সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ : জেলেদের অনিশ্চিত জীবন

  • সময় বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

আলোকিত রিপোর্টঃ

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যায়; জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পারব কিনা তারও নিশ্চয়তা থাকে না। কিন্তু করার তো কিছুই থাকে না, সংসার তো চালাতে হবে। তাই জীবনকে বাজি করে পরিবারকে একটু সুখে রাখার জন্য সাগরে মাছ শিকারে যায়। কিন্তু এখন তো ২২ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ কিভাবে চলবে পরিবার?”
৯ অক্টোবর থেকে ২২ দিন সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধের কারণে বাঁকখালী নদীর মোহনায় নোঙর করা আল্লাহ দান ট্রলারের জেলে পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল আজিজ এসব কথা এভাবে তুলে ধরেন প্রতিবেদকের কাছে।
তিনি বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে মাছ শিকার না করে উপকূলে ফিরে এসেছি। এখন ২২দিন বন্ধ রয়েছে কি করব, পরিবার কিভাবে চালবে। কিছুই বুঝতে পারছি, কারণ অন্য কোন কাজও করতে পারি না। আর জেলে কার্ড তো পায়নি। এলাকাতে যারা জেলে না তারাও কার্ড পেয়েছে কিন্তু মেম্বার-চেয়ারম্যানদের জন্য আমি নিবন্ধিত হতেও পারেনি, জেলে কার্ডও পায়নি। ফলে এই বন্ধে সরকারি কোন সহায়তা পাব না। এর আগে ৬৫ দিন বন্ধ থাকা অবস্থায়ও পায়নি। এখন ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে এই ২২ দিন অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হবে।”
শুধু নুরুল আজিজ নন; ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সাগরে মাছ শিকার বন্ধের কারণে কক্সবাজার বাঁকখালী নদীর মোহনায় ট্রলার নিয়ে ফিরেছেন হাজার হাজার জেলে। এসব জেলের অধিকাংশই নিবন্ধিত না হওয়ায় পাননি জেলে কার্ড। ফলে বন্ধের সময় পাবেন না তারা সরকারি খাদ্য সহায়তা। আর যাদের কাছে জেলে কার্ড আছে তারাও জনপ্রতিনিধিদের বন্টনে অনিয়মের কারণে সরকারি খাদ্য সহযোগিতা ঠিকমত পাননা বলে দাবি জেলেদের।
মহেশখালী কুতুবজোম এলাকার এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে আলী আকবর বলেন, “গত ২৫ বছর ধরে সাগরে শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু সাগরে মাছ শিকারে সরকারি বন্ধের সময় আজ অবধি কোন ধরণের সহায়তা পায়নি। তবে এলাকায় যারা জেলে না তারাই এই খাদ্য সহায়তাগুলো পেয়ে থাকে। আর মেম্বারদের বললে তারা সহায়তা আসবে বলে বলে নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে খেয়ে পেলে।”
একই ট্রলারের আরেক জেলে রশিদ আহমেদ বলেন, “ইলিশের প্রজনন মৌসুমের কারণে সরকার ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এখন বন্ধের কারণে বাড়িতে চলে যাবো, কিন্তু পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবো। এখনও পর্যন্ত জেলে হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারেনি; জেলে কার্ডও পায়নি। ফলে সরকারি খাদ্য সহায়তাও পাবো না। এখন কষ্ট করে সুদে টাকা নিয়ে কোন রকম চলতে হবে।”
এফবি কুলছুমার জেলে আব্দুল খালেক বলেন, “বন্ধের সময় সরকারি যে খাদ্য সহযোগিতাটা পাওয়া কথা সেটা অন্যরা খেয়ে পেলে যারা এলাকার মাতব্বর। জেলে কার্ড পেয়েছি এবছর হচ্ছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকারি সহায়তার ১ কেজি চালও পায়নি। এখন এই বন্ধের সময় বউ-বাচ্চাদের নিয়ে খাবো কি?”
এদিকে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সাগরের পাশাপাশি নদীতে মাছ ধরায় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। তাই ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরছেন কক্সবাজারের জেলেরা। মাছ ধরা বন্ধ থাকবে তাই নোঙর করা ট্রলারগুলোর জেলেদের চোখে মুখে দেখা গেছে দুশ্চিন্তার চাপ। কারণ কক্সবাজারের দেড় লক্ষাধিক জেলে থাকলেও এখনো নিবন্ধনের আওতায় আসেনি লক্ষাধিক জেলে। ফলে অনিবন্ধিত এসব জেলেদেরও নিবন্ধনের আওতায় এনে দ্রুত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য সমবায় সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, কক্সবাজারে প্রায় দেড় লক্ষাধিক জেলে রয়েছে। যারা সাগরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু এসব জেলেদের মধ্যে এখনো নিবন্ধনের আওতায় আসেনি লক্ষাধিক জেলে। ফলে সরকারি বন্ধের সময় এসব লক্ষাধিক জেলের পরিবার অনেক কষ্টে দিনযাপন করবে। তাই সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি; দ্রুত সময়ের এসব জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসার এবং সরকারি খাদ্য সহযোগিতা প্রদানের।
আর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ার কারণে জেলেদের অনুরোধ করছি যাতে কেউ সাগরে মাছ শিকারে না যায়। কেউ যদি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এই বন্ধের সময় নিবন্ধিত জেলেদের দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি খাদ্য সহযোগিতা দেয়া হবে। আর এখনো যারা নিবন্ধনের আওতায় আসেনি, তাদেরকে নিবন্ধন করার জন্য মৎস্য অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই আবারও বাদ পড়া জেলেদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করা হবে।
বিভিন্ন ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজারে প্রায় ছোট-বড় মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে ৭ হাজারের বেশি। আর এসব ট্রলারে করে সাগরে মাছ শিকার করেন দেড় লাখের বেশি জেলে।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares