বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

অনাচার নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী যেন অদম্য থাকেন

  • সময় শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৬৭০ বার পড়া হয়েছে

সম্পাদকীয়ঃ

গত একমাস ধরে শাসকদলের মূল সংগঠন এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দুর্নীতি আর অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ দখলের যে কাহিনী পত্র-পত্রিকায় এসেছে তা দেখে দেশের মানুষ হতভম্ব হয়েছে। লাখ লাখ টাকা পাচার হয়েছে সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতা হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের পত্রিকায় ফটো এসেছে। আমেরিকায় তার বাড়ির বাগান নিজহাতে পরিচর্যা করছে। এখন তার বয়স ৫০ বছর হবে অথচ সে নাকি প্রথম জীবনে হোটেলবয় ছিল। এত কম বয়সে রাজনীতি তাদের আকাশছোঁয়া ধনী করে দিয়েছে।

যুবলীগের ইসমাইল হোসেন সম্রাট নাকি লাখ লাখ ডলার নিজের সঙ্গে ক্যারি করে সিঙ্গাপুর নিয়ে যেত, ক্যাসিনো-ক্লাবে জুয়া খেলার জন্য। সম্রাট বলেছে শুধু যুবলীগের চেয়ারম্যানকে ১০ লাখ টাকা প্রতিমাসে দিতে হত। আরেক নেতা ঠিকাদার জি কে শামীম নাকি একচেটিয়াভাবে ঠিকাদারি ব্যবসা করার জন্য গণপূর্ত বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে দেড় হাজার কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে। শামীম আরও বলেছে সে নাকি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক মন্ত্রীকে টাকা দিত বস্তা ভরে। যারা অপরাধীকে ইন্টারোগেশন করেছেন তারা বলছেন আরও বহু লোকের নাম তাদের হাতে রয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করছেন না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেশ ক’টি বিদেশ সফর করতে হয়েছে এরই মধ্যে। তার জন্য হয়তো এতদিন পরিপূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেননি তিনি। এখন দেশে এসেছেন। আশা করি তিনি শুদ্ধি অভিযানের প্রতি মনোনিবেশ করে বিষয়টাকে জনকল্যাণের স্বার্থে এক চূড়ান্ত রূপ দেয়ার চেষ্টা করবেন। অবশ্য ২৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন চলমান এই শুদ্ধি অভিযান আইওয়াশ নয়।

সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ সিঙ্গাপুরে শুদ্ধি অভিযানের সময় এত কঠোর হয়েছিলেন যে তার এক মন্ত্রী শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছিলেন। আমরা আশা করি আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনুরূপ কঠোর হতে দ্বিধা করবেন না। তার আত্মীয়-স্বজনদের যাদের নামে বদনাম আছে তাদের বিষয়েও যদি সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাতেও তিনি পিছু হটবেন না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশটি গড়ে দিয়ে গেছেন কিছু লুটেরা, কিছু মাস্তানকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব আপনার পরিমণ্ডলের মধ্যে থেকে যারা বিপথগামী হয়েছে তাদের বিষয়ে যেন কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য না দেখান। সে যদি ওমর ফারুকের মতো আপনার আত্মীয় হয়, ছাড় দেয়া যাবে না।

একজন মাত্র সাহসী ব্যক্তি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমতুল্য। আপনি যখন সাহস করে অভিযান আরম্ভ করেছেন তখন এই পথের শেষ দেখা আপনার জন্য উত্তম হবে। আপনি প্রয়োজনে জনসভা করে মানুষের সমর্থন চান। কারণ কায়েমি স্বার্থ নানাভাবে এই উদ্যোগকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করবে। প্রদীপ জ্বালানোর আগে সলতে পাকানোর কৌশল ঠিক করতে হয়। এই কলুষিত অবস্থা থেকে নতুন সমাজ বের করতে হলে ধাত্রী শক্তি হতে হবে- ‘বল প্রয়োগ’।

দুদকের সচিব বলেছেন, তারা নাকি বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর সম্পৃক্ততা খুঁজে পাচ্ছেন না। আর বেসিক ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা কোথায় গিয়ে সম্পদে রূপ নিল তাও নাকি শনাক্ত করতে পারছেন না। অপরাধীদের ডিম থেরাপি দিলে সবকিছুই বের হয়ে যাবে। বেসিক ব্যাংকের ব্যাপারে মনে হয় আব্দুল কাহারের মতো তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এনে দায়িত্ব দিলে উত্তম হত।

অরাজকতা চতুর্দিক থেকে গ্রাস করলে তো রাষ্ট্র অচল হয়ে যাবে। যারা শহরের পথে পথে বসে হকারি করে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করেছে, তাদের থেকে চাঁদা তুলে যারা নিজেদের মাঝে বিলি-বণ্টন করে- সেসব আত্মমর্যাদাহীন রাজনীতিবিদদের কী দরকার রাজনীতিতে। এরা রাজনীতি করে মানুষের অকল্যাণে। তাদের ঝেঁটিয়ে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করা দরকার। রাজনীতিকে তারা ব্যবহার করছে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করে নিজেদের সুখবিলাস উপভোগ করতে। কী লজ্জার কথা!

এত কাহিনী পত্রিকায় আসার পরও দেখি সম্রাটকে আদালতে আনার পর কিছু লোক তার মুক্তির দাবিতে মিছিল করেছে। শহরের দেয়ালে পোস্টার পড়েছে। সম্রাট নাকি শমসের ডাকাতের মতো। ডাকাতি করে এনে সহকর্মীদের কিছু অংশ দিত। মিছিলকারীরা ফাও খাওয়া লোক। তাদের প্রতি প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। আরও একটা বিষয় উল্লেখ করতে হয়। থানায় থানায় ছোট ছোট সম্রাট সৃষ্টি হয়েছে। তাও নির্মূল করা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায়। সুতরাং তার জনপ্রিয়তায় ভাটা থাকার কথা। এ কথা অস্বীকার করার নয়। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাভাবিক নিয়ম থেকে আওয়ামী লীগ তার জনপ্রিয়তা হারিয়েছে বেশি। তার কারণ আওয়ামী লীগের কিছু সংখ্যক পদধারী নেতাকর্মীর অনাচার। সম্রাটের কাকরাইল মোড়ের বহুতল ভবনের অফিসটা তাদের কোনো ভাড়া দেয়া দালান না। দখল করা ভবন। আগাগোড়া তাদের দখলে। যার বিল্ডিং সে অসহায়। ভবনটি নাকি খাড়া দলিল সৃষ্টি করে সম্রাট নিয়ে নিতে চেয়েছিল।

সমাজ বানচাল হয়ে যায় ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অভাবে। ন্যায় যেমন রাষ্ট্রের ধর্ম তেমনি ব্যক্তি ও সমাজেরও ধর্ম। কাজে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যর্থ হলে সমাজে অনাচার সৃষ্টিকারীদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা হয়। আমাদের সমাজে তার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে তা থেকে হয়তো সমাজ মুক্তি পাবে। আশা করি অনাচার নির্মূলের ব্যাপারে তিনি অদম্য থাকবেন।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares