে পুকুরের জায়গাটি অধিগ্রহণ করে বান্দরবান জেলা পরিষদ। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতক জায়গার উপর পুকুরটি অবস্থিত।

এবিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, লামা বাজারের একমাত্র পুকুরটি পুনঃসংস্কারের প্রয়োজন। বাজারের মানুষের নিত্যদিনের কাজে পুকুরের পানি খুবই প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলব।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares