শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০১:১৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

কোরআন শরিফ পড়া অবস্থায় ভবন ধসে প্রা’ণ যায় দুই ভাইয়ের

  • সময় বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

দুই দিন আগে নারায়ণগঞ্জে চারতলা ভবন ধসের ঘটনায় দেয়ালে চাপা পড়া স্কুলছাত্র ওয়াজিদের (১১) ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়েছে। দুই দিনের চেষ্টার পর আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে দেয়াল চাপা পড়া অবস্থায় ওয়াজিদের ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়।

জানা যায়, নি’হত ওয়াজিদ নারায়ণগঞ্জ শহরের বাংলা বাজার মুদি ব্যবসায়ী রুবেল মিয়ার ছে’লে। কাশিপুর উজির আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল ওয়াজিদ।

এর আগে গত রবিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের এক নম্বর বাবুরাইল এলাকায় চারতলা একটি ভবন ধসে পড়লে ওয়াজিদ চাপা পড়ে। ওই ঘটনায় এর আগে শোয়েব নামের এক স্কুলছাত্রের মৃ’ত্যু হয়। এতে গুরুতর আ’হত হয় ছয়জন।

ঘটনার দিন থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওয়াজিদের খোঁজে উ’দ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তবে দুদিনেও উ’দ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা অ’ভিযোগ করেন, প্রশাসন ও উ’দ্ধারকারী দল দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেয়ায় সময় বেশি লাগছে। ওয়াজিদের ভাগ্যে কী’ ঘটেছে, এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কা’টান পরিবারের সদস্যরা।

এরই মধ্যে আজ মঙ্গলবার সকালে অ’ত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও ড্রিল মেশিন দিয়ে ওই ভবনের দেয়াল কে’টে এবং সেচযন্ত্র দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে ওয়াজিদের ম’রদেহ উ’দ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন বলেন, চারতলা ভবন ধসে নি’খোঁজ ওয়াজিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে ছয়জন ডুবুরি অ’ভিযান চালান। দেয়াল কে’টে স্কুলছাত্রের ম’রদেহ উ’দ্ধার করা হয়।

এ সময় নি’হত ওয়াজিদের খালা রুনা বেগম বলেন, ‘বড় বোনের ছে’লে সোহায়ের ও মেজো বোনের ছে’লে ওয়াজিদ আমা’র ঘরে কোরআন শরিফ পড়ছিল। আমি কাজে রুম থেকে বাইরে বের হই। এ সময় দেখি আমাদের বিল্ডিং সিঁড়ি থেকে ফাঁকা হয়ে গেছে। তখন আমি চি’ৎকার দিয়ে বলি সোহায়ের, ওয়াজিদ তাড়াতাড়ি বাইরে আয়, আমাগো বিল্ডিং ভেঙে গেছে। আমা’র চি’ৎকারে ওয়াজিদ বাইরে চলে আসে, সোহায়ের তখনো কোরআন শরিফ পড়ছিল।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘বিল্ডিং হেলতে দেখে ওয়াজিদ কোরআন শরিফ আনতে দৌড় দিয়ে ঘরের ভেতরে যায়। সোহায়ের মনে করেছিল বিল্ডিং ভাঙবে না। তাদের বের হতে না দেখে আমিও দৌড় দেই। কিন্তু সিঁড়িতে এক পা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিল্ডিং ভেঙে পড়ে যায়। আমা’র গলা পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। এরপর কোথায় গেল তারা দুই ভাই, আর কোথায় গিয়ে পড়লাম আমি কিছুই বলতে পারব না। বিল্ডিং পুরোপুরি ভেঙে পড়ে গেলে আমা’র হাত ধরে কে যেন টান দেয়, তখন আমা’র জ্ঞান আসে। এরপর আমাকে উ’দ্ধার করা হলেও ওয়াজিদ ও সোহায়েরকে খুঁজে পাইনি আমি। এখন দেখছি দুজনের লা’শ আল্লাহ আমাকে উপহার দিয়েছেন।’

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares