বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০২:১৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

প্রথমে দিদারের বিরুদ্ধে নিউজ করেছে “কক্সবাজর জার্নাল”: মামলা হল আলোকিত উখিয়ার বিরুদ্ধে কেন?

  • সময় বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৬৬৩ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্টঃ

গত ৭ জুলাই ২০১৯ কক্সবাজার জার্নাল থেকে প্রকাশিত “অর্ধ ডজন ডাকাতি মামলার আসামী ইয়াবা ডন দিদার এখন আওয়ামী নেতা!” শিরোনামের সংবাদটি দৈনিক আলোকিত উখিয়া কাষ্ট করে। দৈনিক আলোকিত উখিয়ার নিউজ পোর্টালে নিউজটি প্রকাশিত হলে কক্সবাজার জার্নালের রিপোর্টার রাশেল ০১৮১৯-৯৯১২৯৯ উক্ত নাম্বার থেকে দৈনিক আলোকিত উখিয়ার সম্পাদককে ফোন করে জানান, “অর্ধ ডজন ডাকাতি মামলার আসামী ইয়াবা ডন দিদার এখন আওয়ামী নেতা!” শিরোনামের নিউজটি সাংবাদিক আরফাতুল মজিদ প্রথম কক্সবাজার জার্নালে রিপোর্টটি করেছে। আপনার পোর্টালেও নিউজটি চলছে। দয়াকরে নিউজটি ডিলিট করুন। আমরাও ডিলিট করেছি। তিনি আরো বলেন, আমি সাংবাদিক জসিমকে ও বলেছি নিউজটা ডিলেট করতে। দৈনিক আলোকিত উখিয়ার সম্পাদক অফিসের বাইরের থাকার কারনে জসিমের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। উক্ত কথোপকতনের অডিও রের্কড সংযোক্ত করা হল। এখন প্রশ্ন হল নিউজটি প্রথম যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে দিদার মামলা না করে দৈনিক আলোকিত উখিয়ার সম্পাদকের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হল? অডিও বার্তায় যে সাংবাদিকদের নাম শুনা যাচ্ছে তাদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে আসল  বিষয়টি বের করার জন্য মামলা তদন্তকর্তাদের   অনুরোধ করছে দৈনিক আলোকিত উখিয়ার সম্পাদক।

(কক্সবাজার জার্নালে করা নিম্মে নিউজটি হুবহু তুলে ধরা হল)

অর্ধ ডজন ডাকাতি মামলার আসামী ইয়াবা ডন দিদার এখন আওয়ামী নেতা!

কক্সবাজারের খরুলিয়া দরগাহ এলাকার একসময়ের শীর্ষ ডাকাত দিদারুল আলম এখন ইয়াবা ডন হিসেবে আলোচনায় এসেছে। ইয়াবা ট্যাবলেটের ছোঁয়া পেয়েই এখন আলিশান জীবন যাপন এই ডাকাতের। দিদারের বিরুদ্ধে রয়েছে ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ প্রায় সাতটি মামলা। নিজের এসব অপকর্ম আড়াল করতে ইয়াবার টাকায় বনে গেছেন ‘আওয়ামী মটর চালক লীগ’ নামে একটি সংগঠনের জেলা সভাপতিও। নিজ এলাকা খরুলিয়া ছাড়াও টেকনাফ কক্সবাজার ঢাকা’য় তার বিচরণ রয়েছে ব্যাপক। কয়েক দিন পর পরেই বিমান যোগে ঢাকা আসা যাওয়া করেন এই মাদক কারবারি। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে নিজেকে অনেক সময় পরিবহণের মালিকও পরিচয় দেন তিনি। তবে তার অসংখ্য পরিবহণ রয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের কয়েকজন শীর্ষ মাদক কারবারির মধ্যে দিদারুল আলম অন্যতম বলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রে জানা গেছে। নিজেকে আওয়ামীলীগ দাবী করতে মাদক কারবারি দিদার এখন মুজিব কোট পরিধান করেন নিয়মিত। দিদার খরুলিয়া দরগাহ এলাকার মৃত দানু মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসীরা জানিয়েছে, দিদারুল আলম এক সময়ের শীর্ষ ডাকাত। দিদার ডাকাত খরুলিয়ার একটি আলোচিত নাম। তার বিরুদ্ধে অর্ধ ডজন ডাকাতি মামলাও রয়েছে। গত দু’বছর ধরে দিদার ডাকাতের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে এলাকায়। ডাকাতি কাজে অংশ না নিলেও এখন তিনি শীর্ষ ইয়াবা কারবারি হিসেবে পরিচিত এলাকায়। বাংলা বাজারের চান্দের পাড়া থেকে দ্বিতীয় বিয়ে করে এই মাদক কারবারির সাথে যুক্ত হন দিদার।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইয়াবার টাকায় দিদার এখন ৩টি ট্রাক (ডাম্পার) এর মালিক। রয়েছে দু’টি নোহা গাড়ি, দু’টি কার, কয়েকটি সিএনজি টেক্সী ও নামে বেনামে মোটর সাইকেল। তার ছেলেও নিয়মিত আলিশান মোটর সাইকেল হাকান। রয়েছে বিভিন্ন এলাকায় জমিও। এমনটি কক্সবাজার টেকনাফ লাইনে নামে বেনামে রয়েছে পরিবহনও। গত দেড় বছরে তার এসব পরিবহণ দৃশ্যমান বলেও অবগত রয়েছে স্থানীয়রা। তবে এসব পরিবহণের মালিক হওয়ার জন্য তার কোন দৃশ্য মান আয় ছিল না বলে জানান এলাকাবাসীরা।

সূত্রে আরো জানা গেছে, দিদারের এসব মাদক কারবারির হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করেন তার কার গাড়ির ড্রাইভার আবছার। আবছারের মাধ্যমে দিদার বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবার লেনদেনও করেন। মাসে কয়েক বার করে বিমান যোগে ঢাকায় যান দিদার। ঢাকা থেকে আসার সময়ে তিনি লাখ লাখ টাকাও নিয়ে আসেন বলেও জানা গেছে। এরমধ্যে অধিকাংশ টাকা তিনি টেকনাফও পৌঁছে দেন। অনেক সময় তিনি কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী বাস চালকদের মাধ্যমে টেকনাফে টাকা পৌঁছে দেন বলেও জানা গেছে। তার নিজ এলাকার খরুলিয়া দরগাহ’র বেশ কয়েকজন ড্রাইভার এসব ইয়াবার টাকা বিভিন্ন সময়ে টেকনাফ পৌঁছেও দেন।

এলাকার সূত্রে জানা গেছে, দিদার এখন এলাকায় ব্যাপক টাকা খরচ করেন। কোথাও কোন মানুষের আড্ডা বা বৈঠক হলে ওখানের সব টাকা তিনি বহন করে। টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হিসেবে নিজেকে সামনের কাতারে নিয়ে আসেন। তার এসব অপকর্ম আড়াল করতে বিভিন্ন জায়গায় তিনি ব্যাপক টাকাও বিলিয়ে দেন। এমনকি ইয়াবার টাকায় তিনি প্রথমে ‘আওয়ামী মটর চালক লীগ’ নামে একটি সংগঠনের জেলা সভাপতির দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তিনি বিপুল অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী মটর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক বলেও জানা গেছে। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে তিনি লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব  সংগঠনের নাম ব্যবহার করে যাচ্ছে। এমনকি তিনি নিজেকে আওয়ামীলীগ জাহির করতে প্রায় সময় মুজিব কোট পরিধান করেন। মুজিব কোট পড়েই তিনি অনেক জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে ফুলেল শুভেচ্ছাও বিনিময় করেন।

বৃহত্তর খরুলিয়ার এক জনপ্রতিনিধি জানান, দিদার একসময়ের শীর্ষ ডাকাত। এখনো তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি এলাকায় ইয়াবা কারবারিদের ডন হিসেবে পরিচিত। সবাই জানেন তিনি এখন ইয়াবা ব্যবসায়ী। বছর-দেড় বছরের মধ্যে ইয়াবার কারণে তার অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়েছে। এসব অপকর্ম আড়াল করতে এখন বড় আওয়ামীলীগ সেজে বসে আসে তিনি। নিয়মিত মুজিব কোট পড়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেও দেখা যায়। এসব মাদক কারবারিদের সমাজ থেকে দ্রুত সময়ে প্রতিরোধ করা দরকার। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যদি তাকে আটক করে তাহলে তার পুরো ইয়াবা সিন্ডিকেট নির্মুল করা সম্ভব।

কক্সবাজার সদর থানা সুত্রে  , খরুলিয়ার দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি মামলার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি বলেও তথ্য রয়েছে। পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এমনটি ও জানা গেছে। মাদক কারবাবিরা যতোই ক্ষমতাধর হোক না কেন; পুলিশ তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। অনেক সময় তারা আত্মগোপনে থাকায় আটক সম্ভব হয় না। তারপরও পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares