সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:১০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দৈনিক আলোকিত উখিয়ার অনলাইন পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। আপনার চারপাশে চলমান অনিয়ম দুর্নীতির খবর আমাদের জানান। দেশকে বাচাঁন দেশকে ভালবাসুন

মাদকের করাল গ্রাসে সিদ্ধিরগঞ্জে ৫ নং ওয়ার্ড ধ্বংসের মুখে ছাত্র ও যুব সমাজ

  • সময় মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

এস.কে মাসুদ রানা:-
মাদকের করাল গ্রাসে সিদ্ধিরগঞ্জে ৫ নং ওয়ার্ড আর হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। মাদক করাল গ্রাসে আক্রান্ত হয়ে ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে তরুন, ছাত্র ও যুব সমাজ। আর এ মাদককে কেন্দ্র করে বাড়ছে ইভটিজিং, ছিনতাই, চুরিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড। পাশাপাশি পারিবালিক কলহ বাড়ছে। এসব মাদকাসক্তরা পরিবার ও সমাজের কাছে দিন দিন বোঝা হয়ে দাড়াচ্ছে।এদিকে মাঝে মধ্যে আইন শৃংখলা বাহিনী মাদক বিরোধী অভিযান চালালেও নিয়মিত না হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ হাট বসিয়ে মাদক বেচাকেনা করছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও মাদক ব্যবসায়ীরা তোয়াক্কা না করে তাদের এহেন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে।

একটি সূত্র জানায়, আইন শৃংখলা বাহিনী মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনার আগেই র‌্যাব পুলিশ ও ডিবির সোর্সরাই মাদক ব্যবসায়ীদের অভিযানে খরর পৌঁছে দেয়। ফলে অভিযানের সময় গা ঢাকা দেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। আর ওই সব সোর্সরাই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত।
নাম না প্রকাশের শর্তে এলাকাবাসী জানায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে গিয়ে নানাভাবে হয়রানি হতে হয়। সম্মিলিতভাবে এর প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হলেও নানা কারনে তা সম্ভব হয়ে উঠছেনা। তাদের দাবি নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে চিহ্নিত মাদক ববসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে এলাকার তরুন, ছাত্র ও যুব সমাজকে বাচাঁতে হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক যুগেরও বেশী সময় ধরে মরণ নেশা ইয়াবা-ফেন্সিডিল‘সহ নানা প্রকার মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ডজন মামলার আসামী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ আলী, মাদক ব্যবসা করে মদনপুর, শিমরাইলে একাধিক জমির প্লটের মালিক।
মাদক ব্যবসা করে ৫ তলা বিশাল বাড়ি নির্মাণ করেছেন এই ফেন্সি সম্রাট মোহাম্মাদ আলী। ফেন্সিডিলসহ কয়েকবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই জামিনে বের হয়ে এসে পুনরায় ফেন্সিডিল ব্যবসা শুরু করেছে। শুধু মোহাম্মাদ আলী একাই মাদকেরর সাথে জড়িত নয়, তার পরিবার পরিজন সবাই এই মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
সাইলো রোডের গেরেজ থেকে সাইলো গেট শীতলক্ষ্যা নদীর পরে দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রন করছে মাদক স¤্রাট টুন্ডা শাহিনের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী সোয়াদ। এলাকাবাসী জানায় সোয়াদের ১০/১২জনের একটি বাহিনি রয়েছে। সোয়াদের বাহিনির ২জন ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে চলে। এক জন বরিশাইল্লা খোকন, কখনো চায়ের দোকান, কখনো সোর্স, আসল রুপে মাদকের ডিলার ও রুহুলের ছেলে নয়ন, হারানো পুকুরপাড় নুরুদ্দিন মেম্বারের ছেলে জুয়েল, সাইলো গেট শীতলক্ষ্যা নদীর পরে দিয়ে মাসুদ, কাইল্লা লনি, কালবাট সোহেল, রোকসানার ছেলে সাদ্দাম, বুইট্টা ফালান, ইমন সহ তাদের ১০/১২ জনের সদস্য রয়েছে।
তারা কখনো হুন্ডার নিয়ে, রিক্সা গেরেজ থেকে রিক্সা নিয়ে ফোনের মাধ্যমে পাইকারী ও খুচরা ইয়াবা পৌছে দেয়। জানা যায় টুন্ডা শাহিন ও সাইলো গেট এলাকার মনির বর্তমানে জেল হাজতে। এলাকাবাসী জানায় চৌরাবাড়ির এখানে একটি রিক্সার গেরেজের বিতরে তাদের বাহিনি রয়েছে, কেউ জিজ্ঞাসা/কিছু জানতে চাইলে তারা রিক্সা চালক/রিক্সার গেরেজের লোক পরিচয় দেয়। তাদের সাথে একজন রিক্সা চালকও রয়েছে আদান-প্রধানের জন্য।
নাসিকের ৫নং ওয়ার্ড আজিবপুর রেল লাইন এলাকার মাদক ব্যবসায়ী কুট্টি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হলেও তার অন্যতম সহযোগী, একাধিক মাদক ও ডাকাতি মামলার আসামী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামেরে ছেলে পলাশ। মাদক স¤্রাজ্ঞী এলাকার চিহ্নিত একাদিক মামলার আসামি রোকসানার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মানিক। নুর ইসলামের ছেলে মাদক স¤্রাট হিরা। মোঃ নাছির মিয়ার ছেলে মাদক ব্যবসায়ী সাব্বির। মোঃ ইব্রহিম ইবু কখনো সোর্স কখনো মাদক ব্যবসাী।
বর্তমানে তাদের একটি সিন্ডিকেট রেল লাইন, ঠাকুরবাড়ী, মোঠবাড়ী আজিবপুর ও চিতাসার শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় এলাকায় জমজমাট মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সবাই থানা পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাব-১১ গ্রেফতার করেছিলো। বর্তমানে জামিনে এসে পুনরায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নতুন কৌশলে উঠতি বয়সী গরিব যুবকদের টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের নিয়ে গড়ে তুলেছে একটি মাদক সিন্ডিকেট।
সিন্ডিকেটে আলামিন, সোর্স সাগর, মেরাজুল, মেহেদী, ফালান, সুজন ওরফে ডিব্বা সুজন সহ ১৫/১৬ জনের সদস্য রয়েছে। তারা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর প্রতিটি মহল্লায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অভিনব কৌশলে সেবনকারীদের কাছে পাইকারী ও খুচরা ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে।
এতে স্থানীয়রা মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বলেন প্রশাসনের উদ্ধর্তন মহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এদের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবী করেন এলাকার সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামরুল ফারুক জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের পুলিশ সুপার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে আমাদেরকে সে মোতাবেক কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেভাবেই প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করছি।
যদি কেউ জামিনে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসা চালু করে তাহলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

Comments Below
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ
Shares