রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

শুরুর ঘণ্টায় খেলা শেষ! ইডেনে বাংলাদেশের বড় হার

  • সময় রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত ডেস্কঃ
হারের মঞ্চটা প্রস্তুতই ছিল। মস্তিষ্ক বলছিল প্রথম ঘণ্টাতেই লেখা হয়ে যাবে বাংলাদেশের আরেকটি ব্যর্থতার কাব্য। কিন্তু হৃদয় কী আর এতোশত বুঝে? বড্ড বেপরোয়া! মুশফিকের সেঞ্চুরি সঙ্গে লিডের স্বপ্নটাও যে উঁকি দিচ্ছিল! কিন্তু বাস্তবতার জমিন বড্ড বন্ধুর। না, কোন ম্যাজিকের দেখা মিলেনি ইডেনের নন্দন কাননে! শুরুর ঘণ্টায় খেলা শেষ! ইডেনে বাংলাদেশের বড় হার।

প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির দেখা পেয়েছে ভারত। ছুটির দিনে পূর্ণ দৈর্ঘ্য সিনেমা নয়, ট্রেলারেই অবশ্য সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ক্রিকেট প্রেমীদের। যে গোলাপি বলের টেস্ট নিয়ে প্রত্যাশা আর আগ্রহের পারদ আকাশ ছুঁয়েছিল, সেখানেই কীনা দেখা মিলল একপেশে, বেসুরো ক্রিকেট। ভারত খেলল আর বাংলাদেশ নিছক সঙ্গটাও দিতে পারল না।

ঠিক তাই, ইন্দোরের পর কলকাতাতেও হতাশ করল বাংলাদেশ। মুমিনুল হকের দলকে ইনিংস ও ৪৬ রানে হারিয়ে ২-০ তে টেস্ট সিরিজ জিতল ভারত। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে জয় যাত্রা ধরে রাখল বিরাট কোহলির দল।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে আটকে গেল ১৯৫ রানে। আগের দিন চোট নিয়ে ফেরা মাহমুদউল্লাহ মাঠেই নামতে পারলেন না!

ইডেনে চাপে থেকেই রোববার মাঠে নামে বাংলাদেশ। দিবা-রাত্রির লড়াইয়ে ইনিংস হার বাঁচাতে দিনের শুরুতেই দরকার ছিল ৮৯ রান। হাতে মাত্র ৪ উইকেট। তবে ওই যে ভরসার নাম ছিল মুশফিক। যিনি ছিলেন উইকেটে। যার ব্যাটে এর আগেও ভারতের বিপক্ষে শতক দেখেছে বাংলাদেশ।

কিন্তু এবার হলো না! ব্যাটিং বীরত্বে গোলাপি বলের টেস্টটাকে তৃতীয় দিনে নিয়ে গেলেও শতক পেলেন না। ৭৪ রানে থামলেন মুশফিক।

ম্যাচটা তৃতীয় দিনে নিয়ে গেলেও খেলা শুরু হতেই বিদায় নেন ইবাদত। অবশ্য এটাই তো স্বাভাবিক, স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা যেখানে ব্যর্থ সেখানে তিনি আর কী করবেন। উমেশ যাদবের ডেলিভারিতে স্লিপে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শূন্য রানে আউট ইবাদত!

এরপর শেষ হয় মুশফিকের সংগ্রাম। ৫৯ রান নিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর ১৫ রান যোগ করেই রোববার সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। অন্যপ্রান্তে উইকেট পড়ছে এ কারণে দ্রুত রান তুলতে গিয়েই কাটা পড়েন মুশি। উমেশ যাদবের অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ভুল করলেন। স্লোয়ারে টাইমিং হলো না। বল চলে গেল রবিন্দ্র জাদেজার হাতে।

৯৬ বলে ৭৪ মুশির ব্যাটে। আর বাংলাদেশ তখন ৮ উইকেটে ১৮৪ রান। এরপর আবু জায়েদও চটজলদি পিছু নেন তার। তাকে ফেরান মোহাম্মদ শামি। আর লেখা হয়ে যায় বাংলাদেশের আরেকটি ব্যর্থতার কাব্য!

ইন্দোরে সিরিজের প্রথম টেস্টে দল হেরে ছিল ইনিংস ও ১৩০ রানে। কলকাতায় ইতিহাসের প্রথম গোলাপি বলের টেস্টে সোয়া দুই দিনে সব শেষ। এবার মুমিনুল হকের দল হারল ইনিংস ও ৪৬ রানে।

রোববার ছুটির দিনে কলকাতার দর্শকরা হতাশই হলেন। ঘড়ির হিসাব বলছে মাত্র ৪৭ মিনিটেই সর্বনাশ! অবশ্য মুশফিক ছাড়া অন্য কেউ কিছু একটা করবেন সেই প্রত্যাশাটাও ছিল না। সকালে যখন জানা গেল, মাহমুদউল্লাহ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট সামলে নামতে পারবেন না, তখন দ্রুত হারের প্রহর গোনা ছাড়া আর কিছুই বাকি ছিল না।

অথচ লড়াইয়ের দারুণ এক মঞ্চ পেয়েছিল বাংলাদেশ। গোলাপি বল টেস্টকে ঘিরে সৌরভ গাঙ্গুলি ইডেনে এনে দিয়ে ছিলেন ভিন্নমাত্রা। কিংবদন্তিদের পদচারণায় শুরু হয় মাঠের লড়াই। গোটা ক্রিকেট বিশ্বের নজর ছিল উপমহাদেশের প্রথম পিঙ্ক বল টেস্টে। কিন্তু একেবারেই সাদামাটা এক বাংলাদেশের দেখা মিলল।

উইকেট ভালো, প্রতিপক্ষের বোলাররাও দুর্দান্ত, তারপরও এভাবে এত অল্প পুঁজিতে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলটা বড্ড চোখে লাগল। ভারতের মাঠে প্রথম দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলতে এসে দুঃস্বপ্ন সঙ্গী করেই ফিরে যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১০৬/১০ (৩০.৩ ওভারে, সাদমান ২৯, ইমরুল ৪, মুমিনুল ০, মিঠুন ০, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৬, লিটন দাস ২৪ রিটায়ার্ড হার্ট, নাঈম হাসান ১৯, এবাদত ১, মেহেদি ৮, আল-আমিন ১, আবু জায়েদ ০, অতিরিক্ত ১৪; ইশান্ত ৫/২২, উমেশ ৩/২৯ ও শামি ২/৫)।

ভারত প্রথম ইনিংস: ৮৯.৪ ওভারে ৩৪৭/৯ (ডি.) (আগের দিন ১৭৪/৩) (মায়াঙ্ক ১৪, রোহিত ২১, পূজারা ৫৫, কোহলি ১৩৬, রাহানে ৫১, জাদেজা ১২, ঋদ্ধিমান ১৭*, অশ্বিন ৯, উমেশ ০, ইশান্ত ০, শামি ১০*; আল-আমিন ৩/৮৫, আবু জায়েদ ২/৭৭, ইবাদত ৩/৯১ ও তাইজুল ১/৮০)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১৯৫/১০, ৪১.১ ওভার (সাদমান ০, ইমরুল ৫, মুমিনুল ০, মিঠুন ৬, মুশফিক ৭৪, মাহমুদউল্লাহ ৩৯ রিটায়ার্ড হার্ট, মিরাজ ১৫, তাইজুল ১১, এবাদত ০, আল-আমিন ২১ ও আবু জায়েদ ২*; উমেশ ৫/৫৩ ও ইশান্ত ৪/৫৬)।

ম্যাচ সেরা: ইশান্ত শর্মা (ভারত)।

সিরিজ সেরা: ইশান্ত শর্মা (ভারত)।

ম্যাচ ফল: ভারত ইনিংস ও ৪৬ রানে জয়ী।

সিরিজ ফল: দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতল ভারত।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares