রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

টেকনাফে হোল্ডিং নম্বর নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি

  • সময় রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়ন কর্তৃক সাধারণ জনগণের সঙ্গে হোল্ডিং নম্বর নিয়ে ব্যাপক প্রতারণা, অনিয়ম ও দুর্নীতি করার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, একটি বাড়িতে হোল্ডিং নম্বর একবার দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিকট থেকে একাধিকবার টাকা আদায় করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বার বারই হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার অজুহাত দেওয়া হয়েছে।

যার সর্বশেষ ২০১৩ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী হাবীব উল্লাহর আমলে বাহারছড়া ইউনিয়নের সাত থেকে আট হাজার পরিবারের হোল্ডিং নম্বর সরাসরি পরিষদের বালামে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়। তখন সর্বসাধারণ থেকে হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারী ট্যাক্সসহ ১০০-২০০ টাকা করে আদায় করে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ।

অন্যদিকে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দীন বাহারছড়া ইউনিয়নের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমে ২০১৭ সালে হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার কথা বলে বাহারছড়ার প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবার থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করে। কিন্তু প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই হোল্ডিং নম্বর এখনো দেওয়া হয়নি বলে এলাকার শত শত মানুষের অভিযোগ। তার পরিপেক্ষিতে ২০১৯ সালে হোল্ডিং নম্বর দেওয়া ও চৌকিদারী ট্যাক্স আদায়ের কথা বলে মৌলভী আজিজ উদ্দীন বাহারছড়ার প্রায় ৮ হাজার পরিবার থেকে আবার লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেন।

আদায়কৃত টাকার মধ্যে বেড়ার ঘর ৫০০ টাকা, সেমি পাকা ঘর ৭০০ টাকা, এবং ছাদ জমানো দালান থেকে ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করার অভিযোগ সবখানে। কিন্তু টাকা আদায়ের পর জনগণের কাছে চৌকিদারী ট্যাক্স ও হোল্ডিং নম্বর বাবদ কাউকে ২৫০ টাকা, কাউকে ৩০০ টাকা, কাউকে ১৫০ টাকা, কাউকে ৩৫০ টাকা করে ইউনিয়ন পরিষদের রশিদ দেওয়া হয়।

যার বেশ কয়েকটি কপি স্থানীয়রা প্রদর্শন করেন। অপরদিকে এলাকার লোকজন এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জবাব হচ্ছে, এনজিওর নামে বাহির থেকে আসা লোকেরাই এসব করছে বলে জবাব দেওয়া হয়। নতুন ভোটার হতে সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও হোল্ডিং নম্বর দেওয়ার কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে টাকা আদায়ের রশিদ দেওয়া হতো তা না দেখালে চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ কখনো কাগজে স্বাক্ষর করেন না এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অবাক বিষয় হলো এনজিও সংস্থার নাম দিয়ে বাহারছড়ার বাইরে থেকে লোক এনে অনেকটা কঠোরভাবে টাকা আদায় করেন চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দীন। তবে মৌলভী আজিজ গত কিছুদিন আগে দুদকের হাতে আটক হওয়ার পর এসব লোক পালিয়ে যায় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। আরো জানা গেছে, ২০১৭ সালের পর আবার ২০১৯ সালে চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দীন হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারী ট্যাক্সের নামে টাকা আদায় করার পর তার ছবিযুক্ত হোল্ডিং টিন বানিয়ে ২০১৩ সালে বালামে লিপিবদ্ধ করা হোল্ডিং নম্বরগুলো নতুনভাবে লিখে দেওয়া হয়।

এসব হোল্ডিং নম্বরের অনেকগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। একটি সূত্রে জানা যায়, হোল্ডিং নম্বরসহ বিভিন্ন খরচ বাবদ ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক কর মাত্র ৫০ টাকা। সেটি পরিষদের বিভিন্ন কাজে কর্মে জনগণ থেকে প্রত্যেক বছর আদায় করা হয়। এটি ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক আয়ও ধরা হয়। কিন্তু আলাদাভাবে লোক নিয়োগ করে জনগণ থেকে বেশি টাকা আদায় করার নজির অতীতে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের নেই বলে বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে বাহারছড়া ইউপি সচিব দুলাল পাল বলেন- ‘চেয়ারম্যান সাহেব কোনো বিষয়ে আমার সঙ্গে তেমন পরামর্শ করেন না। তবে পরিষদের বার্ষিক আয়ের অন্যতম উৎস হল হোল্ডিং নম্বর। তবে সেটা কত টাকা হবে তা সরকারিভাবে একটা নিয়ম আছে।’ অপরদিকে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাসেম বলেন- আমি স্থানীয় চকিদার থেকে খোঁজ নিয়ে দেখেছি যে ইতিমধ্যে বাহারছড়ায় নতুন কোনো হোল্ডিং নম্বর যুক্ত হয়নি। আর দুর্নীতির দায়ে বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দীন কারাগারে থাকার কারণে তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। এ কারণে এ সম্পর্কে চেয়ারম্যানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares