বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

ঠাকুরগাঁওয়ে বিশেষ শিশুদের একমাত্র ঠিকানা একতা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন স্কুল,সরকারি সহযোগিতা দাবি শিক্ষকদের।

  • সময় বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১০৮ বার পড়া হয়েছে

রবিউল ইসলাম ব্যুরো রংপুর।

আমরা কিছু কিছু মানুষ মনে করি প্রতিবন্ধীরা পরিবার ও সমাজের বোঝা এ কথা মানতে নারাজ আমিরুল ইসলাম। আমিরুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ঠাকুরগাঁওয়ে গড়ে তুলেছেন একতা প্রতিবন্ধী স্কুল ও পুর্নবাসন কেন্দ্র। আমিরুল ইসলাম সমাজের অবহেলিত ১৫ জন প্রতিবন্ধী অসহায় শিশুকে নিয়ে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন। বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে সমাজের অবহেলিত প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে টিন শেটের একটি ঘরে ছোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। আজ সেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবন্ধীদের একমাত্র ঠিকানা হিসাবে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে মোলানি বাজারের পাশে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘একতা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’। আমিরুল ইসলামের এ মহৎ উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীরা,স্থানীয় শিক্ষিত ব্যক্তিরা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। প্রতিষ্ঠানটি শুরুর দিকে প্রতিবন্ধী শিশুদের জ্ঞান অর্জন ও নিজস্ব ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্ব দিলেও। এখন প্রতিষ্ঠানটিতে মাধ্যমিক শিক্ষা, কোরআন শিক্ষা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিবন্ধী শিশুদের। শিক্ষা অর্জন করে প্রতিবন্ধী শিশুরাও তাদের সহপাঠীদের ন্যায় শিক্ষায় ভূমিকা রাখছেন।আমিরুল ইসলামের এ মহৎ উদ্যোগের জন্য ঠাকুরগাঁও বর্ডার গার্ড বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র ও মসজিদ নির্মাণ ও বিনোদন পার্কের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। একতা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোক্তা ও পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা পরিবারের বোঝা আমি এই কথা মানিনা। প্রতিবন্ধী শিশুদের আলাদা একটা মেধা আছে,আমরা তাদের মেধার যত্ন নেইনা তাই তারা অবেহেলিত। আমি শিশুদের পেছনে অনেক অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি তাদেরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ও পরিবারের বোঝা কমাতে কাজ করছি কিন্তু আমি আর পারছি না। আমি সরকারের সহযোগিতা চাই। সরকারি সহযোগিতা না পেলে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এখানে আমরা সবাই বিনা পয়সায় পরিশ্রম করতেছি। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে বাক-প্রতিবন্ধী, বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী, অটিজম ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ৪২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এতোগুলো প্রতিবন্ধী শিশুদের সামলানো আমাদের পক্ষে খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাদের ক্লাশরুম, তাদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কাজ করছে এলাকার প্রায় ২৫ জন শিক্ষিত ছেলে ও মেয়েরা। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমি প্রতিবন্ধীদের মানব সম্পদ হিসাবে গড়ে তুলবো। স্কুলটির শিক্ষার্থী বিশেষ শিশু সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,আমরা প্রতিবন্ধী তাই আমরা সমাজে অবেহেলিত,আমিরুল স্যার আমাদের জন্য অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমাদের এখানে ক্লাশ রুম নাই আমরা খোলা আকাশের নিচে পড়াশুনা করতেছি, আমাদের খেলার জিনিস পত্র নেই,আমরা অসুস্হ্য হলে ঔষধ পাইনা। পড়াশুনা করার জন্য আমাদের বই,খাতা ও ভালো টেবিল চেয়ার দরকার। একতা প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক গোলাম সারোয়ার বলেন,আমরা বিনা পয়সায় এখানে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।তাদেরকে সমাজে ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি কিন্তু আমরা আর কতো দিন বিনা পরিশ্রমে কাজ করবো।আমাদেরতো পরিবার সংসার আছে স্কুল থেকে যদি আমরা কিছু না পাই তাহলে আমাদের সংসার কিভাবে চলবে। মানবতার মা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাদের স্কুলটি এমপিও ভুক্ত করে দেয় বা ভাতা পদ্ধতি চালু করে দেয় তাহলে আমরা বাঁচতে পারবো সাথে প্রতিবন্ধী শিশুরাও পাবে স্বপ্নের ঠিকানা। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান বলেন, একতা প্রতিবন্ধী স্কুলের পরিচালক আমিরুল ইসলাম অনেক ভালো একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহন করেছে তাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই,সে প্রতিবন্ধী বা বিশেষ শিশুদের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতেছে। স্কুলটির সুযোগ সুবিধার জন্য আমরা যতেষ্ট চেষ্টা চালাচ্ছি। এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দাবী অচিরেই স্কুলটিকে এমপিও ভুক্ত করা হউক। উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ ও ১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি জেলার প্রতিবন্ধী স্কুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares