মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

কক্সবাজার ‘সমুদ্র সীমানা’র এক কিলোমিটারেই দখলদার ১৬৪ জন!

  • সময় রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্টঃ

কক্সবাজার সদর ভুমি অফিসের ২০১১ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার এলাকায় অবৈধ দখলদার রয়েছে ১৬৪ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। তালিকায় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, বনবিভাগের রেস্টহাউস, বিজিবি রেস্টহাউস, সেনাবাহিনীর রেস্ট হাউস, জেলা পরিষদের একটি মার্কেট ও একটি চেঞ্জিং রুম কাম রেস্ট হাউসসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির নাম। সমুদ্র সীমানা নির্ধারণের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। তবে কথিত সমুদ্র সীমানা জবর দখলকারী এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত ৮ বছরেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপরন্তু ট্যুরিস্ট পুলিশের সামনের ‘বীচ পার্ক’-এর জমিতে ১০ তলা বিশিষ্ট সার্কিট হাউস নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন কক্সবাজার-টেকনাফ ১২০ কি.মি সমুদ্র সৈকতের সীমানা নির্ধারণ ও সৈকতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আবেদন করে হাইকোর্টে রিট করে। এরই প্রেক্ষিতে ‘সমুদ্র সীমানা নির্ধারণ’ ও ‘অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ’ এর জন্য হাইকোর্ট কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক সদর ভ‚মি অফিসের মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর, বনবিভাগ, গণপূর্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভ‚মি বিভাগ ট্রেসম্যাপসহ এই প্রতিবেদন তৈরি করে বলে জানান তৎকালীন সদর ভ‚মি অফিসের সহকারি কমিশনার মো. নুর হোসেন।
তিনি জানান, প্রতিবেদনটি ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর সদর ভ‚মি অফিস থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে এই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে জেলা প্রশাসন উচ্চ আদালতে একটি প্রতিবেদন পাঠায়।

কক্সবাজার সদর ভ‚মি অফিসের প্রতিবেদন (স্মারক নং উ:ভ‚:অ/সদর/কক্স/২০১১-১৯২৩, তারিখ ৩০ অক্টোবর, ২০১১ সাল ) অনুযায়ী, ‘সমুদ্র সীমানা’ দখল করে গড়ে ওঠেছে ট্যুরিস্ট পুলিশের চারতলা বিশিষ্ট ভবন, জেলা পরিষদের দুতলা বিশিষ্ট মার্কেট ও চেঞ্জিং রুম কাম রেস্টহাউস, বনবিভাগ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর বহুতল বিশিষ্ট রেস্ট হাউস। এছাড়া টিনশেড মার্কেট তৈরি করে দখলদার আছেন শতাধিক। এ তালিকায় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা, জাতীয় পার্টি নেতা ও কোটিপতি জাসদ নেতার নাম রয়েছে।
এবিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হুমায়ূন কবীর বলেন, বনবিভাগের রেস্টহাউসটি প্রায় ৩ দশক আগে গড়ে ওঠেছে। ওই সময় সেরকম কোন নীতিমালা ছিল না। একই সময়ে বনবিভাগের পাশপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবির রেস্ট হাউস গড়ে ওঠে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য সমস্ত নিয়ম-নীতি মেনে এক যুগেরও বেশি সময় আগে ট্যুরিস্ট পুলিশের ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে শুনেছি। এর বেশি কিছু জানিনা।

এ প্রসঙ্গে লাবণী পয়েন্টস্থ ঝিনুক মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি কাশেম আলী বলেন, লাবণী পয়েন্টে ঝিনুক মার্কেট গড়ে ওঠে স্বাধীনতার পরপরই। পরে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে ঝিনুক মার্কেটের শতাধিক দোকান ও মসজিদ উচ্ছেদ করে সেখানে ‘বীচ পার্ক’ নামের একটি পার্ক গড়ে তোলা হয়। এসময় জেলা প্রশাসনের অনুমোদনেই এই পার্কের দক্ষিণ পাশে মাশরুম আকারে টিনশেড ঝিনুক মার্কেট তৈরি করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কিছুদিন আগেও বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে কিছু স্থাপনা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় সেসব প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares